উভয় ডোজ টিকা গ্রহণকারীর কোভিডে আক্রান্তের হার ১ শতাংশের কম। টিকা গ্রহণকারী রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক -যা শতকরা ৯৬.৭ ভাগ ।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) কর্তৃক চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলে এ তথ্য উঠে আসে। সিভাসু ও চাঁদপুর কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ ল্যাবে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল থেকে ২২ জুন পর্যন্ত এ গবেষণা চালানো হয়। আজ সিভাসু’তে গবেষণার এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় এ দু’অঞ্চলে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকারী ও টিকা গ্রহণ না করা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের তুলনামূলক স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়ন করা হয়।
সিভাসু এর উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ এর নেতৃত্বে একদল গবেষক দীর্ঘ দুইমাস ধরে গবেষণা কার্য পরিচালনা করেন । গবেষণা দলের অন্য সদস্যরা হলেন প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী, ডাঃ মোহাম্মদ খালেদ মোশাররফ হোসেন, ডাঃ ইফতেখার আহমেদ রানা, ডাঃ ত্রিদীপ দাশ, ডাঃ প্রনেশ দত্ত, ডাঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ডাঃ তানভীর আহমদ নিজামী।
গবেষণায় বলা হয়, মোট ১২ হাজার ৯৩৬ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ২ হাজার ১৩৭ (১৬.৫২%) জনের শরীরে SARS-CoV-2 বা নোভেল করোনা ভাইরাস এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এসব কোভিড-১৯ পজিটিভ ব্যক্তিদের মধ্যে কন্টাক্ট ট্রেসিং এর মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৯৫ জনের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গবেষণায় বলা হয়, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯৬৮ জন কোভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে ৬৩ জন এমন ব্যক্তি পাওয়া যায়, যারা বিভিন্ন সময়ে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ডের শুধুমাত্র ১ম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন এবং ৬৪ জন ১ম ও ২য় উভয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন।
গবেষণায় বলা হয়, সংগৃহীত সমস্ত নমুনার মধ্যে ১ম ও ২য় ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের হার মোট নমুনা পরীক্ষার যথাক্রমে ০.৪৮ এবং ০.৪৯ শতাংশ- যা ১ শতাংশেরও কম।
গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, কোভিড-১৯ টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১৩৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। যেখানে ১ম ও ২য় ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে যথাক্রমে ৭ জন ও ৩ জন রোগী কে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত টিকা না নেওয়া রোগীদের ৮৩ জনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। তাদের মধ্যে ৭৯ জনের অতিরিক্ত অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা সর্বনিম্ন শতকরা ৭০ ভাগ দেখা যায়। অপরদিকে টিকা গ্রহণকারী রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক -যা শতকরা ৯৬.৭ ভাগ পাওয়া যায়। টিকা না নেওয়া হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে ৭ জনের আই সি ইউ সেবার প্রয়োজন হয়। অপরদিকে টিকা গ্রহণকারী রোগীদের কোন ধরণের আই সি ইউ সেবার প্রয়োজন হয়নি। টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সময়কাল সর্বোচ্চ ২০ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে। গবেষণায় পাওয়া যায়, যে সর্বমোট ১০ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে তারা কেউই ১ম ও ২য় ডোজ টিকা গ্রহণ করেননি। গবেষণায় আরো দেখা যায়, যে সমস্ত টিকা অগ্রহণকারী কোভিড-১৯ রোগী পূর্বে থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় (কো-মরবিডিটি) ভুগছিলেন তাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণের হার ছিলো ৭৬.৭ শতাংশ, টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে এ হার ১২ শতাংশ দেখা যায়।
এ সময় বলা হয়-সরকার যে টিকা বিনামূল্যে দিচ্ছে তা গ্রহণকারীদের পুনরায় করোনা আক্রান্তের হার নিন্মমুখী, মৃত্যুঝুঁকিও কম। টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশের সকল জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের প্রাথমিকভাবে টিকার আওতায় আনা গেলে করোনায় স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে । এ ধরনের উচ্চ গবেষণা বৃহৎ পরিসরে পরিচালনা করা হলে টিকা প্রয়োগের পরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসের বিশদ তথ্য পেতে সহায়ক হবে । এ তথ্য বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
Developed By Muktodhara Technology Limited