শিরোনাম
এস এম শাহেদ হোসাইন ছোটন, বোয়ালখালী প্রতিনিধিঃ | ১৬:৩৫, মে ২৪, ২০২১
চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইকবাল পার্ক বোয়ালখালী ইউনিয়ন স্বাস্হ্য কেন্দ্রটি ১৯৫৯ সালে হাজীরহাট ইকবাল পার্ক দিঘীর পাড়ে সরকারি একোয়ার ভুক্ত এক একর ১৪ শতক ভূমি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে পদও আছে কিন্তু ডাক্তার নেই। রোগী থাকলেও আবার সেবা নেই।ডাক্তার অনুপস্হিতি গাফিলতির কারণে কাঙ্কিত সেবা পাচ্ছেন না স্হানীয় সাধারণ মানুষ ও শিশুরা। সপ্তাহে সাত দিন কেন্দ্রটি খোলার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না । বেশির ভাগ কেন্দ্রটিতে তালা ঝুলছে।এভাবেই চলছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা হাজীরহাট এলাকায় অবস্হিত বোয়ালখালী ইকবাল পার্ক ইউনিয়ন স্বাস্হ্য কেন্দ্র।
রবিবার( ২৪ মে) সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়,কেন্দ্রটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে।
এ কেন্দ্রে কাগজে-কলমে ৫ টি পদ রয়েছে।মেডিকেল অফিসার পদে ১জন,উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার পদে১জন, ফার্মাসিস্ট পদে ১জন,মিডওয়াইফ পদে ১জন ও অফিস সহায়ক পদে ১জন থাকলেও বর্তমানে সবগুলো পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূণ্য রয়েছে। এছাড়া ভবনটিতে ৬টি কক্ষ থাকলেও ৩ টি কক্ষ দখল করে আছে অনুমোদনহীন হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল।
জানা যায়,প্রয়াত সংসদ আলহাজ্ব জনাব মঈন উদ্দিন খান বাদলের সহযোগিতায় ও মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে বোয়ালখালী ইউনিয়ন স্বাস্হ্য কেন্দ্রের ১টি কক্ষে হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল স্হাপন করেন চীফ অফিসার লোকমান। পরে লোকমান আরো ২টি কক্ষ দখল করে হোমিও চিকিৎসা পরিচালনা করেন। স্হানীয়রা বলেন লোকমান হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল স্হাপন করার পর থেকে অনেক অনিয়ম ও দূর্নীতি করে উক্ত ইউনিয়ন স্বাস্হ্য কেন্দ্র এলাকায় সমলোচনা সৃষ্টি করে।সে অনুমোদনহীন ডায়াবেটিস ,হিমোগ্লাবিন,কোলেস্টেরল পরীক্ষার নামে বিভিন্ন মূল্যের ফি আদায় করত সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে। অভিযোগ আছে,লোকমান বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস যেমন ডেঙ্গু ,চিকুনগুনিয়া এমনকি করোনাভাইরাস রোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকার ব্যানার ,পেষ্টুন তালিকা দিয়ে এসব ভাইরাসের নামে ভূয়া ঔষধ দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করত। জানা যায়,লোকমান বোয়ালখালীর বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীর মাঝে এসব ভূয়া ঔষধ বিতরণ করত।তার অনিয়ম ও দূর্নীতি প্রসঙ্গে স্হানীয় এলাকাবাসী গত ২৭ডিসেম্বর ২০২০ইং তারিখে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করার জন্য বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর সহ লিখিত আবেদন করেছিলেন।
স্বাস্হ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,আমাদের এখানে এসে তালা দেখে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে যেতে হয়।ডাক্তার ও অফিস সহায়ক কখন আসে কখন যায় আমরা জানি না। আগের মতো চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ পাচ্ছি না।যখন আসি তখন বন্ধ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত ডাক্তার ও ওষুধ পাওয়া যায় না স্বাস্হ্য কেন্দ্রে আসলে ।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা আর সচেতন মানুষের নীরবতায় অনেকটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবাটুকু যেনো কোনমতে টেনে টুনে চলছে। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাশন যদি একটু নজর দেয় তাহলে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হতে পারে।
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জিল্লুর রহমান বলেন,জনবলের অভাবে কাঙ্কিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।বোয়ালখালীতে হঠাৎ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়ন স্বাস্হ্য কেন্দ্রগুলো থেকে জনবল এনে বোয়ালখালী হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হচ্ছে।তিনি বলেন জনবল চেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।যেখানে পদ নেই,সেখানে পদ সৃষ্টি করে এবং শূন্যপদগুলো পূরণের উদ্যােগ নেওয়া হচ্ছে।প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে চলমান সঙ্কট কেটে যাবে বলেও জানান তিনি।
Developed By Muktodhara Technology Limited