image

আজ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬ ইং

অবশেষে ঠিকানা ভাসানচর

এক সপ্তাহ চলবে স্থানান্তর কার্যক্রম : প্রথমদিনেই ২২হাজার রোহিঙ্গার যাত্রা

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    |    ২৩:৩৪, ডিসেম্বর ৩, ২০২০

image

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত ৩৪টি ক্যাম্পে থেকে স্ব-ইচ্ছায় ভাসানচরে যেতে আগ্রহী হওয়ায় স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই ৬শ পরিবারের ২ হাজার ৫শ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নেওয়ার কথা রয়েছে।আজ শুক্রবার আরো সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নেওয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে সুত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়া কলেজ মাঠের অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে প্রথম পর্যায়ে ১০টি বাসে করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুপুর ২ টার দিকে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ১২ টি বাসে করে রোহিঙ্গাদের ভাসানচর উদ্দ্যেশে ব্যাপক আইনশৃংখলা বাহিনী নিরাপত্তা মধ্যে দিয়ে নিয়ে যায়।  ১০টি বাসের বহরে ১টি এ্যাম্বুলেন্স ও ১টি করে আইনশৃংখলা বাহিনীর গাড়ী রযেছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে তাদেরকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৪টি জাহাজ। 

ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের প্রথমে স্ব-স্ব ক্যাম্প থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে  উখিয়া কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাবু ও বুথ তৈরি করে তাদেরকে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। পরে তাদের ডাটাএন্ট্রি করে বাসে তোলা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বহনের জন্য শতাধিক বাস এবং ৪০টি মালাবাহী কাভার্ড ভ্যান এবং ট্রাক গাড়ী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ১৩ পরিবারের ৫৬জন। বালুখালী পানবাজার ক্যাম্প থেকে ২৩ পরিবারের ১১০জন। শামলাপুর ক্যাম্পের ৫ পরিবারের ২৭জন। কুতুপালং ক্যাম্প থেকে ৯ পরিবারের ৪৫জন। নয়াপাড়া ২ পরিবারের ১০জন। এ পর্যন্ত ৫২ পরিবারের ২৪৮জনসহ প্রায় ১ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নেওয়া হয়।

এদের মধ্যে ২৩নং ক্যাম্পের মাঝি আবুল হাশেম বলেন, ভাসানচরে যাওয়ার জন্য কোন ধরনের জোর দেয়া হচ্ছে না। যারা স্বেচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক তাদের নেওয়া হচ্ছে ভাসানচরে।

মিজান নামে এক যুবক জানিয়েছেন, বুধবার রাত থেকে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে উখিয়া কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদেরকে নাস্তা ও খাবার পরিবেশন শেষে বাসে তোলা হয়। তার ধারণা প্রতিটি বাসে ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কতো পরিবার রোহিঙ্গা ভাসানচর যাচ্ছে তার কোন সঠিক তথ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কেউ এ পর্যন্ত মুখ খুলেনি। কাছে ভিড়তে দেয়া হচ্ছে না গণমাধ্যমকর্মীদের। তবে রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক আয়োজন ও নিরাপত্তা বেষ্টনী দৃশ্যটি চোখে পড়ার মতো।

এর আগে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম ঘিরে বঙ্গোপসাগরের এ দ্বীপ ঘুরে আসেন ২২টি এনজিও প্রতিনিধি দল। 

প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূমি থেকে চার ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে শেল্টার হোম। রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি এই অস্থায়ী আবাসস্থল এখন শহরে পরিণত হয়েছে।

সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’র চেয়ারপার্সন জেসমিন প্রেমা জানান, শুধুমাত্র আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নেওয়ার কাজ করছে সরকার এবং ২২টি উন্নয়ন সংস্থা। তাদের স্থানান্তরের জন্য অর্গানাইজড হয়ে কাজ করছে সরকার। এসব রোহিঙ্গাদের জাহাজে উঠার পূর্বে বিভিন্ন ডাটা এন্ট্রি সাপেক্ষে বরাদ্ধকৃত আশ্রায়ণের টোকেন ও চাবি হস্তান্তর করা হবে তিনি জানান। 

তিনি জানান, দ্বীপটি বাসস্থানের উপযোগী করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বনায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক বাসস্থান ছাড়াও বেসামরিক প্রশাসনের ও আবাসিক ভবন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ভবন, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠ গড়ে তোলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য সেখানে মহিষ, ভেড়া, হাঁস, কবুতর পালন করা হচ্ছে। আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষও করা হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে যেন এক লাখ এক হাজার ৩৬০ জন শরণার্থী বসবাস করতে পারেন সে লক্ষ্যে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। ১২০টি গুচ্ছগ্রামে ঘরের সংখ্যা এক হাজার ৪৪০টি।

রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবায় দুটি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। 

এদিকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানাস্তর কার্যক্রম বন্ধের আহবান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল। অপরদিকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে অবগত থাকলেও তাদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সঙ্গে সংস্থাটিকে যুক্ত করা হয়নি বলে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।   

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পরবর্তী মিয়ানমারে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় ১০লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়।


প্রথম দফায় ভাসানচর যাচ্ছে ৬শ রোহিঙ্গা পরিবার : প্রস্তুতি সম্পন্ন


image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

২৩:৫৩, জুন ১৪, ২০২২

রোহিঙ্গা মাঝি আজিম হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড আনাস গ্রেফতার


Los Angeles

২৩:১৯, জুন ১১, ২০২২

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুবকের মরদেহ উদ্ধার


Los Angeles

১৩:৫২, মে ৩১, ২০২২

উখিয়ায় অপহৃত রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার


Los Angeles

২৩:৪৯, মে ২৯, ২০২২

উখিয়ায় তিন হাসপাতাল ক্লিনিকের কপাট হলো বন্ধ, প্রশাসন থাকবেনা আর অন্ধ


Los Angeles

০০:৪২, মে ১৫, ২০২২

উখিয়ায় জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ রোহিঙ্গা গ্রেফতার


Los Angeles

১৫:৪৩, মে ১৪, ২০২২

ভারত থেকে পালিয়ে আসা ৬ রোহিঙ্গা আটক


Los Angeles

১৪:০৩, মে ১৪, ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পন্য মজুদের অভিযোগ গ্রেফতার-২


Los Angeles

০০:৩৭, মে ১৪, ২০২২

ঘুমধুমে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২


image
image