শিরোনাম
প্রতিবেদক | ২০:৪০, আগস্ট ২৭, ২০২০
নগরীর চকবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ টমটম গাড়ির স্ট্যান্ড বসিয়ে নীরব চাঁদাবাজি করে আসছিল এরা। চকবাজার কাচাঁবাজার প্রবেশ মুখ হতে রাহাত্তার পুল, আন্দরকিল্লা পর্যন্ত দুটি টমটমের স্ট্যান্ড বসিয়ে দৈনিক ও মাসিক মাসোয়ারা নেন এসব চাঁদাবাজ তথাকথিত নেতারা। এ ঘটনায় গত বুধবার চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন- মো. নুরুল হাকিম (২০), মো. আলমগীর মিয়া প্রকাশ রুবেল (২৬), শহিদুল ইসলাম জায়েদ (৪৩) ও এসএম সামাদ (৩২)। এদের মধ্যে এসএম সামাদ নিজেকে চকবাজার ও বাকলিয়া এলাকার যুবলীগ নেতা পরিচয় দিতেন।
প্রতি গাড়ি থেকে দৈনিক ৪০ টাকা লাইন খরচ ও মাসে ১০০০ টাকা নেওয়া হয়। দুটি লাইনে আছে প্রায় ১০০০ গাড়ি। সেই হিসেবে প্রতিমাসে চাদাঁ আদায় হয় ১০ লক্ষ টাকা। চালক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া যায়।
জানা যায়, এস এম সামাদের বাড়ি চট্টগ্রাম উপজেলা বাশঁখালী। পুইছড়ি এলাকার গুরা মিয়া বাড়ির জনৈক ব্যক্তির ছেলে সামাদ। প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারেনি সামাদ। কখনো দোকানদার, কখনো দারোয়ান, কখনো অফিস পিয়ন। এমন কোনো কাজ নেই সে করেনি। আবদুস সামাদ থেকে হয়ে উঠে এস এম সামাদ। আস্তানা গড়ে চকবাজারে। পরিচয় দেন নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অবৈধ টমটমের স্ট্যান্ড বসিয়ে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে। অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া যায়।
চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগ নেতারা জানান, সামাদ নামে ওই কথিত যুবলীগ নেতা নামে দলে কেউ নেই। যারা যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
মহানগর যুবলীগ নেতা হেলাল উদ্দিন জানান, সামাদ নামে কাউকে চিনিনা। কেউ যদি দলের নাম ভেঙ্গে চাদাঁবাজি করে তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আকরাম হোসেন জানান, আমি চকবাজার এলাকায় থাকি। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অনেক অভিযোগ পেয়েছি। সে নিজেকে যুবলীগ পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে চাদাঁ আদায় করছে। আমরা মহানগরের সাথে কথা বলে এবং চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগ নেতাদের সাথ কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, চকবাজার এলাকায় অবৈধভাবে টমটম স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাদ নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দেন।
ওসি বলেন, তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা জব্দ করা হয়েছে। এসব টাকা চাঁদাবাজির টাকা। তারাি নিজেদের মধ্যে এই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। তাদের চাঁদাবাজি ছাড়া বৈধ কোনো পেশা নেই।
Developed By Muktodhara Technology Limited