শিরোনাম
ডেস্ক | ১৬:৪৯, আগস্ট ২৮, ২০১৮
দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শিগগিরই জোরালো কর্মসূচি আসছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কর্মসূচি ঠিক করতে যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনেক দিন কর্মসূচি নেই- এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, কথাটি ঠিক না। আমরা প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কর্মসূচি পালন করছি। সময়মত জোরালো কর্মসূচি আসছে। তখন দেখবেন কেমন কর্মসূচি দেয়া হয়।
জাতীয় ঐক্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, গণমাধ্যমের উপর আমাদের প্রচণ্ড আস্থা আছে। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু গণমাধ্যম এমন সব খবর প্রকাশ করে তারা কোথায় এসব তথ্য পায় আমরা জানি না। এই দেখি অমুকে এই আসনে, অমুকে ওই আসন পাচ্ছেন। আমরা কিছু জানি না।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন ও বিএনপিকে মাঠে মোকাবেলা করার ঘোষণা দিয়েছে, এ অবস্থায় বিএনপির প্রস্তুতি কি?
এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আমরা প্রতিনিয়ত দিচ্ছি। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। আমরা বলেছি, আমাদের চেয়ারপারসনকে মুক্তি দিতে হবে, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে ভেঙে পুনর্গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সকল দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। এ কথাগুলো আমরা বারবার বলছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া উড়ে এসে রাজনীতিতে বসেননি। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর অনেকে ভেবেছিল বিএনপি শেষ, ভেঙে যাবে। কিন্তু তখন খালেদা জিয়া জাতীয়তাবাদী পতাকা হাতে দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই তো সরকারের ভাবনায় খালেদা জিয়া ও বিএনপি। কারণ সরকার বিএনপি ছাড়া কাকে মোকাবেলা করবে? বিএনপি ছাড়া কোন দল আছে নাকি ?
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণ তাদেরে ভোট দেবে না। সেই জনগণকে তারা কিভাবে মোকাবেলা করবে। ইতোমধ্যে দেখেছেন জনগণ কিভাবে তাদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভে ফুসে উঠেছে। তাই তারা যদি ফের জোর করে ভোটবিহীন নীলনকশার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায় তাহলে জনগণের প্রতিরোধে তাদের ঘর তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে ।
তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোট দিবে না তাই যত রকমের দুষ্টুমি আছে সব করছে। শুনতে পাচ্ছি ইভিএম আমদানী করবে, অথচ আমরা এর বিরোধীতা করছি। আবার পুলিশকে বলা হচ্ছে সবাইকে আটক করতে। এসব কি? যদি নির্বাচন করতে চান তাহলে সবাইকে মুক্তি দিতে হবে।
ফখরুল বলেন, দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। নির্ভর করছে আগামীতে দেশে গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না। তাই একাদশ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এমন যদি হয় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলো না তাহলে কি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে ? গ্রহণযোগ্য হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বিএনপি সমাবেশ করবে বলে জানানো হয়। এজন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। যেখানে অনুমতি পাওয়া যাবে সেখানে সমাবেশ করা হবে।
এছাড়াও ওইদিন সকালে দলের নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। আর ২ সেপ্টেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন,আব্দুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী, ওলামা দলের হাফেজ আব্দুল মালেক, যুবদলের নূরুল ইসলাম নয়ন, গিয়াস উদ্দিন মামুন, ছাত্রদলের নাজমুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Developed By Muktodhara Technology Limited