চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা দিন দিন করোনার হটস্পট হয়ে উঠলেও সাধারণ মানুষের মাঝে কোন সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় ও সতর্ক করলেও কারো মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছেনা। মাস্ক ছাড়া ঘুরাফেরা করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্বও মানছেনা কেউ। ফলে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৪ দিনে ১৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন
চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকীরা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাপিড এন্টিজেন কিটের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক পরীক্ষায় ১৫ জনের মধ্যে ১২ জন, একইদিন আরটিপিসিআর ল্যাবে পাঠানো ৫০ জনের নমুনার মধ্যে ১৫ জন, পরদিন গত ১১ জুলাই চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাপিড এন্টিজেন কিটের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক পরীক্ষায় ১৯
জনে ১২ জন এবং ১২ জুলাই ১৮ জনে ১১ জন, সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ৩১ জনের মধ্যে ১৭ জনসহ মোট ৬৭ জনের করোনা সনাক্ত হয়।
চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিন হোসাইন চৌধুরী বলেন, "বর্তমানে পুরো উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী হওয়ায় সরকার গত ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করলেও মানুষ ঘরে থাকছেনা। কারণে অকারণে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। ফলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা মানা খুবই জরুরী। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, জরুরী প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও মুখে মাস্ক এবং যথাযথ সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।"
তিনি বলেন, সরকার হতদরিদ্রদের জন্য বিনামুল্যে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করেছেন, সুতরাং করোনা উপসর্গ দেখা দিলে বিনামুল্যে করোনা টেস্ট করা যাবে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল সুত্রে আরো জানা যায়, এ পর্যন্ত চন্দনাইশে ২ হাজার ৪শ ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয় ৬০৪ জন। এরমধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৫০০ জন। বর্তমানে ৬ জন চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Developed By Muktodhara Technology Limited