শিরোনাম
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি | ১৬:৪৮, আগস্ট ৭, ২০২১
করোনা সংক্রমন রোধে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়ন, বাইশারী, ঘুমধুম, দৌছড়ি ও সোনাইছড়ির প্রতিটি কেন্দ্রে মানুষের উপচেপড়া ভীড় ছিল। প্রতিটা ইউনিয়নে ১টি করে কেন্দ্র স্থাপন করে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সুত্রে জানা যায়, পুরো উপজেলার ১টি ইউনিয়নে ৬শত করে ৫টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। মানুষ স্বত:স্ফুর্ত ভাবে টিকা গ্রহন করেছে।
টিকা নিতে আসা লোকজন জানান, কয়েকদিন পূর্বেও মানুষের মাঝে করোনা সংক্রমন রোধে টিকার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল না। কিন্তু টিকা কার্ড দেখানোর বিষয়ে সরকারী কড়া নির্দেশনা প্রদানের পর লোকজন চিন্তায় পড়ে যায়। তাছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন প্রতিটা ইউনিয়নে ব্যাপক ভাবে প্রচারনা চালিয়ে মানুষকে টিকা প্রয়োগে আগ্রহী করে তুলে।
সরজমিনে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে দেখা যায়, প্রবল বৃষ্টিতেও দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে টিকা নিতে এসেছে। কেন্দ্রে মানুষের প্রচুর ভীড়। অনেকের মাঝে হতাশাও লক্ষ্য করা যায়। জাতীয় পরিচয় পত্র সাথে নিয়ে আসলে টিকা প্রয়োগ করতে পারবে এমন ভূল তথ্য দেওয়ায় রেজিষ্ট্রেশন কার্ড না থাকায় টিকা নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে সাধারন মানুষ। এ নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গনহারে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরেছে ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে অনেকেই।
বাইশারীর বাসিন্দা ছেনুয়ারা বেগম জানান, প্রচুর মানুষের ভীড় হওয়ায় আগ্রহ নিয়ে এসেও টিকা প্রয়োগ করতে পারেননি তিনি। তবে তিনি হতাশ নন। পরবর্তী তারিখে টিকা প্রয়োগ করার কথা বলেন তিনি।
বাইশারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ বাবর জানান, ভীড় ঠেলে টিকা প্রয়োগ করতে পেরে খুশি তিনি। স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং মেম্বাররা প্রতিটা ওয়ার্ডে গিয়ে ব্যাপক ভাবে প্রচারনার ফলে লোকজন বেশি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, পরিষদের পক্ষ থেকে এলাকার লোকজনকে মাইকিং করে করোনা সংক্রমন রোধে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। এলাকায় এলাকায় মানুষদের মাস্ক বিতরন করা হয় এবং সহজেই টিকা প্রয়োগ করার জন্য বিনামূল্যে রেজিষ্ট্রেশনের সূবিধা প্রদান করা হয়। টিকা সীমিত হওয়ায় লোকজন ফেরত গেছে। পরবর্তীতে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সকলকে টিকার আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবু জাফর মো.ছলিম জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৫টি কেন্দ্রে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে একদিনে ৬শ টিকা করে ৫টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়মিত টিকার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান।
Developed By Muktodhara Technology Limited