শিরোনাম
ঢাকা ব্যুরো | ১৫:৩৫, মে ২৪, ২০২০
রাজধানীর সরকারি মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষসহ চার চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে। শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক নির্দেশনায় এই বদলি কার্যকর করা হয়।
মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহ গোলাম নবী তুহিনকে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছে।
সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মাহবুবর রহমান কচিকে জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছে।
হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান ডা. মনিলাল আইচ লিঠুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চক্ষু বিভাগের ডা. আব্দুল মোত্তালেবকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের বদলি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।করোনাকালিন সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগায় চিকিৎসকদের বদলি করা হয় বলে অনেকেই মনে করছেন।ইতিপূর্বে এই হাসপাতালের পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাস্কও পিপিই"র মান নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কথা বলায় তাকে বদলি করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুগদা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে আড়াইশ বেডে করোনা রোগীর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটি করার পর তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বিজয়নগরে অবস্থিত একাত্তর নামে হোটেলে। গত মাসের ২০ এপ্রিল থেকে ওই হোটেলে চিকিৎসকরা থাকতে শুরু করেন। কিন্তু হোটেলের সেবা কার্যক্রমে অবস্থানরত চিকিৎসকরা মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না।
মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য হোটেল যাতায়াত ও খাদ্য কমিটির সভাপতি হলেন ডা. মনিলাল আইচ লিঠু। চিকিৎসকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ওই হোটেলের সিও ও ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ করেন। চলতি মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ৩৫ জন চিকিৎসক ওই হোটেল থাকেন। হোটেলের বিল বাবদ ৩৫ লাখ পরিশোধ করে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হোটেল যাতায়াত ও খাদ্য কমিটি।
এরপরই চিকিৎসকদের জন্য গুলশানের ওরিয়েন্টাল হোটেল ঠিক করা হয়। হোটেল একাত্তরে থাকার ব্যবস্থপনা বাতিল করায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি গ্রুপ ক্ষুব্ধ হয়। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার এই চার চিকিৎসককে বদলি করা হয় বলে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা মনে করছেন। দেশের করোনা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে এখনো একটি মহল নিজেদের আত্মসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের পেছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
Developed By Muktodhara Technology Limited