image

লোহাগাড়ার ভূমিহীন হুরাইন: খামারেই আহার, ফিরেছে জীবনের বাহার

image

দেশীয় পদ্ধতিতে গরু-ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ভূমিহীন নারী হুরাইন জান্নাত। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বার রাজঘাটা এলাকার বেলাল উদ্দিনের স্ত্রী। স্বামী, দুই ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে তার সাজানো গুছানো সংসার।

২০১৪ সালে চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেন। একই বছর বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর ভাবলেন কিছু একটা করতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথমে একটি গাভী পালন দিয়ে শুরু। গাভীটি দিনে ৩-৪ লিটার দুধ দেয়। পাড়া প্রতিবেশীদের ৬০ টাকা লিটার দরে সেই দুধ বিক্রি করেন। কিছুদিন পর স্বামীর পরামর্শে গবাদি পশু পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে দেশীয় জাতের গরু পালনের পাশাপাশি পরিত্যক্ত খাস দখলীয় জমিতে গড়ে তোলেন ছাগল, মুরগির খামার ও বিভিন্ন প্রজাতের গাছের বাগান।  

বর্তমানে তার খামারে ৯টি গাভী, ৯টি বাছুর ও ৬টি ষাঁড় রয়েছে। এসব গাভী থেকে প্রতিদিন সকাল ও বিকালে মিলে ২৭ লিটার দুধ পান। বিকালে বিভিন্ন বাড়িতে প্রতি লিটার ৬০ টাকা দরে দুধ বিক্রি করেন। পাশাপাশি রয়েছে ২৬টি ছাগল, ২হাজার মুরগি, ৯হাজার বনজ, ঔষধি ও ফলদ গাছের বাগান। সব ধরণের কাজে তাকে স্বামী, দুই ননদ ছমুদা বেগম ও ফারজানা ইয়াছমিন, ঝা ইসমত আরা বেগম, শাশুড়ি নুর জাহান সহযোগিতা করে থাকেন।

হুরাইন জান্নাত বলেন, আমাদের নিজস্ব কোন জমি নেই। খাস দখলীয় পরিত্যক্ত জমিতে খামার ও বাগান করেছি। দীর্ঘদিন ধরে সরকারী খাস দখলীয় জমিতে বসবাস করে আসছি। সম্প্রতি বন্দোবস্তীর জন্য আবেদন করেছি। জমিগুলো বন্দোবস্তী ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে খামারের পরিধি আরো বাড়ানো যেত। তার স্বপ্ন এই খামারটি বড় করার যাতে এলাকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। 

লোহাগাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আসাদুজ্জামান জানান, হুরাইনের খামারটি এলাকার নারীদে জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার খামারের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।