শিরোনাম
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি | ১৯:২৬, জুলাই ৩১, ২০২১
বান্দরবানের লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শারাবান তহুরার স্বামী রাশেদ ত্রীপুরা ২য় বিয়ে করেছেন।
তহুরা জানান, তার অনুমতি না নিয়ে বিয়ে করে রাশেদ ত্রিপুরা আইন ভঙ্গ করেছেন।
সম্প্রতি (ঈদের আগের দিন) একজন নারী নিয়ে রাশেদ নওমুসলিম কমপ্লেক্সে উঠে। একজন অপরিচিত নারীর আকস্মিক আগমনের কারণ জানতে গিয়ে প্রতিবেশিরা নিশ্চিত হন, ওই নারীকে রাশেদ বিয়ে করেছেন।
রাশেদের প্রথম স্ত্রীর ঘরে বিবাহ উপযুক্ত দু'জন কণ্যা সন্তান রয়েছে। এরা একজন অনার্স ৩য় বর্ষে, আরেকজন ভার্সিটিতে ভর্তির অপেক্ষায়।
দু'জন উপযুক্ত মেয়ে নিয়ে ভবিষ্যতে কি হবে, এমন আশংকায় শারাবান তহুরা চরম হতাশায় পড়েন।
সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে রাশেদ তার উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। লোক লজ্জায় ও দু'টি কন্যা সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে সে স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি। বিগত দিনে শারিরীক নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছিল। মামলায় রাশেদ নিজের অন্যায় স্বীকার করে মুচলেকার মাধ্যমে আপোষ করেন। কিন্তু কিছুদিন না যেতে সে আবারো ঠুনকো কারণে তহুরার উপর নির্যাতন চালাতে থাকে। মেয়েদের লেখা-পড়ার খরছ ও ভরণ পোষন না দিয়ে ভবঘুরে থাকে।
তহুরা জানান, ২০১৪ সালে সে বিপুল ভোটে লামা উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সরকারি কাজে সে বিভিন্ন সভা- সেমিনারে অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে তার স্বামী তাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতেন।
তহুরা জানান, রাশেদ ত্রীপুরা সন্দেহ থেকে উম্মাদ হয়ে ২০১৬ সালে পরপর কয়েক দফায় ভাইস চেয়ারম্যানের সরকারি দপ্তরে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল।
এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে ওইসব বিরোধ বেশি দূর গড়ায়নি।
তহুরা জানান, "রাশেদ কয়েক মাস আগে আমার নিকট তালাক নোটিশ পাঠায়। আমি সেই তালাক নোটিশ গ্রহন করিনি। মনগড়া তালাক নোটিশ, অপপ্রচার ও শারিরীক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে আমি পৌর বিরোধ নিস্পত্তি বোর্ডে বিচার প্রার্থী হই"।
তহুরা আরো জানায়, তার স্বামী রাশেদ ত্রীপুরা এর আগেও কয়েকটি বিয়ে করে, ওই মহিলাদেরকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেননি।সর্বশেষ সে আরেকটি বিয়ে করেছে। কাবিননামা অনুসারে তাদের বিবাহ হয়, ১৪-৬-২০২১ তারিখ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাশেদ ত্রিপুরা জানান, "আমি আইন সম্মতভাবে বিয়ে করছি।" শারাবান তহুরাকে সে তালাক দিয়েছে বলে জানান।
রাশেদ ত্রিপুরা আরো জানান, তহুরা তার কাছ থেকে তালাক প্রাপ্ত হয়ে অন্য জায়গায় বিয়ে বসেছে। রাশেদ বলেন, তালাক নোটিশ সে গ্রহন করলো কি করলোনা, সে প্রশ্ন আর আসতে পারেনা।
তবে রাশেদের বক্তব্যের স্বপক্ষে সে কোন দালিলিক প্রমান দেথাতে পারেনি। সে শরিয়তমতে তার স্ত্রী শারাবান তহুরার মহারানা ত্রিশ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন এবং তার সন্তানদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
অপরদিকে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শারাবান তহুরা আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।
ইউনিভার্সিটিতে বড়ুয়া বিবাহ উপযুক্ত দুই মেয়ে নিয়ে শারাবান তহুরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
সে এখন কি করবেন, সমাজের কাছে এই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
Developed By Muktodhara Technology Limited