image

আজ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

রোহিঙ্গাদের এক বছর পার : নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনছেন

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা    |    ২৩:১৪, আগস্ট ২৭, ২০১৮

image

মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সীমাহীন নির্যাতনের একটি বছর পার হয়েছে। উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। তাদের মা-বাবা, ভাইবোন ও অনেকেই স্বামী হারা হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধ ধর্ষণ ও গণহত্যা চালিয়ে রাখাইনে নিপীড়নের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চি সমালোচনায় পড়েছেন। বিশ্ব নেতারা তাকে ধিক্কার দিয়েছেন। অনিশ্চিয়তায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের একটি বছর পার হয়েছে।

ক্যাম্পে অবস্থানরত মুরব্বিরা গত বছরের ২৫ আগস্টের কালো অধ্যায়ের দুর্বিষহ দিনকে স্মরণ করে কুরআন তিলোয়াতের মাধ্যমে বেশি বেশি আল্লাহকে ডাকছেন। কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের মাঝি মোরশেদ আলম বলেন, আল্লাহপাক মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য। আগস্ট মাস রোহিঙ্গাদের জন্য বেদনার মাস। ক্যাম্পের প্রতিটি ঘরে ঘরে কুরআন তিলোয়াত চলছে। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি আমরা। স্বজনহারা রোহিঙ্গারা বুকফাটা আর্তনাদ করছেন।

সরেজমিন তাদের অবস্থার খোঁজখবর নিতে গতকাল কুতুপালং ক্যাম্পের এফ ব্লকের বাসিন্দা মিয়ানমারের বুচিদং এলাকার ৯৪ বছরের বৃদ্ধ নাজির হোসেন বলেন, হাজার বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। অতীতে মিয়ানমার পার্লামেন্টে আমাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। ১৯৮২ সালে আমাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয় সামরিক জান্তা সরকার। আমরা যারা আরাকানের আদি বাসিন্দা, তারা হলাম বহিরাগত। আর রাখাইন বৌদ্ধ যারা অন্য দেশ থেকে এসেছে, তারা হয়েছে সে দেশের নাগরিক। সত্যিই, দুর্ভাগা জাতি রোহিঙ্গা। চরম হতাশা প্রকাশ করেন আরেক রোহিঙ্গা কোয়াংচিপ্রাং এলাকার ৬৫ বছরের আব্দুল ফত্তাহ।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালেও আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। দুই যুগের বেশি সময় তাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে দেয়নি মিয়ানমার সরকার। এর ওপর নতুন নতুন সঙ্কট তৈরি করে ফের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করেছে। রাখাইনকে রোহিঙ্গাশূন্য করতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী। মিয়ানমার সরকারের ওপর আমাদের আর কোনো আস্থা নেই।

একই এলাকার নুর আলম বলেন, নাগরিক অধিকারসহ পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে রোহিঙ্গারা আর স্বদেশে ফিরে যাবে না। ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা স্বদেশ ফেরা নিয়ে রয়েছেন অনিশ্চিয়তায়। তাদের মনে শঙ্কা-ভয়, আদৌ কি ফিরে যেতে পারবেন নিজ দেশে? ফিরতে পারলেও সহসা যে হচ্ছে না, সেটাও তাদের বদ্ধমূল ধারণা। বেশির ভাগ রোহিঙ্গা মনে করছেন, অতীতের মতো তাদের দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে থাকতে হবে। তাই এদের অনেকেই ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি কিছু একটা করে ভালোভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মিয়ানমারের মংডু মাইজপাড়া থেকে ১১ মাস আগে পালিয়ে এসে বালুখালী ক্যাম্পে ডি ব্লকে আশ্রয় নিয়েছেন মুফিজ উদ্দিনের (৪৫) আট সদস্যের পরিবার। তিনি বলেন, ডাব্লিউ এফপি আমাদের চাল, ডাল, তেল দিচ্ছেন। কিন্তু মাছ তরিতরকারি তো দিচ্ছে না। তাই ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয়দের বাড়িঘরে চাষাবাদের কাজ করছি। অথচ আমি জীবনেও এসব কাজ করিনি। মিয়ানমারে আমার বড় দোকান ছিল। আমি সেখানে ব্যবসা করে জীবন কাটিয়েছি। এখানে স্ত্রী-সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বাড়িঘরে কাজ করছি। আর উপার্জিত টাকায় মাছ, গোশত ও তরিতরকারি কিনে সংসার চালাই। এখানকার মানুষও আমাদের প্রতি খুবই সদয় ব্যবহার করেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় তারা অনেকটা হতভম্ব হলেও নিরূপায় রোহিঙ্গারা তা ভুলে গিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনছেন। 



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

২০:১৯, অক্টোবর ৮, ২০২১

আবিষ্কারের বিস্ময় বালক বাঁশখালীর আশির, প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা


Los Angeles

২১:৩৮, অক্টোবর ৭, ২০২১

করোনাকালে বাল্যবিয়ে : পড়ালেখায় ইতি টেনে অনেক কিশোরী এখন পুরোদস্তুর সংসারী


Los Angeles

১৯:১৫, অক্টোবর ৩, ২০২১

দিন দিন বেপরোয়া-ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা


Los Angeles

২০:১৬, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

উন্নয়ন সমৃদ্ধির রোল মডেল বাংলাদেশ- জেনেভায় ভূমিমন্ত্রী


Los Angeles

১৭:১২, মে ২৬, ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট


image
image