শিরোনাম
মিরসরাই প্রতিনিধি | ০২:০৫, আগস্ট ২৮, ২০২১
মিরসরাইয়ে শ্যালক কর্তৃক দুলাভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের শুভপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জালিয়াঘাট এলাকায় ফেনী নদীর ওপারে জনৈক শাহাদাতের কলা বাগানে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে নুর উদ্দিন (৩৮)।
সে বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের সিএনজি-অটোরিক্সা চালক। সে ৩ ছেলের জনক।
এ ঘটনায় নুর উদ্দিনের শ্যালক মিজান (৩২) আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শুভপুর বালুমহাল এলাকায় পূর্ব ঘটনার জের ধরে শ্যালক মিজান (৩২), ইকবাল (৩০) সহ কয়েকজন সহযোগি মিলে নুর উদ্দিনকে বেদম মারধর করার একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শ্যালকের আচরণ সন্দেহজনক হলে পুলিশে খবর দিলে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং শ্যালককে সেখান থেকেই আটক করে।
জানা যায়, নিহত সিএনজি-অটোরিক্সা চালক নুর উদ্দিন এর শ্যালক মিজান (৩০) শুভপুর বালু মহালের মেশিন ম্যান হিসেবে কাজ করে। তার সাথে হেলপার হিসেবে কাজ করতো তার ভাগিনা (নুর উদ্দিনের) বড় ছেলে ইমন (১৫)। ছেলের বেতনের টাকা নিয়ে দুলাভাই নুর উদ্দিনের সাথে বাক বিতন্ডার একপর্যায়ে মিজান দুলাভাইকে টাকা আনতে শুভপুর যেতে বলে। সেখানে গেলে মিজান দলবল নিয়ে নুর উদ্দিনকে বেঁধে বেদম প্রহার করে। এছাড়া নুর উদ্দিন তার শ্যালিকা ফারহানার সাথে পরকিয়াজনিত সালিশ বৈঠকের পরও কিছু অনৈতিক বিষয়াদির জন্য দুলাভাইয়ের উপর ক্ষিপ্ত ছিল শ্যালক মিজান।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নুর উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করি। এসময় তার শ্যালক মিজানকে আটক করি। লাশের সুরতাহালে দেখা যায়, হাত-পায়ে কোন কিছু দিয়ে বাঁধার চিহ্ন রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আগাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতে চামড়ার ভেতরে রক্তজমাট বাঁধা হয়ে আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ঘটনার তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Developed By Muktodhara Technology Limited