image

আজ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

মহামারির এই সময়ে দেশে জন্ম নেবে ২৪ লাখ শিশু: ইউনিসেফ

ডেস্ক    |    ০১:৩১, মে ৯, ২০২০

image

ছবি-প্রতীকি

করোনাভাইরাস মহামারিতে রূপ নেওয়ার পর থেকে ৪০ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে আনুমানিক ২৪ লাখ শিশু জন্ম নেবে। আর চলমান লকডাউনের মতো পরিস্থিতিতে এসব শিশু ও তাদের মায়েরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

সংস্থাটি বলছে, চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে প্রসূতি ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবা যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে, ১১ মার্চ কোভিড ১৯-কে মহামারি ঘোষণার পর থেকে প্রায় ১০ মাসে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১১ কোটি ৬০ লাখ শিশুর জন্ম হবে।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রসূতি মা ও নবজাতকদের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বজুড়ে লকডাউনসহ নিয়ন্ত্রণমূলক নানা পদক্ষেপ; মহামারি সামলাতে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোর হিমশিম অবস্থা ও সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ধাত্রীসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড-১৯ রোগীদের সেবাদানে নিয়োজিত থাকায় শিশুর জন্মের সময় দক্ষ লোকবলের ঘাটতি থাকবে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, 'বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মা মাতৃত্বের স্বাদ নেওয়ার স্বপ্ন বুনছেন। এমন এক বিশ্ব বাস্তবতায় পৃথিবীতে নতুন জীবন আনতে তাদের জন্য প্রস্তুত হতে হবে যেখানে সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অন্তঃসত্ত্বারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন বা লকডাউনের কারণে ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চাপের মুখে থাকায় তারা জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। করোনাভাইরাস মহামারি মাতৃত্বের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে তা এখন কল্পনা করাও কঠিন।'

১০ মে মা দিবসের আগে ইউনিসেফ সতর্ক করছে যে, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপসমূহ শিশুর জন্মকালীন সেবার মতো জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত করতে পারে, যা লাখ লাখ অন্তঃসত্ত্বা মা ও তাদের সন্তানদের বিরাট ঝুঁকিতে ফেলবে। বিশ্বের ১২৮টিরও বেশি দেশে দিবসটি স্বীকৃত।

মহামারি ঘোষণার পর নয় মাসে যেসব দেশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিশুর জন্মের আশা করা হচ্ছে সেগুলো হলো- ভারত (দুই কোটি এক লাখ), চীন (এক কোটি ৩৫ লাখ), নাইজেরিয়া (৬৪ লাখ), পাকিস্তান (৫০ লাখ) ও ইন্দোনেশিয়া (৪০ লাখ)। এগুলোর অধিকাংশ দেশে মহামারির আগে থেকেই নবজাতকের উচ্চ মৃতু্যহার ছিল এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এই হার আরও বাড়তে পারে।

এমনকি ধনী দেশগুলোতেও এই সংকটের প্রভাব পড়বে। প্রত্যাশিত শিশুর জন্মের দিক দিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। ২৪ লাখ শিশুর প্রত্যাশিত জন্ম সূচকে গত ১১ মার্চ মহামারি ঘোষণার পর থেকে পরবর্তী নয় মাসে সর্বাধিক শিশুর জন্মের দিক দিয়ে বিশ্বে নবম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রাতিষ্ঠানিক মাতৃ মৃতু্যহার ও নবজাতকের মৃতু্যহারে তেমন কোনো পরিবর্তন না হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কোভিড-১৯ সংকট শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবাগ্রহণ উলেস্নখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দেশের ৬৩টি জেলা হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৩৩টিতে এখন সব ধরনের জরুরি গর্ভকালীন ও প্রসূতি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেন, 'কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা/হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ সত্ত্বেও অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষাকারী রুটিন সেবাসমূহ যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে অব্যাহত রাখা দরকার। অনাগত মাসগুলোতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও অসুস্থ নবজাতকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীবন রক্ষায় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ।'

ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, কোভিড ১৯-এ অন্যদের চেয়ে বেশি অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ এখনো না মিললেও বিভিন্ন দেশে তাদের গর্ভকালীন, সন্তান জন্মকালীন ও সন্তান জন্মের পরের সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মৃতু্যঝুঁকি বেশি থাকায় অসুস্থ নবজাতকের জন্য জরুরি সেবা লাগবে। এছাড়া শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করার জন্য সহায়তা এবং শিশুকে সুস্থ রাখতে ওষুধ, টিকা ও পুষ্টি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স এবং ধাত্রীদের জন্য নির্দেশিকা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহামারি চলাকালীন অবস্থায় প্রসূতি, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ। এটি ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে সহায়তা করবে এবং স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের সুরক্ষা দেবে। এসবের মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের কোভিড-১৯ আক্রান্ত নন এমন রোগীদের থেকে পৃথক করা, হাত ধোয়া ও অন্যান্য হাইজিন বিষয়গুলো মেনে চলা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামগুলোর যৌক্তিক ব্যবহার করা।

সূত্র : যায়যায়দিন



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

২০:১৯, অক্টোবর ৮, ২০২১

আবিষ্কারের বিস্ময় বালক বাঁশখালীর আশির, প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা


Los Angeles

২১:৩৮, অক্টোবর ৭, ২০২১

করোনাকালে বাল্যবিয়ে : পড়ালেখায় ইতি টেনে অনেক কিশোরী এখন পুরোদস্তুর সংসারী


Los Angeles

১৯:১৫, অক্টোবর ৩, ২০২১

দিন দিন বেপরোয়া-ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা


Los Angeles

২০:১৬, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

উন্নয়ন সমৃদ্ধির রোল মডেল বাংলাদেশ- জেনেভায় ভূমিমন্ত্রী


Los Angeles

১৭:১২, মে ২৬, ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট


image
image