image

আইসিসি আম্পায়ারিং থেকে সফল খামারি চট্টগ্রামের রবিউল

image

বলছি চট্টগ্রামের ছেলে আই.সি.সি এর প্যানেলভুক্ত আম্পায়ার রবিউল হক চৌধুরীর কথা। দেশ ছেড়ে আরব আমিরাতে পারি জমিয়েছিলেন জীবিকার তাগিদে। কিন্তু স্বভাবজাত নেশাকে ভুলতে পারেননি। নেশাটি ছিলো ক্রিকেট আম্পায়ারিং।

জীবিকার পাশাপাশি আরব আমিরাতে গিয়েও শুরু করেন ক্লাব ক্রিকেটের আম্পায়ারিং। ১৬ বছরের দুঃখ দুর্দশা ও ত্যাগ স্বীকারের পর ২০১৬ সালে আরব আমিরাতের টপ আম্পায়ার হয়ে আইসিসি এর প্যানেলভুক্ত হন।

কিন্তু বিধিবাম! ২০১৮ সালের প্রথম দিকে শারীরিক অসুস্থতায় উচ্চ চিকিৎসার জন্য চেন্নাই গেলে জানতে পারেন জন্মগত ভাবেই ব্রেইন এর একটি অংশ স্পাইনাল কডে কম্প্রোমাইজড হয়ে আছে। সুতরাং পরবর্তী ২-৩ বছরে জটিল এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকবার ডাক্তারের ছুরি কাচির নিচে যেতে হয় তাকে। দুঃখজনক হলেও সত্যি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠে ফেরা হয়নি এখন পর্যন্ত। কিন্তু তাই বলে কি দমে যাবেন এই সম্ভাবনাময়ি মানুষটি? না.. 

ক্রিকেট পাগল এই মানুষটার আরেক পাগলামি পশু প্রেম আর ষাড় গরু লালন পালন, তাই বসে না থেকে নেমে পরলেন খামার নিয়ে। তবে একজন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আম্পায়ার এর খামারি হয়ে ওঠা দেখে লোকমুখে বিভিন্ন কথার ছড়াছড়ি শুরু হলো। পাগল, উম্মাদসহ শত শত ভৎসনার স্বীকার হয়ে নিজেকে হারাতে হারাতে আবার সামলে নিলেন। শক্ত করে যে হাল ধরা শিখেছিলেন তাতো এতো সহজে ছাড়া যায়না, তাই এখনো ধরে আছেন জীবনের হাল।

তিনি বিশ্বাস করেন আপনি যেইই হননা কেন, পৃথিবীর যেকোনো ব্যবসা বা উদ্যোগ আপনি নিতেই পারেন, এতে লজ্জার কিছু কিছু নেই। যার বলার সে বলবেই, তবে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে যেকোন মূল্যে। এত কিছুর পরেও, তিনি ভুলে যাননি তার সামাজিক দায়িত্ববোধ। এই কভিড ১৯ পরিস্থিতিতে নিজের খামারের পক্ষ থেকে খাবার নিয়ে গরীব দুখিদের পাশে দাড়িয়েছেন এই মানবিক মানুষটি। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মানুষের কথা ভেবে, মানুষের জন্য এই কোরবানকে সহজ করতে তার ব্যবসায়ীক কৌশলে এনেছেন ভিন্নতা।

তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ মানুষেরই জন্য, এবং যার যার অবস্থান হতে একে অন্যের পাশে দাড়ানোর এটাই সর্বোত্তম সময়। আর এভাবেই আম্পায়ার রবিউল হক চৌধুরী জীবনের সব বাধাগুলো এড়িয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের জীবন ও তার প্রতিষ্ঠিত খামার আরবিস এগ্রোকে। সবশেষে সকলকে নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় অবস্থিত আরবিস এগ্রোতে এসে তার আইসিসি টু খামারি হওয়ার এই যাত্রার একজন অংশীদার হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।