image

‍গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাঁশখালী গন্ডামারার পুরুষদের চোখে ঘুম নেই

image

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গন্ডামারা কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিকদের নৈতিক দাবি নিয়ে আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সাথে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনায় আরও ২ জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মুহাম্মদ শিমুল আহমদ (২৩) ও রাজেউল ইসলাম (২৫) নামের আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা যায়। এর আগে শনিবার (১৭ এপ্রিল) গন্ডামারা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন চলাকালীন পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন মারা গেছেন। সর্বশেষ বুধবার দুইজনের মৃত্যু হওয়ায় এ সংখ্যা ৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (২১ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাত দেড়টায় রাজেউল ইসলাম ও বুধবার দিবাগত রাতে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শীমুল আহমদ মারা যান।
 
নিহত মুহাম্মদ শিমুল (২৩),সে সিলেটের মৌলভী বাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আব্দুল মালেকের ছেলে। আর নিহত রাজিউল ইসলাম (২৫) দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার বেতদিঘি গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে বলে জানা যায়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাঁশখালী থানার ওসি তদন্ত আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিমুল আহমদ। অন্যদিকে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে বুধবার রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রাজেউল ইসলাম।

তাছাড়া মৃত্যুও বিষয়টি আরো নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া।

উল্লেখ্য, কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় মারা যাওয়া অপর পাঁচজন শ্রমিক হলেন- মাহমুদ রেজা মিনহান (১৭), মুহাম্মদ রায়হান (২০), মুহাম্মদ রাহাত (২৩), মুহাম্মদ শুভ এবং (২৪), মুহাম্মদ রনি হোসেন (২২)। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে এস.আলম কতৃপক্ষ আপরটি দায়ের করেছে বাঁশখালী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দু'টি আলাদা তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

এদিকে পৃথক দুটি মামলায় গন্ডামারার নিরীহ্ বেশ কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে বলে দাবি সাধারণ জনতার। তবে, ঘটনার সাথে জড়িতদের কারো নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। পৃথক দু'টি মামলায় সাড়ে ৩ হাজার লোকদের আসামী করে মামলা দায়ের করা হলে গন্ডামারা এলাকায় গ্রেপ্তার আতংকে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

তাছাড়া গতকাল প্রকল্প কতৃপক্ষ মাইকিং করে কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে মালামাল লুটপাট কারীদেরকে যথাসময়ে মালামাল ফিরিয়ে দিতে আহ্বান করা হয়েছে বলে জানা যায়।