image

টিকার রেজিস্ট্রেশন করতে এসে সংক্রমণের শঙ্কায় প্রবাসীরা

image

সারাদেশে লকডাউনের মধ্যেই বিদেশগামীদের করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চলছে। শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসগুলো এ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পাদন করছে। জেলা সদরগুলোতে অবস্থিত জনশক্তি অফিসে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে টিকা প্রত্যাশী প্রবাসীরা এ কঠোর লকডাউনে কিভাবে আসবেন সে চিন্তা বা পলিসি কর্তৃপক্ষের নেই। ফলে বিদেশের মতো দেশেও প্রবাসীরা একধরণের নিগৃহীত হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিমত। কঠোর লকডাউনে গনপরিবহন বন্ধ, খাবার হোটেল বন্ধ এ পরিস্থিতিতে তারা কিভাবে শহরে আসবেন আর কোথায় খাবেন এটা দেখার যেনো কেউ নেই।

সরেজমিনে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে গিয়ে দেখা গেছে লোকে লোকারণ্য। সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। শুক্রবার (২ জুলাই) শুরু হওয়া এ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সার্ভার জটিলতায় আটকে আছে। ফলে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৪/৫শ লোক জড়ো হওয়ার কথা সেখানে প্রতিদিন ১/২হাজার মানুষ এসে ভীড় করছেন। উদ্বিগ্ন এত মানুষের সামাজিক দূরত্ব আর স্বাস্থ্যবিধি কল্পনা করা অবান্তর বলেও তাদের টিকা প্রত্যাশীদের অভিমত।

এদিকে কঠোর লকডাউনে জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা থেকে শহরে আসতে তাদের চরম দূর্ভোগ ও বিপাকে পড়তে হয়েছে। তারপর সকালে আসলে সারাদিনেও ফেরত যাওয়া যায় না। এখানে না খেয়েই সারাদিন তাদের কাটাতে হয়। কেননা হোটেলগুলো তাদের বসে খেতে দিচ্ছেনা। বাসায় নিয়ে যেতে বলছেন কিন্তু এখানে তারা বাসা পাবেন কোথায়? এমন অমানবিক সিন্ধান্তে কিছুটা হতবাক ও নির্বাক দেশের এ রেমিটেন্স যোদ্ধারা।

সোমবার (৫জুলাই) রাউজান থেকে আসা কুয়েত প্রবাসী রহমত উল্ল্যাহ বলেন, লকডাউনে ভিসা, পাসপোর্ট, টিকেট দেখালে হয়তো আমাদের আসতে বাধা দিচ্ছেনা পুলিশ কিন্তু গাড়ীটা পাবো কই ? লকডাউনেতো গণপরিবহন বন্ধ। আমাদেরতো নিজস্ব ব্যক্তিগত গাড়ী নেই। তাইলে আমরা আসবো কিভাবে ? এটা সংশ্লিষ্ট দফতরের সাংঘর্ষিক কিংবা স্ববিরোধী সিন্ধান্ত নয় কি ? 

আরেক প্রবাসী বলেন, সরকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই ঘোষণা দিয়ে দিলো প্রবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশনের। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রেশন হবে সেটাও তারা ঠিক করেনি। প্রথমদিন থেকেই শুরু হওয়া সার্ভার জটিলতা এখনও কাটিয়ে ওঠেনি। তাইলে শুধু শুধু প্রবাসীদের কষ্ট দেয়ার মানে কী ? আসলে প্রবাসীরা দেশে ও প্রবাসে দুই জায়গাতেই অবহেলিত, নিগৃহীত। এসব রেমিটেন্স যোদ্ধা টোদ্ধা গালগপ্প কিংবা কথার কথা।

রতন নামে আরেক প্রবাসী বলেন, ভাই টাকা খরচ, কষ্ট এসব বাদ দিলাম, এখানেতো টাকা দিয়েও সেবা কিংবা খাবার কোনটাই মিলছেনা। হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে তারা বসতে দিচ্ছেনা। বলছেন, ‘নিয়ে যেতে হবে।‘ কিন্তু এখানে আমরা বাসা কই পাবো? অগত্যা পথে বসেই খাবার পর্ব সারতে হচ্ছে। পথ যেনো প্রবাসীদের আমরণ সঙ্গী।

লকডাউনের চরম এ দূর্ভোগের মধ্যে কেন প্রবাসীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া তা জানতে চাইলে অফিসের দায়িত্বশীলরা কোন মন্তব্য করতে নারাজ। তবে এটাকে মন্ত্রণালয়ের সিন্ধান্ত বলে তারা জানিয়েছেন।  বিদেশীদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই এ ব্যবস্থা নিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান ব্যুরো এমনটাই দাবী তাদের।