সাতদিনের শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম নগরী দখলে নিয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ী আর রিকশা। কলকারখানা খোলা থাকায় সকালে সাধারণ শ্রমিকদের পোহাতে হয়েছে নানা ভোগান্তি। চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি পয়েন্টে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট।
বুধবার রাতভর বৃষ্টি আর সকালের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের গুমোট আবহাওয়ায় এমনিতেই ঘর থেকে মানুষ বের হয়েছে কম। তারওপর কড়া লকডাউনে যারাই ঘর থেকে বের হয়েছে তাদেরকে পড়তে হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জেরার মুখে।
ব্যাংকসহ সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত বন্ধ থাকায় চাকুরীজীবীদের ঘর থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে জরুরী সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট বন্দর, কাস্টমস, গ্যাস, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট চাকুরীজীবীদের পড়তে হয়েছে গাড়ী বিড়ম্বনায়। ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলও না থাকায় কেবল রিকশাই সঙ্গী হয়েছে তাদের।কিন্তু সেই রিকশাও থামিয়ে যাত্রীর কাছে বের হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে পুলিশ। এসময় মাস্কবিহীন যাত্রী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মাস্কও বিতরণ করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যা ব ও আনসার মাঠে ভোর থেকে কাজ করছে। উপজেলাগুলোতে ইউএনও, এসি ল্যান্ড ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। অন্যদিকে মহানগরে জেলা প্রশাসনের ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৪ টিমে ভাগ হয়ে কাজ করছেন। এসব টিমের কোনটাতে বিজিবি আবার কোনটিতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য স্ট্র্যাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যবার সেনাবাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার না করলেও এবার ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠে আটক করার সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি সিএমপি ও জেলা পুলিশ ভিন্ন ভিন্ন টিমে টহলে থেকে সিনিয়র কর্মকর্তারা তদারকি করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিধিনিষেধ মানাতে সেনাবাহিনীর ৭টি টিম সকাল ৮টা থেকে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে মাঠে রয়েছে। তার রাত ৮টা পর্যন্ত টহলে থাকবে। শাহ আমনাত সেতু ও সিটি গেট চেকপোস্টে সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনী মোতায়ন থাকবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে নগরীর ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ পশ্চিমের উপ-কমিশনার ওয়ারিশ আহমেদ, ডবলমুরিং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন সকাল থেকেই চেকপোস্টে নজরদারি করছেন।
এসময় উপ-পুলিশ কমিশনার ওয়ারিশ আহমেদ বলেন, মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। প্রথমদিন থেকেই আমরা লকডাউন বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছি। মানুষকে মাস্ক বিতরণ, বের হওয়ার প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং একপ্রকার কাউন্সিলিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আজ যারা বিনা কারণে ঘর থেকে বের হয়েছে তাদের বের হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। যারা উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারেনি তাদেরকে দুই ঘন্টা আটকে রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রথমদিন হিসেবে আমরা কাউকে আটক দেখায়নি। সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এসময় আটকে থাকা কয়েকজনের কাছে তাদের বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে, কেউ সদুত্তর দিতে পারেনি।
Developed By Muktodhara Technology Limited