শিরোনাম
কক্সবাজার ব্যুরো | ২১:০৪, ডিসেম্বর ১২, ২০২০
কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ার ভুমিদস্যু শফিক ও জসিম বাহিনীর হামলায় হোমিওপ্যাথ মেডিকেল কলেজ ছাত্র আরশাদ উল্লাহ মারাত্মক আহত হয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে খরুলিয়া বাজারস্থ শফিকের নির্মাণাধীন মার্কেটের ভেতর নিয়ে গিয়ে হামলার ঘটনা ঘটানো হয় ।
ঘটনাটি প্রকাশ কিংবা আইনের আশ্রয় নিলে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে ওই ছাত্রকে। বর্তমানে আহত ছাত্র আরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রামে চিকিৎসার পাশাপাশি এবং কলেজ পরীক্ষায়ও অংশ নিচ্ছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, নিরীহ মানুষের উপর একের পর এক হামলা, সশস্ত্র অবস্থায় জমি দখলসহ অসহায়দের বিভিন্ন কৌশলে হয়রানীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে খরুলিয়ার শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিকুর রহমান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া এলাকার এই শফিক বাহিনীর হাত থেকে এতিম পরিবার ছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা পর্যন্ত রেহায় পাচ্ছে না। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সড়ক বিভাগের জমিও দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। থানায় ও আদালতে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলার রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, খরুলিয়া বাজারপাড়ার মৌলভী এমদাদ উল্লাহর পরিবারের সাথে শফিকের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে আদালতে মামলাও হয় এবং গত ১৫ দিন আগে জমি বিরোধ নিয়ে বৈঠকও হয় । প্রশাসনের কাছে উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকও হয়। শালিস বৈঠকে শফিকদের জমির দাবীও ঠিকেনি। এরপরেও জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে শফিক বাহিনীর লোকজন।
সুত্রে আরো জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে (৮/১০ জন ব্যক্তি) দলবল নিয়ে বসতভিটা দখল ও হামলার জন্য আরশাদ উল্লাহর বসত বাড়ীতে এসে তার বাবা ও মায়ের সাথে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় কথা আছে বলে বসতবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় আরশাদকে। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে খরুলিয়া গরু বাজারস্থ শফিকের নির্মাণাধীন মার্কেটের ভেতরে আটকে রেখে তিনজন মিলে মেডিকেল কলেজ ছাত্র এমদাদ উল্লাহকে অমানষিক নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলায় নেতৃত্ব দেন জসিম উদ্দিন, আবদুর রহিম ও আবছার কামালসহ তাদের সহযোগিরা।
আহত আরশাদ চট্টগ্রামের আজিজুর রহমান হোমিও প্যাথিক মেডিকেল কলেজের ছাত্র বলে জানা গেছে। তাকে কক্সবাজার জেলা সদর ও পরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়।
আহত আরশাদ উল্লাহ জানান, তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করার বিষয়টি প্রকাশ করলে কিংবা মামলা মোকদ্দমা করলে তাকে হত্যার হুনকি দেয়া হয়। গুরুতর আহত হলে কলেজের পরীক্ষার কারণে সঠিক চিকিৎসা করতে পারেনি। আহত অবস্থায় কলেজ পরীক্ষায় অংশও নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনায় আমি আইনের আশ্রয় নিচ্ছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শফিক, জসিম, রহিম ও আবছারসহ আরো ১৫/২০ জন ব্যক্তি বাহিনী গঠন করে এলাকাবাসীকে উৎকন্ঠায় রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে খরুলিয়া এলাকার শফিক বাহিনী রাতের আঁধারে বিভিন্ন ব্যক্তির উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলাকায় এর আগেও বিভিন্ন সময় ত্রাস সৃষ্টি করে আধিপত্য বিস্তার ও জমি জবর দখল করে আসছে। তারা সব সময় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দ্বারা সজ্জিত থাকে।
গত কিছুদিন আগে ঝিলংজা ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিনের দোকান দখলের চেষ্টা চালায়। পরর্বতীতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার তৎকালীন ওসি ( তদন্ত) ইন্সপেক্টর খায়রুজ্জামান এই চেষ্টা ব্যর্থ করেন। এর আগে ঝিলংজা ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের নারী সদস্যা সাজেদার জমি দখল করেছে এই শফিক বাহিনী। খরুলিয়ায় এতিম পরিবারের উপর নৃশংসভাবে হামলা চালিয়ে নারীদের গুরুতর আহত করে বসতভিটা দখলের ঘটনাটি পুরো দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছিল।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত শফিক বাহিনী ভুমিদস্যু প্রকৃতির। তারা বিভিন্ন সময় জমি দখল সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে থাকেন। বাহিনী প্রধান শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানার মামলা নং-৭৫,জিআর-৫১৬, কক্সবাজার থানার মামলা নং-৮৪,জিআর-৪০৭ সহ নাশকতা, নারী নির্যাতন, মারামারি সহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।
এদিকে, এব্যাপারে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন।
Developed By Muktodhara Technology Limited