শিরোনাম
এমদাদুল হক | ১৪:১৪, আগস্ট ২, ২০১৮
রাজধানীতে বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার মতো দেশের বিভিন্ন জেলায়ও শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমেছে। তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ও ঘাতক চালকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছে। একই সঙ্গে তারা সড়কে ট্রাফিকের ভূমিকা পালন করছে। লাইসেন্স ছাড়া যানবাহনকে আটকে দিচ্ছে।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
পুলিশের গাড়িরও লাইসেন্স যাচাই করে শিক্ষার্থীরা। টাউন হল শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কয়ার, ময়মনসিংহ, ২ জুলাই। ছবি: আনোয়ার হোসেন
পুলিশের গাড়িরও লাইসেন্স যাচাই করে শিক্ষার্থীরা। টাউন হল শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কয়ার, ময়মনসিংহ, ২ জুলাই। ছবি: আনোয়ার হোসেন
ময়মনসিংহ: বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। তাঁরা মোড়ের তিন দিক থেকে আসা মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, ইজিবাইক, পিকআপ ভ্যানের চালকের লাইসেন্স যাচাই করছে। লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হওয়া গাড়িগুলোকে আটকে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এ অভিযান থেকে বাদ পড়েনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের গাড়িও। পুলিশের ভ্যান ও মোটরসাইকেল আটকে লাইসেন্স চাইতে দেখা যায়। লাইসেন্স দেখাতে না পারায় পুলিশের একটি মোটরসাইকেলকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে দেখা যায়। লাইসেন্স থাকা ইজিবাইক ও রিকশাগুলোতে সারিবদ্ধ ভাবে চলাচল করতে অনুরোধ করে শিক্ষার্থীরা। রোগী থাকা একটি ইজিবাইককে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই অবরোধস্থল পার করে হাসপাতালের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন কম দেখা গেছে।
আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, আমাদের দেশে ট্রাফিক আইন আছে। কিন্তু আইন প্রয়োগে কঠোরতা না থাকায় মানুষ আইন মানছে না। আমরা চাই দেশের মানুষ প্রত্যেকেই ট্রাফিক আইন মেনে সড়কে চলাচল করুক।
বিভিন্ন দাবিতে কুষ্টিয়া ট্রাফিক কার্যালয়ে বসেই কাগজ কলমে ফেস্টুন লিখে কয়েক শিক্ষার্থী। ২ জুলাই। ছবি: তৌহিদী হাসান
বিভিন্ন দাবিতে কুষ্টিয়া ট্রাফিক কার্যালয়ে বসেই কাগজ কলমে ফেস্টুন লিখে কয়েক শিক্ষার্থী। ২ জুলাই। ছবি: তৌহিদী হাসান
কুষ্টিয়া: সকাল সাড়ে নয়টার পরপরই শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া ট্রাফিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে। দশটার মধ্যে সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়। তাদের হাতে প্লাকার্ড। আবার কেউ কার্যালয়ে বসেই কাগজ কলমে ফেস্টুন লিখতে থাকে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশও চলে আসে। প্রথমে মানববন্ধনে বাধা দেয় পুলিশ। পরে ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আশ্বাস দিলে পুলিশ বাধা দেয়নি। হাজারো শিক্ষার্থী ঝিনাইদহ-ঈশ্বরদী মহাসড়কের পাশে শান্তিপূর্ণভাবে এক ঘণ্টা মানববন্ধন করে। পরে তারা স্লোগান দিতে দিতে কুষ্টিয়া শহরের সড়কে চলে যায়।
বগুড়া: বেলা ১১টার দিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকশ শিক্ষার্থী শহরের কেন্দ্র সাত মাথায় অবস্থান নেয়। এখানে তাদের সঙ্গে অভিভাবকেরাও যোগ দেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে গড়া শিক্ষার্থীরাও এখানে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি দল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে দিতে শহরের তিন মাথা রেলগেট এলাকার দিকে যায়। সেখানে তারা আধা ঘণ্টা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ও ট্রাক ভাঙচুর করে। এরপর পুলিশ গিয়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। ফেরার পথে রেলস্টেশনের কাছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি বাস ভাঙচুর করে। এর ফলে শহরে যান চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে আসে।
নোয়াখালী: সকাল দশটার দিকে নোয়াখালী জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে শহরের প্রধান সড়কের (মাইজদী-সোনাপুর) পাশে মানববন্ধন করে। কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পর পুলিশ সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে। পরে বেলা সোয়া এগারোটার দিকে নোয়াখালী সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন বেসরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একে একে মিছিল নিয়ে শহরের টাউন হলের মোড়ে এসে জড়ো হয় এবং সড়ক অবরোধ করে। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তিনটি বাসের কয়েকটি কাচ ভাঙচুর করে। এ সময় ভাঙা কাচে হাত কেটে গিয়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়।
খবর পেয়ে সুধারাম থানা-পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ লাইন থেকে আসা পুলিশ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সড়কের অবস্থান ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। তাঁদের দাবি নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তাঁদের নয় দফা দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বে না। এ সময় শিক্ষার্থীরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এতে বিভিন্ন কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দেন। পরে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী যান। সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে
জেলা শহরের হাসপাতাল রোডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করেননি।
প্রতিবাদ সভায় শিক্ষার্থীরা বলে, আমাদের যে ভাই-বোনকে নির্মমভাবে বাস চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। ঢাকায় নয় দফা দাবিতে আমাদের যে আন্দোলন চলছে, দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাসিরনগর উপজেলা সদর এলাকায়ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।
দিনাজপুর (বিরামপুর): সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী শহরের লিলিমোড়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। দিনাজপুর জিলা স্কুল, হলিল্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ শোকাহত দিন শেষ, প্রতিবাদ জানাব’, ‘ছাত্র সমাজ এক হও, অনিয়মের প্রতিবাদ জানাও’, ‘স্বাধীন দেশে বাস করি না, বাস করি লাশের দেশে’, ‘সেভ আওয়ার ফিউচার, অ্যাম আই দ্যা নেকস্ট?, ‘খুনি কেন বাইরে আমার বোন কবরে?’।
ঢাকার (কেরানীগঞ্জ): উপজেলায় কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। নেক শিক্ষার্থী গাড়ির চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করে। লাইসেন্সহীন চালকের গাড়ি আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়কে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় বা কেউ জানমালের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন।
চুয়াডাঙ্গা: বেলা সাড়ে ১০টায় শহরের বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বর থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশের বেষ্টনীর ভেতরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহীদ আলাউল ইসলাম সড়ক ও শহীদ রবিউল ইসলাম সড়ক হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ , ভি জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চুয়াডাঙ্গা একাডেমিসহ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সমাবেশে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘ নিরাপদ সড়ক চাই; উই ওয়ান্ট জাস্টিস;ফোনের ফোরজি স্পিড নয়, ফোর জি বিচার চাই’—স্লোগান দেয়।
Developed By Muktodhara Technology Limited