শিরোনাম
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা | ০০:২১, জুন ২, ২০১৯
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত বিপনি বিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের মার্কেট দখল করে নিয়েছে কেরানীগঞ্জের পুর্ব আগানগর ও কালীগঞ্জের তৈরী বাহারী রং ও ডিজাইনের আধুনিক সব পোষাক। দামে কম ও কাপড়ের গুনগতমান উন্নত হওয়ায় ক্রেতারাও লুফে নিচ্ছেন এ অঞ্চলের তৈরী পোষাক। বিশেষ করে রমজানের ঈদ এবং শীতকালিন সময় এই দুই মৌসুমই এখানকার ব্যবসায়ীদের মুল মৌসুম। এখন রমজান তাই পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে নির্ঘুমরাত কাটাচ্ছেন দর্জিরা। যদিও বছর জুড়েই চলে নানা ধরনের পোষাক তৈরীর কাজ তবে শীত অথবা ঈদ এলেই কারিগরদের হতে হয় গলদঘর্ম।
এখানকার পোশাক কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের ঈদের পোশাকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পোশাক কেরানীগঞ্জ থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হবে না।
কালিগঞ্জ , আগানগর ও শুভাঢ্যার বিভিন্ন কারখানায় ঘুরে দেখা গেছে এখানকার তৈরী পোষাকের বাজারে রমজানের শুরুতেই ব্যাপক পাইকার সমাগম । তাই দিন-রাত চলছে বাহারীসব পোষাক তৈরীর কাজ। সারা বছর জুড়েই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এখান থেকে তাদের চাহিদা মাফিক তৈরী পোষাক নিয়ে বিক্রি করে থাকে। তবে বিশেষ করে ঈদ- পুজা বা শীত মৌসুমে এখানকার ব্যাবসায়ীদের কদর বেড়ে যায় সারাদেশের পাইকারদের কাছে । কাজেই আসছে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে এখন জমজমাট পুর্ব আগানগরের তৈরী পোষাকের পাইকারী বাজার । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাইকাররা এখনও ভিড় জমাচ্ছে কেরাণীগঞ্জের তৈরী পোষাকের বাজারে । এ ব্যাপারে নুরু সুপার মার্কেটের ভিআইপি গলির ন্যাশনাল প্যান্ট হাউজের মালিক হাজি মোঃ মনির বলেন, মূলত শীত ও ঈদ মৌসুমই আমাদের সবচেয়ে বড় মৌসুম । তাই পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে এখানকার প্রায় ১০ সহাস্রাধিক তৈরী পোষাক কারখানার শ্রমিকরা । ছোট বড় মিলিয়ে কেরানীগঞ্জে প্রায় শতাধিক মার্কেট আছে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিপুল পরিমার পাইকারের সমাগম গটবে। এবছর প্রায় ৪ কোটি টাকার প্যান্ট তৈরী করেছি। কারখানার শ্রমিকার রাতদিন পরশ্রিম করে যাচ্ছে। রোজার মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে তাদের এ ব্যস্ত সময়। এবার ঈদুল ফেতরে প্রায় ৫শ কোটি টাকার তৈরী পোষাক বিক্রয় হতে পারে। এবছর গত বছরের তুলনায় বিক্রয় ভালো। আমার এখানে দেশী প্যান্ট তৈরী হয়। এর গুনগত মান চীন, ভারতের তুলনায় কোন অংশে কমনা। প্রতিটি প্যান্ট ৭ শ থেকে ১হাজার টাকার মধ্যে।
পুর্ব আগানগর খাজা-সুপার মার্কেটের ওমর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর মালিক মোঃ নুরুল আমীন লিটন জানান,বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তৈরী পোশাকের মার্কেট এটি। গত রোজার ও কোরবানীর ঈদেও তাদের ব্যাবসা মোটামুটি ভালো হয়েছে। এবছরের পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখেও ইতি মধ্যেই ক্রেতা সাধারনরা ভীড়তে শুরু করেছে আমাদের এ পোষাকের পাইকারী বাজারে। তিনি বলেন,বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎ সমস্যার কারনে তাদেরকে অনেক সমস্যায় পড়তে হত। কিন্তু কেরাণীগঞ্জে এখন আর কোন বিদ্যুৎ সমস্যা নাই। যে কারনে তাদের উৎপাদন এবছর আগের তুলনায় অনেকটাই বেশী।
কথাহয় আলম সুপার মার্কেটের গ্রæভী পাঞ্জাবীর মালিক মো. জহির উদ্দিনের সাথে অত্র এলাকায় তাদের তিনটি শোরুম রয়েছে। ৬৫০ টাকা থেকে ২০০০টাকা মূল্যের পাঞ্জাবী রয়েছে তাদের শোরুমে। যা রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলে অনেক বেশী দামে বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি বলেন রং আর ডিজাইনের দিকে খেয়াল রেখে আমরা একটু ভিন্ন ষ্টাইলের পাঞ্জাবী বাজারজাত করে থাকি। ঠিক একই ধরনের মন্তব্য ওই মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী জিলাস গার্মেন্টেসের মালিক হাজী মো. নাজিম উদ্দিনের। তার মতে আমরা বর্তমান সময়ের সাথে রুচিশীলতাকে প্রধান্য দিয়ে পোষাক তৈরী করে থাকি। আলম সপিংমলের বেবী পয়েন্ট ফ্যাশনের সত্বাধিকারী মোঃ জয়নাল দেওয়ান বলেন, ঈদ মৌসুমকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই পাইকার সমাগম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, যে কোন রুচিশীল তৈরী পোষাক এখানে অত্যন্ত সহজ মুল্যে পাওয়া যাওয়ার কারনে পাইকারদের তেমন বেশী ঘোরাঘুরি করতে হয়না। তা ছাড়া রাজধানীর যে কোন পাইকারী বাজারের তুলনায় আমাদের এখানে কেনাকাটা করে পাইকার সাধারনরা কোনরকম যানজট ছাড়াই নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌছতে পারে। যে কারনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাইকারদের কাছে দিন দিন আমাদের কদর বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম নূরু বলেন, বছরের প্রতিদিন কেরানীগঞ্জের পোশাক কারখানাগুলো সচল থাকে। তবে ঈদকে ঘিরে কেরানীগঞ্জের পোশাক পল্লীর কারখানাগুলোর ব্যস্ততা বহু গুণ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, দেশে এখনও স্বল্প আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি মাথায় রেখেই কেরানীগঞ্জের কারখানাগুলোতে পোশাক তৈরি হয়।
এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ শেখ বলেন , এখানে কোন শ্রমিক অসন্তোষ নেই । নেই কোন চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী । নৌ-পথ ও সড়ক পথে দেশের যে কোন অঞ্চলে সহজে যোগাযোগ এবং যানজটমুক্ত এলাকা হওয়ায় দেশের যে কোন এলাকার পাইকাররাই মন খুল্ েপছন্দ মাফিক কেনাকাটার জন্য এখানে আসেন । প্রতিদিন প্রায় ১০সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লিতে। নেই কোন শ্রমিক অসন্তোষ। ব্যাবসায়ীরা নির্ভিগ্নে তাদের ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited