শিরোনাম
এসএম শাহেদ হোসাইন ছোটন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি | ১৬:১৯, জুন ৩০, ২০২১
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা-দাশের দিঘী সড়কের বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে স্হানীয় জনসাধারণ।শাকপুরা থেকে দাশের দিঘী পর্যন্ত সড়কে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দকে ভরা। আবার পাকা সড়কেরও কোথাও কোথাও পিচ, সুরকি, ইট উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায়। সড়কের ওপর জমে থাকা পানিতে বোঝাই যায় না কোন গর্ত কত বড়, আর কোন গর্তে কাঁদা আছে। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা। যানবাহনের পাশ দিয়ে চলতে গিয়ে সড়কের গর্তের পানি ছিটকে গিয়ে কাপড় নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে রাস্তা খারাপ হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া দিলেও অনেক সময় যানবাহন যেতে চায় না। ছোটখাট যানবাহনগুলো প্রায়শই উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।
(২৯ জুন) মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা যায়, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ৪ নং শাকপুরা ইউনিয়ন,৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়ন,বেঙ্গুরা,খিতাপচর, ইমামুল্লার চর ও দাশের দিঘী এলাকার প্রায় ৬০ হাজারের বেশি জনসাধারণ চট্টগ্রাম জেলা শহরে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে।জেলা শহরের সঙ্গে সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে শাকপুরা-দাশের দিঘী সড়কের। সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ বছর ধরে ভাঙা ও খানাখন্দকে ভরা সড়ক দিয়ে রিকশা-ভ্যান, অটো ও সিএনজি, বাস ও ট্রাক চালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা। সড়কের বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। তবে এ অবস্থাতেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর-এলজিইডি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উদাসীন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের দায়সারা দায়িত্বপালন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে কাজ করা হচ্ছে না । বর্তমানে সড়কটিতে পায়ে হেঁটে চলাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শাকপুরা এলাকার শফিউল আলম জানান, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বাড়ি থেকে হাঁটবাজার, উপজেলা সদর ও জেলা সদরে যাতায়াতে সময় ও ভাড়া দুটোই বেশি গুনতে হচ্ছে।
বেঙ্গুরা এলাকার আবুল হাসেম জানান, আমরা সবসময় দুর্ভোগের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি।সড়কটিতে এত বেশি গর্ত কোন যানবাহন যাতায়াতে শরীরের ওপর কাঁদা পানি ছিটকে পড়ে কাপড়চোপড় ভিজে যায় নোংরা হয়ে যায়।
মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ রবিউল জানান, সড়কটি দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো কঠিন। বৃষ্টি হলে সড়কটি বিপজ্জনক হয়ে উঠে। কোথায় গর্ত, কোথায় কাঁদা কোনোটাই বোঝা যায় না। কোনও কোনও গর্ত এক হাত বেশি গভীর।
বোয়ালখালী ৪নং শাকপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবদুল মান্নান (মোনাফ) বলেন,শাকপুরা-দাশের দিঘী সড়কের অবস্হা বেহাল।ওয়াসার কাজ চলমান থাকার কারণে সড়কটির অবস্হা খারাপ।তিনি বলেন,আমি যতটুকু জানি ওয়াসার কাজ শেষ হলে সড়কটি তারা করে দেবে।এটি ডিসি রোড আমাদের করার কিছু নেই।ওয়াসা করে দিবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বোয়ালখালী ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বেলাল হোসেন বলেন,শাকপুরা-দাশের দিঘী সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে।ওয়াসার কারণে সড়কটির বেহাল দশা। বর্তমানে ৮লক্ষ টাকা দিয়ে সুরকি, ইট,বালি দিয়ে কোন প্রকার গর্তগুলো ভরাট করে চলাচলের ব্যবস্হা করা হচ্ছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited