image

চট্টগ্রামে অফিস ও টিকা প্রত্যাশী উভয়েরই যন্ত্রণা

image

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী প্রবাসীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই ছুটিতে আসা কিংবা নতুন করে যেতে চাওয়া রেমিটেন্স যোদ্ধাদের টিকা প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষে মন্ত্রণালয় থেকে তাদের টিকার রেজিস্ট্রেশনের জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়গুলোতে ব্যবস্থা রেখেছে। কিন্তু সার্ভার জটিলতায় সে কার্যক্রম ব্যাহত হলে সারাদেশে সৃষ্টি হয় বিড়ম্বনা। বিড়ম্বনা ও জটিলতা কাটাতে মন্ত্রণালয়ের সিন্ধান্ত মোতাবেক চট্টগ্রামে রেজিস্ট্রেশনের ফি নেয়া হচ্ছে ম্যানুয়ালী।

চট্টগ্রাম জেলার বিদেশ গমনেচ্ছু প্রবাসী কর্মীদের জন্য নগরীর আগ্রাবাদস্থ সরকারী কারর্যনভবন-২, দশতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে শনিবার (৩জুলাই) গিয়ে দেখা যায় বিদেশগামীদের দীর্ঘ লাইন। বিকাশ, নগদ, রকেট ও শিউরক্যাশে ফি পরিশোধপূর্বক রেজিস্ট্রেশন করার কথা থাকলেও এদিন দেখা গেছে কার্যালয়ে ম্যানুয়ালি রশিদের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ফি গ্রহণ করছেন। ফলে মানি রিসিপ্ট লেখা, পাসপোর্ট নম্বর, ভিসা নম্বর লেখা, টাকা নেয়া, ভাংতি ফেরত দেয়া নেয়াসহ নানা কাজ সম্পাদনে অনেক সময় লাগছে একেকজনে কাছ থেকে ফি গ্রহণ করতে। এ অবস্থায় চরম উৎকন্ঠা আর শঙ্কার মধ্যে টিকা প্রত্যাশীদের লাইনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে করোনা টিকা দিতে এসে সামাজিক দূরত্ব না মেনে গাদাগাদি করে লাইনে দাড়িয়ে নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। জটিলতার কারণে এ দূর্ভোগ বলে দাবী বিদেশগামীদের। তারা বলছেন, সার্ভার টিক থাকলে এবং নিয়ম মাফিক রেজিস্ট্রেশন কাজ চললে এ ভীড় হতো না। 

সরকারী এ দফতরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী শুক্রবার (১জুলাই) এ নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু প্রথমদিনে এসেই রেজিস্ট্রেশন বিড়ম্বনায় ভোগান্তিতে পড়েছে প্রবাসগামী লোকজন। সরকারী ফি পরিশোধের জন্য নির্ধারিত বিকাশ, রকেট, নগদ, শিউর ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কোন মাধ্যমেই সারাদিন ফি পরিশোধ করা যায়নি। ফলে কঠোর লকডাউনে কষ্ট করে আসা বিপুল সংখ্যক টিকা প্রত্যাশীকে বিফল মনোরথে ফিরে যেতে হয়েছে।

প্রবাসী ও বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীগণ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস চট্টগ্রাম থেকে জানুয়ারি-জুন ২০২১ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন, তারা স্বাস্থ্য বিভাগের সুরক্ষা (www.surokka.gov.bd) অ্যাপসে নিবন্ধন করে টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। আর যে সকল প্রবাসী ও বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীগণ ২০২১ সালের পূর্বে বিদেশ গমনের জন্য জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস চট্টগ্রামে নিবন্ধন করেছেন, তাদেরকে সরাসরি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস চট্টগ্রামে এসে অথবা আমি প্রবাসী অ্যাপসে ঘরে বসে নিবন্ধন পূর্বক স্বাস্থ্য বিভাগের সুরক্ষা অ্যাপসে নিবন্ধন করে টিকা গ্রহণ করতে পারবে। এই আলোকে জনসমাগমের ভীড় এড়াতে কর্তৃপক্ষ উপজেলাওয়ারী আলাদা আলাদা রেজিস্ট্রেশন তারিখ নির্ধারণ করেছে। 

