শিরোনাম
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা | ২২:৫১, অক্টোবর ২৬, ২০১৮
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা সেতুর টোলমুক্ত করার দাবীতে পুলিশের সাথে সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাক চালকদের সংঘর্ষে ১জন নিহত এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে কমপক্ষে ১০জন । তবে পুলিশের দাবী এই ঘটনায় তাদের ৩০জন সদস্য আহত হয়েছে। নিহত যুবকরে নাম মোঃ সোহেল(২৯) ।
গুলিবিদ্ধরা হচ্ছে আলমিন(২৫), মোঃ মানিক(৩০), তাসলিমা বেগম(৩৫), মোঃ সিদ্দিক (৩৫), মোঃ আকাশ(৩৬) , মোঃ মাসুদ(৩২),মোঃ লাইজুল ইসলাম,(৪৩), মোঃ সাজু(৫৫), মোঃ বাক্কু মিয়া(৪৫) ,অজাত নামা এক ভিক্ষুক (৬০) ও এক প্রতিবন্দী যুবক।
দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই শ্রীবাস জানান নিহত সোহেলের লাশ ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। ওসি শহজামানকে রাজারবাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে।এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায় , প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু টোলমুক্তির দাবীতে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সেতুর দক্ষিন প্রান্তে হাসনাবাদ এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাক চালকরা মিছিল বের করে এবং সেতু দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় । এসময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে । আন্দোলনকারীরা এসময় পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাট খিল ছুরতে থাকে । এতে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বেধে যায়।পুলিশ ও আন্দ্যোলনকারীদের মধ্যে প্রায় ১ঘন্টা ধাওয়া-পাল্টা চলতে থাকে । পুলিশ এক পর্যায়ে পিছু হটে ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসের ভিতর ঢুকে পড়ে। এতে আন্দোলনকারীদের সাথে উত্তেজিত জনতা একত্রিত হয়ে পুলিশের উপর বৃষ্টিরমতো ইট-পাটখেল নিক্ষেপ করতে থাকে । এসময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি বর্ষন করলে সোহেল নামে এক যুবক পেটে রগুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় । এই ঘটনায় আরো ১০জন গুলিবিদ্ধ হয় । গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত আকাশ ও মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আল-আমিন,তাসলিমা, মানিকসহ ৫জনকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ইকুরিয়া জেনারেল হাসাপাতালে বাকী৩জনকে ভর্তি করা হয়েছে । ঘটনাস্থলে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সুমন নামে এক সিএনজি অটোনিকশা চালক জানান , কে আলম শিপিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়ে সেতুতে চলাচলকারী সকল যানবাহনের অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। আমরা এখন সেতুতে টোল মুক্ত করার দাবীতে আজ সকালে মিছিল বের করি। এতে পুলিশ আমাদের বাধা দিলে তাদের সাথে সংঘর্ষ বাধে । এসময় পুলিশ মিছিলকারীদের লক্ষ করে গুলি বর্ষন করলে সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং আরো ১০জন গুলিবিদ্ধ হয়।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম আহমে ভ’ইয়া জানান, দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান ও ওসি তদন্ত মোঃ কামাল হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিআরটিএ অফিসের ভিতর আক্রমন করা হলে পুলিশ আত্ব রক্ষার্থে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য রাবার বুলেট ও শর্টগান দিয়ে ফাঁকা গুলিবর্ষন করে। আন্দোলনকারীদের হামলায় ওসি প্রশাসন ও তদন্তসহ ৩০জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় তিনি আন্দোলনকারীদের সেতুতে টোল মুক্ত করার ঘোষনা দিলে আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়। পরে সেতু দিয়ে টোল মুক্ত অবস্থায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নিহত সোহেলের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানায় । সে হাসনাবাদ এলাকায় একটি মোটর গ্যারেজে কাজ করতো। আহতদের মধ্যে পথচারী মহিলা ,এক বৃদ্ধ ভিক্ষক ও এক প্রতিবন্ধী যুবক ছিল। এই ঘটনায় দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা হয়েনি।
Developed By Muktodhara Technology Limited