শিরোনাম
সীতাকুন্ড প্রতিনিধি | ১৮:৫২, জুন ২৯, ২০২১
গৃহহীনদের গৃহদান লক্ষে মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে সীতাকুন্ডে ৪১টি ঘর পাচ্ছেন গৃহহীনরা। এরমধ্যে উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে পাহাড়ের পাদদেশে ৩১টি, সোনাইছড়ি নৃ-গোষ্ঠী উপজাতীকে ১০টি নির্মাণাধীন ঘরের নামের তালিকায় স্বচ্ছলব্যক্তি, সন্ত্রাসী রয়েছে। অনেকে তাদের নিজস্ব পাকাভবন ভেঙে এই তালিকায় নাম তুলেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং তালিকা যাচাই করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সীতাকুন্ড উপজেলার দক্ষিনে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ, খুলশী, আকবরশাহ সংলগ্ন জঙ্গল ছলিমপুর। পাহাড় সংলগ্ন খাস জায়গায় (১নং খাসখতিয়ান) ৩১ গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সেমিপাকা ঘর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীতে এই ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে গৃহহীনদের প্রদান করবেন। তবে কখন এই হস্তানাস্তর হবে তা বলতে পারেননি ইউএনও মোঃ শাহদাৎ হোসেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি স্বচ্ছল গাজী ছাদেকের নামে বরাদ্দকৃত ঘরটি বিক্রি করা হয়েছে মর্জিনা আক্তার নামে এক মহিলার কাছে। তালিকায় থাকা অধিকাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে, সন্ত্রাস, হত্যা, ধর্ষণ মামলা। বরাদ্দ তালিকায় আছে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার গোলাম গফুরের আত্বীয় স্বজনরাও। তবে এ তালিকায় কয়েকজন পঙ্গু ও ভবঘুরের নামও রয়েছে যারা প্রকৃতেই পাওয়ার যোগ্য। যার ফলে সকলের কাছে প্রশংশিত হয়েছে।
তালিকায় নাম থাকা ৩১ জনের মধ্যে ২৫জনই সীতাকুন্ডের বাসিন্দা নন। তারা ইতিমধ্যে ভোটার তালিকায় ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য সীতাকুন্ড নির্বাচন অফিসে যোগযোগ করছেন বলে জানা গেছে। সরকারি নীতিমালার আলোকে গৃহহীন ব্যক্তিরা নিজ উপজেলার বাসিন্দা হতে হবে। তা না হলে এই ঘরগুলো পাবেন না। যার কারণে বরাদ্দের তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা নাম পরিবর্তন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
জঙ্গল ছলিমপুরের বাসিন্দা আবুল হাসেম বলেন, গৃহহীনদের নামের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা প্রকৃত গৃহহীন নয়। অনেকে সরকারি খাস জমি দখল স্বত্ত্ব কিনে পাকা ভবণ নির্মাণ করেছিলো। তাদের মধ্যে কয়েকজন তাদের পাকা ভবন ভেঙে এই ঘরের জন্য আবেদন করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে খাস জমির খতিয়ান সৃজন করে জায়গার বৈধ মালিক হওয়া।
জঙ্গল ছলিমপুর ছিন্নমূল এলাকার বাসিন্দা ছলিমপুর ইউপি সদস্য গোলাম গফুর বলেন, তালিকায় থাকা সবাই সীতাকুন্ডের বাসিন্দা ও প্রকৃত গৃহহীন। তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে যারা ঘর পাচ্ছেন তারা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। খাস জমিতে ঘর নির্মাণকারীরা এবার সরকারী বরাদ্দ পাওয়া ঘরের বিপরীতে খতিয়ান সৃজিত হওয়ার আশায় এই সুযোগটি নিচ্ছেন।
এদিকে জানা গেছে সীতাকুন্ডে খাসজমি বন্দোবস্ত বন্ধ রয়েছে। যেখানে ঘরগুলো হচ্ছে ওখানে খাস জায়গাগুলো সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে।ওখানে প্রতিশতক খাসজায়গা দখল স্বত্ত্ব বিক্রি হয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায়।
সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গৃহহীনদের ৩১টি ঘর দেওয়ার প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হয়েছে। তাদের নামে তালিকা অনুমোদনের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠানো হয়েছিল। নামের তালিকা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠায় অধিকতর যাচাই বাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসক আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। নিয়মবর্হিভূত বিতর্কিত কোন লোকের নাম তালিকায় থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে।
ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সালাহউদ্দিন আজিজ বলেন, জঙ্গল ছলিমপুরে ৩১ ঘরের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া তালিকায় অধিকাংশই সন্ত্রাসী। এছাড়া ওই পাহাড়গুলোতে বরাদ্দ পাওয়া সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে আগেও ঘর করেছে। ইতিমধ্যে কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযানও হয়েছিল। সীতাকুন্ডে আরো কয়েকশত ঘর প্রয়োজন প্রকৃত ভূমিহীনদের আশ্রয় দেয়ার জন্য। আশা করি পর্যায়ক্রমে তা ব্যবস্থা হবে।
Developed By Muktodhara Technology Limited