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় দিন (২/৩জুলাই) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকা। ৪জুলাই বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, আনোয়ারা উপজেলা। ৫জুলাই হাটহাজারী, রাউজান উপজেলা। ৬জুলাই রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ উপজেলা। ৭জুলাই ফটিকছড়ি, সীতাকুন্ড। ৮জুলাই সাতকানিয়া, সন্দ্বীপ উপজেলা। ৯জুলাই লোহাগাড়া, বাঁশখালী মীরসরাই উপজেলার রেজিস্ট্রেশন হবে। কিন্তু প্রথমদিনের বিড়ম্বনায় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরুই করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।ফলে ভোগান্তি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকেট সঙ্গে আনার নির্দেশনা দিয়ে এ শিডিউল ঘোষণা করেছিলো কর্তৃপক্ষ।কিন্তু রেজিস্ট্রেশনের প্রথম দাপ ফি পরিশোধও করা যায়নি। এমতাবস্থায় রেজিস্ট্রেশন নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদেশগামীদের মধ্যে একধরণের হতাশা পরিলক্ষিত হয়েছে। কেননা, অনেকের ছুটি শেষ কিংবা কাজে যোগদানের সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে কর্মহীন হয়ে দেশে ফেরত আসারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে কারো কারো মনে।

শনিবার (৩জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে মানুষের দীর্ঘ সারি। এ ভীড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের। তবে এদিন আগতদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে টাকা জমা নেয়া হচ্ছে বলে।

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, আমরা টিকা দেয়ার অথোরিটি নই। আমরা প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় ভিসা, পাসপোর্ট ও কাগজপত্র দেখে তাদের রেজিস্ট্রেশন করছি কেবলমাত্র। টিকা প্রত্যাশীদের মোবাইলে ম্যাসেজ’র মাধ্যমে টিকা প্রাপ্তির স্থান ও তারিখ সময় জানিয়ে দিবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, সার্ভার জটিলতায় বিদেশগামীরা তাদের ফি পরিশোধ করতে পারছেনা। মানুষের দূর্ভোগ ও কষ্ট লাঘবে আমরা এখন ম্যানুয়ালি রশিদের মাধ্যমে ফি জমা নিচ্ছি। সাথে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নেয়া হচ্ছে।সার্ভার ঠিক হলে আমরা এগুলো সুরক্ষা আ্যাপসে প্রত্যেকের নামে নামে এন্টি করে দিবো। এটা জটিল একটি কাজ।

তিনি আরও বলেন, আমরা শিডিউল করে দিয়েছি কোনদিন কোন এলাকার বিদেশগামীদের রেজিস্ট্রেশন হবে। তারপরও অন্য এলাকার লোকজনও চলে আসছে। আমাদের লোকবল ও ক্যাপাসিটির চেয়ে অনেক বেশি লোড নিতে হচ্ছে। আমরা চাই যারা আসছে সবাইকে সেবা দিতে।যেখানে আমরা দিনে ৫/৬শ মানুষকে সেবা দিতে পারবো সেখানে ১/২ হাজার মানুষ চলে আসলে একটু জটিলতাতো তৈরী হবেই।

মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, আমরা আপাতত কুয়েত ও সৌদি আরবগামীদের রেজিস্ট্রেশন নিচ্ছি।বাকীদেরটা মন্ত্রণালয়ের সিন্ধান্তের পরে জানানো হবে।

যারা ফি জমা দিচ্ছেন তাদেরকে আর আসতে হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদেরকে আর আসতে হবেনা। আমরা সুরক্ষা অ্যাপে এন্ট্রি দিলে স্ব স্ব মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে টিকার কেন্দ্র ও তারিখ জানানো হবে। ম্যাসেজ না পাওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে জমায়েত হয়ে টিকা পাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।