শিরোনাম
এস এম শাহেদ হোসেন ছোটন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি | ১২:৩৮, জুলাই ১১, ২০২১
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বোয়ালখালী খালের ভাঙনের কবলে পড়েছে হতদরিদ্র দুইটি পরিবার।ইতিমধ্যে ৪টি পরিবারের ভিটে বসতঘর বিলীন হয়েছে এই খালের ভাঙনের ফলে।এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দুই পরিবার।
বোয়ালখালী ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ৪নং ওয়ার্ড,হোরারবাগ,পশ্চিম খিতাপচর লেদু সওদাগরের বাড়িটি কর্ণফুলী থেকে আসা বোয়ালখালী খালের সাথে সংযুক্ত।
শনিবার (১০ জুলাই) বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা যায়, খিতাপচর ও হোরারবাগ গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বোয়ালখালী নামক খালটি একসময় ৭০ ফুট চওড়া ছিল। এখন লাগাতার ভাঙনের ফলে খালটি বর্তমানে প্রায় ৩শ' ফুটের বিরাট নদীতে পরিণত হয়েছে। ফলে খালের অব্যাহত ভাঙন ও বসতভীটার চারদিকে চলাচলের রাস্তা না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে খালের উপর চরম ঝুঁকিতে পারাপার করে মানবেতর জীবন যাপন করছে হতদরিদ্র দুইটি পরিবার। টানা বর্ষণে ভয়াবহ ভাঙনে ইতোপূর্বে সামসুল আলম,নুরুল আবছার,আবু তালেব,আবু ়তৈয়ব এর বসতঘর খালগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।পৈত্রিক সম্পত্তি বসতভীটা হারিয়ে তারা এখন ভবঘুরে।
খালের ভাঙন অব্যাহত থাকায় যে কোন সময় তলিয়ে যেতে পারে দুইটি পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি ও বসতভীটা। এই খালের ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াকুব ও মোছাম্মৎ ওয়াজিফা বেগমের পরিবারের লোকজন।
স্হানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, ১১বছর ধরে আমরা ভাঙনের কবলে আছি।৪টি পরিবার বিলীন হয়ে গেছে। আমার বাবা ৮০ বছর আগে এই পৈত্রিক বসতভীটা ক্রয় করেছিলেন। আমাদের চলাচলের জন্য কোন রাস্তা নেই।বাঁশের সাঁকো দিয়ে আমাদের দুই পরিবারকে ঝুঁকিতে পারাপার হতে হয়।শুধু তাই নয় ৮০ বছর ধরে বিদ্যুৎ কি জিনিস আমরা চোখে দেখেনি।আজ পর্যন্ত আমাদের দুঃখ কষ্ট গুলো কেউ দেখতে আসেনি।আমাদের যে কোন সময় বিপদ আসবে।আমার দুই মেয়ে আর এক ছেলে আছে ।এক মেয়েকে সবার কাজ থেকে সাহায্য আর ঋণ নিয়ে অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছি।সংসারে অনেক অভাব-অনটন। তার মধ্যে আমার একমাত্র ছেলে আবদুল কাদেরের অ্যানিমিয়া ও রক্তশূন্যতা। তার পেছনে অনেক টাকা লাগে।খালে বসতভীংটা নিয়ে গেলে অসহায় হয়ে যাব।
স্হানীয় আরেক বাসিন্দা মোছাম্মৎ ওয়াজিফা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ।খালে যদি আমাদের বসতভিটা নিয়ে যায় আমরা নিরুপায় হয়ে যাব।তখন আমাদের পরিবার নিয়ে কোথাও গিয়ে মাথা গোঁজার জায়গা থাকবে না। আমরা অসহায় হয়ে যাব।দুই বছর আগে আমরা বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দরখাস্ত দিয়েছি কিন্তু কোন প্রকার কাজ হয়নি। আমাদের ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বেলাল হোসেন বলেন,বোয়ালখালী খালের ভাঙনের ফলে খালের পাশে অবস্হিত গ্রামগুলোর অবস্হা খুব খারাপ।খালের ভাঙন রোধ করার জন্য বড় একটা প্রজেক্ট দরকার প্রায় ১৫ থেকে ২০কোটি টাকার।এত বড় প্রজেক্ট আমাদের নাই।২থেকে ৩ লাক টাকা হলে আমি সমাধান করতে পারতাম।আমরা বারবার প্রজেক্ট দিয়েছি।এমপি মহোদয়কে খালের ভাঙন বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছি। চেষ্ট করছি কি করা যায়।
Developed By Muktodhara Technology Limited