আনোয়ারা উপজেলার রায়পুরের গহিরা এলাকার হেমন্ত জলদাস, বসন্ত জলদাস, শ্রীমন্ত জলদাসের পরিবার এলাকার প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মিথ্যা মামলা, হামলা এবং ফিশিং ট্রলার লুট ও ফাঁড় দখলের মাধ্যমে নিঃস্ব করে ফেলেছে পরিবার তিনটিকে। সন্ত্রাসী চক্রটির বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছে। ফলে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তিন সহোদরের সংখ্যালঘ্যু পরিবারটি।
২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন হেমন্ত জলদাস। হেমন্ত দাস বলেন, করোনার লকডাউনের সময় মানুষ যখন ঘরের মধ্যে থাকছে, তখন একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে আমরা তিন ভাইয়ের পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এলাকার চেয়ারম্যান জানে আলমের সন্ত্রাসী বাহিনীর আব্দুর রহীম, মো. ফজল, দেলোয়ার, পারভেজ, মহিউদ্দিন,রাম হরি, জসিম উদ্দিন, গোলক চন্দ্র, জলে আহমদ দীর্ঘ দিন ধরে আমাদেরকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে। তারা জায়গাগুলো তাদের কাছে বিক্রি করে দিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছেন।
হেমন্ত দাশ বলেন, আমরা বসতবাড়ি ছেড়ে দিলে যাব কোথায়। বসতভিটা ছেড়ে না দেওয়ায় ২০১৫ সালের ২১ জুন, ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ, ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর আমাদের পরিবারের উপর বিভিন্ন দফায় হামলা করে। এতে আমাদের তিন ভাইয়ের পরিবারের লোকজন মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনাগুলোতে মামলা হলে সন্ত্রাসীচক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদেরকে হামলা করে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। আমাদেরকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলছে।
সংবাদ সম্মেলনে হেমন্ত দাসের ভাই বসন্ত জলদাস বলেন, প্রভাবশালী চক্রটি বসতভিটা দখলে ব্যর্থ হয়ে সম্প্রতি আমাদেরকে মারধর করে। তাদের মারধর থেকে বাদ পড়েনি আমার বৃদ্ধ মা লতিফা জলদাসসহ শিশুরাও। তিনি বলেন, তারা আমাদের পরিবারের ১৩টি জালের ফাঁড়, ১৪টি টং জালসহ একটি ফিশিং ট্রলার ছিনিয়ে নেয়। এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রয়ারি আদালতে মামলা হয়। মামলার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার না করে উল্টো আসামিদের সহযোগিতা করছে। মামলায় সাক্ষী না দেওয়ার জন্য আসামিরা হুমকি দিচ্ছে।
হেমন্ত জল দাসের মা বলেন,আমার সন্তানদের ভিটেবাড়ি ছাড়াতে সন্ত্রাসীচক্রটি মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আমার সন্তান ২১/০৭/২০২০ তারিখে জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। এর পরের মাসে আমাদের উপর হামলার আসামি রামহরি দাসের স্ত্রী পূর্ণিমা দাস আমার সন্তান হেমন্ত জলদাসের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আমার সন্তানকে গ্রেফতার করে নানা হয়রানি করে।
তিনি বলেন, আমরা এখন অসহায়। মিথ্যা মামলা, হামলা, জলের ফাঁড় ও ট্রলার লুট করে আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন শেষ করে দিয়েছে। আমাদের বসতঘর ছাড়তে সন্ত্রাসীচক্রটি হুমকি দিচ্ছে। অন্যথায় বাঁশখালীর সংখ্যালঘ্যু পরিবারের ১১ জনকে যেভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে সেভাবে হত্যার করা হবে। তিনি বলেন, আমার সন্তানরা ভয়ে এলাকায় যেতে পারছে না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
Developed By Muktodhara Technology Limited