শিরোনাম
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | ১৫:৫২, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০
পাঁচ বছরের নোভা উঠোনের এক কোনে বসে কাদামাটি হাতে আপন মনে খেলছে। পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে শিশু নোভার কাছে তার বাবার কথা জানতে চাইলে, সে অস্পষ্ট ভাষাতে জানালো তার বাবা তাকে ফোনে বলেছে বাড়ি আসবে। শুধু তাই না, অনেক খেলনা নিয়ে আসবে। তখন সে আরো মজা করে খেলবে। এই ছোট্ট শিশুটির জানা নেই, তার বাবা আর কোনোদিন ফিরবে না। জন্মের পর শিশু নোভা তার বাবাকে কোনোদিন দেখেনি। বাবা মুফিজুর রহমান তার জন্মের অনেক আগেই প্রবাসী হন। ফোন আর ছবি দেখেই বাবা ডাকার সাধ পূরণ করেছে সে।
অন্যদিকে বড় মেয়ে নিশো চিৎকার করে বিলাপ করছে। প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে তাকে সান্তনা দিচ্ছেন। সে কারো সান্তনা মানছে না। বিলাপ করছে আর বলছে, বাবা তোমাকে দেখিনি অনেক দিন। তুমি বাড়িতে এসো। তোমাকে দেখতে চাই। অন্তত শেষ বারের মতো হলেও ...।
কথা হয় স্ত্রী আয়েশা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, ছয় বছর হলো তার স্বামী মুফিজুর রহমান সৌদি আরব থাকেন। গত রোববার (৫ ডিসেস্বর) এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর খবর।
আয়েশা বেগম কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, বড় স্বপ্ন নিয়ে তিনি বিদেশে গেলেন। আশা ছিলো। ঘর হবে। বাড়ি হবে। স্বচ্ছলতা আসবে। মেয়ের বিয়ে দিবে ধুমধাম করে। কিন্তু এখন তার সব শেষ। কিছুই পূরণ হলো না । আগামী মাসে দেশে আসার কথা ছিল। মেজো মেয়ের বিয়ের আয়োজন প্রায় শেষ কিন্তু কাল বৈশাখী ঝড়ের মতো হঠাৎ আসা সংবাদ সব স্বপ্নই তছনছ করে দিল ।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রবাসী মুফিজুর রহমান । বাংলাদেশ সময় শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিয়াদ শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিন রাজানগর ইউনিয়নে ৬নং ওয়ার্ড নাছির মোঃ তালুক গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে তিনি ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুফিজুর রহমান রিয়াদ শহরের বাসা থেকে বের হয়ে দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে একটি দ্রæতগতির গাড়ির ধাক্কায় তিনি মারা যান।
Developed By Muktodhara Technology Limited