image

সিভাসু ও বিসিএসআইআর এর গবেষণা : চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯৩ ভাগ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

image

চট্টগ্রাম অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ৯৩ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা আক্রান্ত। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ^বিদ্যালয় (সিভাসু) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এর যৌথ গবেষণায় এ ফলাফল উঠে এসেছে। আজ গবেষণার এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। 
  
জুন জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ দ্রæত বাড়তে থাকে। প্রথমে সীমান্তবর্তী জেলা ও পরবর্তীতে ঢাকা অঞ্চলের নমুনায় দেখা যায়, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারনে এ ঢেউ শুরু হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভাইরাসের কোন ভ্যারিয়েন্ট এ ঢেউয়ের জন্য দায়ী, তার সঠিক চিত্র ছিলনা। যদিও ইতিপূর্বে ২/৩টি নমুনায় এ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে মর্মে রিপোর্ট রয়েছে। 

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ^বিদ্যালয় (সিভাসু) এর  উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ এর সার্বিক নির্দেশনায় এবং পোল্ট্রি রিসার্চ ও ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) সিভাসু এর আর্থিক সহায়তায় সিভাসুর একদল গবেষক কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মুল্যায়ন বিষয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গবেষণা দলে রয়েছেন প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ^াষ, প্রফেসর ড.শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদিপ দাশ, ডা. প্রনেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডা. তানভির আহমদ নিজামী।

 এ গবেষণা কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে ১লা থেকে ১৯ জুলাই ২০২১ এর মধ্যে সংগৃহীত ৩০টি নমুনা থেকে ঝঅজঝ-ঈঙঠ-২ বা নোভেল করোনা ভাইরাস এর পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স (ডযড়ষব এবহড়সব ঝবয়ঁবহপব) বা জীবন রহস্য উম্মোচন করার জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। বিসিএসআইআর এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সেলিম খান এবং উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোরশেদ হাসান সরকার এ গবেষণায় অংশ গ্রহন করেন। 

জিনোম সিকোয়েন্সের ফলাফলে দেখা যায় ত্রিশটি নমুনার মধ্যে ২৮টিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ই.১৬১৭.২) এর উপস্থিতি নির্দেশ করে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণ হচ্ছে শতকরা ৯৩ ভাগ যা অতি উচ্চ সংক্রমণশীল। অবশিষ্ট দুটি নমুনার মধ্যে একটি আলফা ভ্যারিযেন্ট  (ইউকে ভ্যারিযেন্ট) এবং অপরটিতে খরহবধমব অ শনাক্ত হয়েছে যা ডঁযধহ/ডঐঙ৪/২০২০ সিকোয়েন্সের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা যায়। সাথে বিভিন্ন বয়সের আক্রান্ত রোগী থেকে নমুনাগুলি সংগৃহীত ছিল এবং ১৫টি নমুনা ছিল এমন রোগীদের, যাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিলো। 

এর আগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলফা (ইউকে ভ্যারিয়েন্ট) ও বিটা (সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিযেন্ট) ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছিল। যদিও আলফা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি এখনো আছে তবে তার শতকরা হার খুবই কম। ত্রিশটি নমুনার ১৫টি সিটি কর্পোরেশন এলাকার রোগীর এবং বাকি ১৫টি বিভিন্ন উপজেলার রোগীদের থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত ফলাফল নির্র্দেশ করে, শহর ও গ্রামাঞ্চলে সম্ভবত সমভাবে এ ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে। নমুনাগুলি ১২ জন পুরষ ও ১৮ জন নারী থেকে সংগৃহীত। ৩০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স এর তথ্য পাবলিক ডাটাবেইজ এওঝঅওউ এ জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও সিভাসুর উদ্যোগে ২২টি নমুনা থেকে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছিল।