শিরোনাম
মোঃ কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ প্রতিনিধি | ২৩:১৫, জুন ১৬, ২০২১
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হারালার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বরুমতি খাল সংলগ্ন মওলানা ইসলামাবাদী সড়কটি ভেঙে গেছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রহমানীর বাড়ির সামনে সাদিক্যা পুকুর পাড় এলাকায় সড়কটি ভেঙে যায়। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। ভাঙন স্থানটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে চলাচলকারী। স্থানীয়দের অভিযোগ অপরিকল্পিতভাবে ত্রুটিপূর্ণ খাল খননের ফলে ভারী বৃষ্টিপাত হলে এই স্থানটি বার বার ভেঙে যায়।
জানা যায়, উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে হাশিমপুর ইউনিয়ন, চন্দনাইশ পৌরসভা ও বরমা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১০ মিটার প্রস্থের বরুমতি খালটি ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে পুনঃখনন করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। খাল খননের সময় খননকৃত মাটি খালের একপাড়ে রাখার ফলে অপর পাড় নিচু হয়ে যায়। এতে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মওলানা ইসলামাবাদী সড়কটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) দোহাজারী জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান দৈনিক অধিকারকে বলেন, "খাল খননের সময় খননকৃত মাটি খালের উভয়পাশে রাখার নিয়ম হলেও ইসলামাবাদী সড়কটি ভিটুমিনের হওয়ায় সড়কের ওপর মাটি স্তুপ করতে না পারায় ওই অংশটি নিচু থেকে গেছে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ওই অংশটি ভেঙে যাচ্ছে।"
এব্যাপারে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, ''বিএডিসি'র অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ খাল খননের খেসারত দিতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। মওলানা ইসলামাবাদী সড়কের এই স্থানে এর আগে দুবার ভেঙেছে। দুবারই মাটি ভরাট করে ইট বিছিয়ে চলাচল উপযোগী করা হয়েছে। বিষয়টি মেয়র মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।"
এব্যাপারে চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র মাহবুবুল আলম খোকার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এলজিইডির আওতাধীন মওলানা ইসলামাবাদী সড়কটি অনেক প্রাচীন সড়ক। বরুমতি খাল সংলগ্ন হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে খালটির বিভিন্ন অংশ ভাঙলেও ওই স্থানে কখনো ভাঙ্গে নাই। বিএডিসি বরুমতি খাল খননের সময় অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ খননের ফলে ওই স্থানটি বারবার ভেঙে যাচ্ছে। প্রথমবার ভেঙে যাওয়ার পর মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে খুব মজবুত করে ওই স্থানটি মেরামত করলেও
নির্বাচনের আগে আরেকবার ভেঙে যায়। নির্বাচনের পর পুনরায় মেরামত করা হয়েছিলো। ত্রুটিপূর্ণ খাল খননের বিষয়টি অবহিত করে বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছি।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও অদ্যাবদি তা বাস্তবায়ন হয়নি। চন্দনাইশ পৌরসভা আর্থিকভাবে অতটা স্বাবলম্বী নয়, তাছাড়া একই স্থানে বারবার মেরামত করে খরচ দেখালে পরবর্তীতে আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। সড়কটি এলজিইডির আওতাধীন হওয়ায় এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টা অবহিত করেছি। তিনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।"
এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, ''সাধারণত পৌরসভার আওতাভুক্ত এলাকায় এলজিইডি কাজ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।"
Developed By Muktodhara Technology Limited