শিরোনাম
মিরসরাই প্রতিনিধি | ১২:৫৭, জুন ২৭, ২০২১
মিরসরাই উপজেলার মিরসরাই পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাখের ইসলাম রাজুর বিরুদ্ধে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের নাম আজিম হোসেন শাহাদাত (২০)।
নিহত শাহাদাত ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হাসানগনিপুর এলাকার আব্দুল বাতেনের পুত্র।
শুক্রবার রাতে মিরসরাই পৌরসভার হোপ মা ও শিশু হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে।
এই বিষয়ে মিরসরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শনিবার (২৬ জুন) বিকেলে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে শাহাদাতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত শাহাদাতের পিতা আব্দুল বাতেন জানান, শুক্রবার (২৫ জুন) বিকাল ৪ টায় তার পুত্র আজিম হোসেন শাহাদাতকে (২০) কাউন্সিলর রাজুর লোকজন বাসা থেকে তুলে হোপ মা ও শিশু হাসপাতালের ৫ম তলায় নিয়ে যায়। আমি রাত ৮ টার দিকে ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি হাসপাতালের একটি কক্ষে মোটা লাঠি দিয়ে রাজু ও তার সঙ্গী ফরিদ, তারেক ও জাহিদ আমার ছেলেকে বেদড়ক মারধর করছে। আমি বাঁধা দিলে আমাকে মারধর করেন। রাজু তার হাতে থাকা গাছের লাঠি দিয়ে আমার ছেলের মুখের উপর জোরে আঘাত করলে তার সামনের দুটি দাঁত পড়ে যায়। এসময় তার মুখ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। এরপর আমাকে ডেকে ছেলেকে নিয়ে দ্রুত চলে যেতে বলে। না হয় আমাকেও মেওে ফেলার হুমকি দেয়। আমি ছেলেকে নিয়ে ফেনী যাওয়ার পথে সে মারা যায়।
তিনি আরো বলেন, আমার ছেলেকে বিনা অপরাধে রাজু ও তার লোকজন হত্যা করেছে। কি এমন দোষ করলো যে তাকে একেবারে মেরে ফেলতে হবে? আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
খবর নিয়ে জানা যায়, কাউন্সিলর রাজু মিরসরাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হোপ মা ও শিশু হাসপাতালে একটি কক্ষকে টর্চার সেল বানিয়ে বিভিন্ন সময় লোকজনকে ধরে নিয়ে মারধর করেন। কেউ তার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। গত কয়েকদিন পূর্বে বারইয়ারহাট পৌরসভার মাইক্রো স্ট্যান্ডে একটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় বিচার করার নামে শাহাদাতকে পিটিয়ে হত্যা করেন। শনিবার বিকেলে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে নিহত শাহদাতের মা কাউন্সিলর রাজুর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো। বাবা আব্দুল বাতেন একটি বেকারীতে কাজ করে। মিরসরাই কলেজ রোড়ে অবস্থিত একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন শাহাদাত। তাদের নিজ বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হাসানগনিপুর এলাকায় হলেও তারা দীর্ঘসময় ধরে সাবেক সাংসদ এম এ জিন্নাহর দিঘির পাড়ে আমজাদ মেম্বার বাড়ির নুর হোসেনের ঘরে ভাড়া থাকতেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই মিরসরাই পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাখের ইসলাম রাজু পলাতক আছেন। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে বারবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, নিহতের পিতা আব্দুল বাতেন বাদি হয়ে মিরসরাই থানায় একটি হত্যা মামলা রুজুর পক্রিয়া চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালের একটি শয়ন কক্ষ থেকে রক্তাক্ত তোশক জব্ধ করা হয়েছে। আসামীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited