শিরোনাম
ঢাকা ব্যুরো | ১৯:৪৪, জুলাই ১৬, ২০২০
ভ্যাট ফাকির বিরুদ্ধে গঠিত ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের একটি ইলেকট্রিক মোটর কারখানায় অভিযান চালায়। এতে ওই প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলে তদন্ত দলের কাছে। তল্লাশির এক পর্যায়ে কারখানার কম্পিউটারের ফাইল তল্লাশি করে পাওয়া যায় একই মালিকানার অন্য এলাকার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের গোপন হিসাব।
এতে ১৭৫ গুলশান এ্যাভিনিউতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান কুইজিন নামে পরিচিত ‘খানা খাজানা’ রেস্টুরেন্টের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে।
উদ্ধার করা কম্পিউটারের তথ্য অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০১৯ ও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০২০ এই তিন মাসে রেস্টুরেন্টের মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭৮.১৬ লক্ষ টাকা।কিন্ত রেস্টুরেন্ট মালিক এই সময়ে মোট ভ্যাট পরিশোধযোগ্য মূল্য প্রদর্শন করেছেন মাত্র ১৫.৭১ লক্ষ টাকা।
গুলশান ভ্যাট বিভাগে প্রতিষ্ঠানটি মাসিক রিটার্নে প্রায় ৬২.৪৫ লক্ষ টাকা কম বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে।তাদের রিটার্ন অনুসারে ডিসেম্বরে বিক্রি দেখানো হয়েছে ৭.৮৫ লক্ষ টাকা, জানুয়ারি মাসে দেখিয়েছে ৭.৮৫ লক্ষ টাকা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে শূন্য বিক্রি দেখিয়েছে।
রেস্টুরেন্টে খাবারের উপর কাস্টমারের নিকট ১৫% হারে ভ্যাট সংগ্রহ করেছে ১১.৭২ লক্ষ টাকা। কিন্তু রিটার্নের মাধ্যমে ভ্যাট দিয়েছে মাত্র ২.৩৬ লক্ষ টাকা।অর্থাৎ মোট প্রদেয় ভ্যাটের মাত্র প্রায় এক পন্চমাংশ ভ্যাট জমা দিয়েছে রেস্টুরেন্টের মালিক।
তাহলে বাকি ভ্যাট গেল কই ? ১৫ জুলাই রেস্টুরেন্টেটির মালিক নিজাম উদ্দিনকে ভ্যাট গোয়েন্দায় তলব করা হয়।তিনি উক্ত তিন মাসের বাকি ভ্যাট পরিশোধ কেন করেননি — তার সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর ধারণা করছে এই রেস্টুরেন্টটি শুরু থেকেই এই হারে লক্ষ লক্ষ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছেন।তবে এবিষয়ে আরো তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান করার জন্য ঢাকা উত্তর ভ্যাটের বিচারিক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কেবল ওই তিন মাসের গোপন হিসাব অনুযায়ী মোট ৯.৩৭ লক্ষ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় আজ ‘খানা খাজানা’র মালিকের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে চাঁদ উদ্যান, মোহাম্মদপুরে একই নিজাম উদ্দীনের মালিকানাধীন নিজাম ইলেকট্রিকের গুদামে যে পরিমাণ ইলেকট্রিক মটর তৈরির কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছে তা দিয়ে পণ্য উৎপাদন করে ভ্যাট না দিয়ে বাজারে বিক্রি করার তথ্য পাওয়া যায়।তিনি মোহাম্মদপুর ভ্যাট বিভাগে দাখিলকৃত মাসিক রিটার্নে গত ছয় মাসে ‘জিরো’ উৎপাদন প্রদর্শন করে আসছিলেন।রিটার্নে তিনি ক্রয় ও বিক্রয়ের কোন তথ্য প্রদর্শন করেননি।
তার এই অপরাধের কারণে ইলেকট্রিক কারখানায় সরকারের ১.৪২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে মর্মে প্রমাণ মিলেছে।
ইলেকট্রিকের এই মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
জানাগেছে, ভ্যাট গোয়েন্দার দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ জুলাই ভ্যাট আইনের ধারা ৮৩ অনুযায়ী মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের (প্লট ২, রোড ৩) ‘নিজাম ইলেকট্রিক ইন্ডাস্ট্রিজ’ এর কারখানায় অভিযানটি চালিয়ে একই সাথে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করে।
বৃহস্পতিবার উভয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্যাটের মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited