শিরোনাম
কক্সবাজার ব্যুরো | ০০:২২, মে ১, ২০২১
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জাধীন চকরিয়া খুটাখালী ন্যাশনাল পার্কের মাদার ট্রি গর্জন নিধনের ঘটনা ঘটছে।
দুটি বড় মাদার গর্জন কাছ কেটে পাচারের সময় বনবিভাগের বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকা থেকে আটক করেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিশেষ টহল দলের ওসি ও শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা আতা ইলাহীর নেতৃত্ব এ অভিযান চালানো হয়। জব্দকৃত মাদার গর্জন কাঠগুলো বনবিভাগের হেফাজনে আনা হয়েছে। আটক মাদার গর্জন গাছের মুল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকা।
জানা গেছে, চকরিয়া খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয় জাতীয় উদ্যান।
খুটাখালী মেধা কচ্ছপিয়া ন্যাশনালপার্ক এর দৃশ্যটা চোখে পড়ার মতো। মহাসড়ক হয়ে চট্টগ্রাম – কক্সবাজার যাওয়ার পথে যে কারো নজর কাড়ছে মাদার ট্রি সমৃদ্ধ এই উদ্যানটি। পর্যটকদের সুবিধার্থে উদ্যানের ফাঁকে ফাঁকে নির্মিত হয়েছে বিশ্রামাগার তথা টহলশেড। নিরাপত্তায় সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত।মেধা কচ্চপিয়া বন। জাতীয় উদ্যানের প্রধান বৃক্ষরাজির মধ্যে বিশালাকৃতির মাদার গর্জন গাছ ছাড়াও রয়েছে ঢাকিজাম, ভাদি, তেলসুর ও চাপালিশ।
কিন্তু এই ন্যাশনাল পার্কের মাদার গর্জন গাছ দিনদিন নিধন হওয়ায় পরিবেশবাদীদের ভাবিয়ে তুলেছে। প্রতিদিন রাতেই সংঘবদ্ধ কাঠ চোরাকারবারি সিন্ডিকেট মাদার গর্জন গাছ নিধন করে পাচারে মেতেছে। স্থানীয় মেধাকচ্ছপিয়া বনবিটের বনকর্মীরা অনেকটা নিরব দর্শক বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার যে কোন সময় মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান থেকে দুটি বড় মাদার গর্জন গাছ নিধন করা হয়। নিধন করা মাদার গর্জন গাছগুলো লক করে (গোলকাঠ) ডাম্পার যোগে পাচার করে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ঘাটকুলিয়াপাড়াস্থ বেঁড়িবাধের পাশে মজুদ করে।
বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিশেষ টহল দলের ওসি ও শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা আতা ইলাহীর নেতৃত্ব একদল বনকর্মী অভিযান চালিয়ে মাদার গর্জন কাঠগুলো (১৪ টুকরা গোল কাঠ) জব্দ করেন। তবে মাদার গর্জন গাছ পাচারে ব্যবহারিত ডাম্পারগুলো আটক না হওয়া অনেকে ভিন্ন চোখে দেখছেন।
আটক গর্জন কাঠগুলো ট্রলি যোগে বনবিভাগের হেফাজতে আনা হয়েছে।
উত্তর বনবিভাগের বিশেষ টহল দলের ওসি ও শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা আতা ইলাহীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদার গর্জন কাঠগুলো বেড়িবাধের পাশে পাওয়া গেছে। পাচারের ঘটনায় কারা জড়িত তা উদঘাটন হয়নি ও গাড়ি পাওয়া যায়নি।
এই মাদার গর্জন গাছগুলো আসলে কোন বনাঞ্চল থেকে কেটে পাচার করা হয়েছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানাতে পারেনি তিনি।
Developed By Muktodhara Technology Limited