image

আজ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

চন্দনাইশের স্বাস্থ্যসম্মত পেয়ারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ঃ ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগানিরা  

মোঃ কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ সংবাদদাতা    |    ০০:৪০, আগস্ট ১৩, ২০২০

image

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় ও পাহাড়ের পাদদেশে সৃজিত বাগানের স্বাস্থ্যসম্মত পেয়ারা পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করেছে। রাসায়নিক সার ও কিটনাশক প্রয়োগ ব্যতিরেকে উৎপাদিত স্বাদে-গুণে ভরপুর চন্দনাইশের পেয়ারার কদর রয়েছে সারা দেশব্যাপী।
চন্দনাইশে উৎপাদিত পেয়ারা আকারে বড়, দেখতে সুন্দর, বিচি কম, রসালো, পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও সু-স্বাদু হওয়ায় এখানকার পেয়ারা চট্টগ্রাম-ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজারে বিক্রি করেন পাইকারেরা।
দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে পেয়ারা কিনে ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করেন এ পেয়ারা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েতে রপ্তানি হয় চন্দনাইশের পেয়ারা।
চন্দনাইশ উপজেলার প্রায় সহস্রাধিক বাগানে কয়েক সহস্রাধিক মানুষ পেয়ারা চাষের সাথে জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। চন্দনাইশ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল ও পাহাড়ের পাদদেশে উৎপাদিত পেয়ারা জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে টানা চার মাস ধরে পাওয়া যায়।
চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভা, কাঞ্চনাবাদ, হাশিমপুর ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকায় সৃজিত বাগানে ব্যাপকভাবে পেয়ারার চাষ হয়। প্রতি বছর মৌসুম শুরু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাট-বাজারগুলোতে  পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। পেয়ারা বহন ও বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
চন্দনাইশ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাশ জানান, "কৃষি অফিস থেকে প্রতিবছর চাষীদের প্রচুর পরিমাণে পেয়ারা চারা বিতরণ করা হয়। পাহাড়ের পাদদেশে জমা হওয়া নতুন পলিমাটিতে পেয়ারার চাষ হয়। এই পলি খুবই উর্বর, ফলে পেয়ারা গাছের গোড়ায় কোন ধরণের রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। গাছে কোন ধরনের কীটনাশকও ছিটানোর প্রয়োজন হয়না। গাছে ফুল আসার আগেই বাগান মালিকদের মালচিং পদ্ধতি অবলম্বন এবং পাহাড়ী ছড়ার পানি থেকে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেই আমরা। জৈব সারে উৎপাদিত বিধায় কাঞ্চন পেয়ারা স্বাস্থ্যসম্মত। চাষিরা ডাঁটা ও পাতাসহ এই পেয়ারা সংগ্রহ করে থাকেন। তাই ফরমালিন ও রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো ছাড়াই চাঁর-পাঁচ দিন অনায়াসে সংরক্ষণ করা যায় এ পেয়ারা।"
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, দোহাজারী পৌরসভা, বাগিচাহাট, গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট, খান হাট, রৌশন হাট, বাদামতল, কাঞ্চননগর রেলষ্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন ভোর থেকে পেয়ারার পাইকারি বাজার বসে।
এখানকার চাষীরা অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে গভীর রাতে দলবেঁধে পাহাড়ের পাদদেশে পেয়ারা সংগ্রহ করতে বাগানে চলে যান। ভোরের আলো ফুটতেই কাঁধে করে পেয়ারার ভার নিয়ে ৫/৬ কিলোমিটার মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে অস্থায়ী বাজারে আসেন পেয়ারা বিক্রির উদ্দেশ্যে। লালসালু কাপড় দিয়ে মোড়ানো পুঁটলিতে বাঁধা অবস্থায় থরে থরে সাজানো থাকে পেয়ারার ভারগুলো। বর্তমানে প্রতি ভার (দুই পুঁটুলি) বিক্রি হচ্ছে ১হাজার থেকে ১২শ টাকা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা ভার কিংবা শ' হিসেবে কিনে নিলেও বাজারে খুচরা বিক্রি করেন ডজন হিসেবে।
বড় সাইজের প্রতি ডজন পেয়ারা ৮০-১০০ টাকা, মাঝারি সাইজের পেয়ারা ৬০/৭০ টাকা এবং ছোট সাইজের পেয়ারা ৪০/৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলাচলরত কোন যানবাহন থামলেই পেয়ারা হাতে নিয়ে ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা দৌড়ে যায় সেটির কাছে। যাত্রীরাও লোভ সামলাতে না পেরে সাচ্ছন্দ্যে কিনে নিচ্ছেন স্বাস্থ্যসম্মত কাঞ্চন পেয়ারা। মৌসুমের শুরু হওয়ায় বর্তমানে দাম কিছুটা বেশি। মাঝামাঝি সময়ে দাম কমলেও মৌসুমের শেষ দিকে আবারো পেয়ারার দাম বেশি হবে বলে জানান কয়েকজন পেয়ারা বিক্রেতা।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে উৎপাদিত পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার নির্মাণ ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পেয়ারা জুস কারখানা স্থাপণের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষকলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নবাব আলী বলেন, "দক্ষিণ চট্টগ্রামে উৎপাদিত পেয়ারা সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পাইকারি বাজারে পেয়ারা কিনতে আসা পাইকাররা সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছামত দামে পেয়ারা কিনে নিয়ে যায়। কোন কোন সময় পাইকারের বেঁধে দামে পেয়ারা বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন পেয়ারা নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় চাষীদের। হিমাগার না থাকায় সংরক্ষণের অভাবে এক প্রকার বাধ্য হয়েই পাইকারদের বেঁধে দেয়া দামে পেয়ারা বিক্রি করতে হয় চাষীদের। এতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পেয়ারা চাষীরা।"
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রাণী সরকার বলেন, এবছর ১২শ ৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। পেয়ারা বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ  বিষয়ে পুরোপুরি যাছাই-বাছাই ছাড়া কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সবজি সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১৭:৪৪, অক্টোবর ১৬, ২০২১

চট্টগ্রামে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে ক্যাব’র আলোচনা সভা


Los Angeles

১১:৪৫, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১

ফলের বাগানেই ঘুরে দাড়ালেন মিরসরাইয়ের আকবর


Los Angeles

১৩:১১, জুন ২৩, ২০২১

ইরান নয়, আমিরাত থেকেই বিটুমিন আনছে বে-টার্মিনাল


Los Angeles

২২:৫৩, এপ্রিল ৮, ২০২১

রাউজানের পশ্চিম গুজরায় ওয়ান ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন


Los Angeles

০০:২০, মার্চ ১০, ২০২১

বাম্পার ফলন-দেদারসে বিকিকিনিতে মুখরিত দোহাজারীর কলা’র আড়ত


Los Angeles

২১:২৫, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১

দোহাজারীতে টমেটোর বাম্পার ফলনেও বিপাকে চাষীরা : দামও কম, হিমাগারও নেই


Los Angeles

১৬:৩৮, ডিসেম্বর ১০, ২০২০

তৃপ্তি আর সফলতায় মাছ চাষে মগ্ন রাঙ্গুনিয়ার রাশেদ


image
image