image

প্রবাসীদের করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশন লেজেগোবরে অবস্থা : চট্টগ্রামে বিক্ষোভ (ভিডিওসহ)

image

বিদেশগামী প্রবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টিকা প্রাপ্তির জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করেছে মন্ত্রণালয়।১জুলাই থেকে সারাদেশে এ কার্যক্রম শুরু হলেও সার্ভার জটিলতায় তা এগুনো যাচ্ছেনা বলে জনশক্তি অফিস ও টিকা প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন।ফলে টিকা গ্রহণের রেজিস্ট্রেশনের ভোগান্তিতে পড়ে রবিবার (৪জুলাই) সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে টিকা প্রত্যাশীরা বিক্ষোভ করেছেন। পরে ডবলমুরিং থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রথমদিন শুক্রবার (১জুলাই)কার্যক্রম শুরু হলেও মূলত সেদিন কোন কাজ হয়নি। টিকা প্রাপ্তির রেজিস্ট্রেশন করতে আসা প্রবাসীরা সেদিন ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছেন।সার্ভার জটিলতায় পড়ে কোন কাজ হয়নি প্রথমদিন। দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩জুলাই)চট্টগ্রামের জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে ক্যাশে রশিদ মূলে টাকা নিয়ে টিকা প্রত্যাশীদের কোন রকমে বিদায় করা হয়। কিন্তু ক্যাশে টাকা নিতে গিয়ে সময় লাগা ও লোকবল সংকটে শত শত বিদেশগামীকে সেবা দেয়া তাদের পক্ষে প্রায় অসাধ্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া অফিস কর্তৃপক্ষ যে টাকা নিয়েছেন সার্ভার ঠিক না হওয়ায় তারা সেটা এন্ট্রি দিতে পারেনি। যারা ফি জমা দিয়েছেন তারাও একধরণের শঙ্কায় পড়েছেন যে, তাদের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে কিনা। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে তাদের কাছে এসএমএস যাওয়ার কথা। ফলে রবিবার (৪জুলাই) আগের দিন ফি জমা দেওয়া প্রবাসী এবং নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে আসা প্রবাসীদের বিশাল জনসমাগমকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে জেলা অফিসের দায়্ত্বিশীলদের।

এদিকে এত মানুষের ম্যানুয়ালী ফি নেয়া সম্ভব নয় বলে তা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় শুরু হয় হইচই। অনলাইন এবং অফলাইন কোন মাধ্যমেই ফি নেয়া কিংবা রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম না চলায় শুরু হয় উত্তেজনা। এসময় টিকা প্রত্যাশী বিদেশগামীরা জেলা অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পরে চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে ব্রিফ করলে পরিস্থিতি অনুকূলে আসে। 

এসময় উপ পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, বিকাশ/নগদ/শিউরক্যাশ/রকেটে ফি জমা না দিয়ে কারো অফিসে আসার দরকার নাই। টাকা জমা দিয়েই তারপরে অফিসে এসে কাগজপত্র জমা দিতে হবে।ফি জমা দেয়ার পর কাগজপত্র পেলে সেটা আমরা সুরক্ষা অ্যাপসে এন্ট্রি দিতে পারবো এবং পরবর্তীতে আপনাদের কাছে টিকা প্রাপ্তির স্থান ও তারিখ এসএমএসের মাধ্যমে টিকা প্রদানে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিবে।

তিনি বলেন, সবাই এভাবে আসলে কাজও হবেনা, স্বাস্থ্যবিধি মানাও সম্ভব হবেনা। আমরা যে শিডিউল দিয়েছি, সে মোতাবেক আসলে সমস্যা হওয়ার কথা না।শুধুমাত্র কুয়েত এবং সৌদিগামী প্রবাসীদের রেজিস্ট্রেশন নেয়া হচ্ছে। এই দুই দেশ ছাড়া অন্যদের এসে ভীড় না করারও আহবান জানান এ কর্মকর্তা।

এসময় তিনি আরও বলেন, সারাদেশ থেকে একযোগে পেমেন্ট ও রেজিস্ট্রেশনের চেষ্টা চলছে তাই সার্ভার বিজি দেখায়। তিনি রাত ১২টার পর ফি পরিশোধের চেষ্টা করার জন্য পরামর্শ দেন। তাছাড়া ঘরে বসে আমি প্রবাসী অ্যাপ থেকেও রেজিস্ট্রেশন করা যায় বলে তিনি উপস্থিত প্রবাসীদের অভিহিত করেন।

উত্তেজিত প্রবাসীরা আগে ফি পরিশোধ না করে ‘আমি প্রবাসী‘ অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব নয় বলে জানালে, তিনি এটাকে কারিগরি ত্রুটি এবং ধৈর্য্য ধারণের পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা যেভাবে গাদাগাদি, ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাকি করে এখানে জড়ো হয়েছেন, সামাজিক দূরত্বের কথা ভুলে গেছেন তাতে করে করোনা টিকার রেজিস্ট্রেশন করতে এসেই সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি সবাইকে মাস্ক পড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহবান জানান।