শিরোনাম
চন্দনাইশ প্রতিনিধি | ১২:২৭, জুলাই ১১, ২০২১
চন্দনাইশ উপজেলার পাহাড় বেষ্টিত দুর্গম ধোপাছড়ি ইউনিয়নে ফলদ গাছের বাগান কেটে বনবিভাগের যায়গা উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১০ জুলাই) ভোর রাতে ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম ধোপাছড়ি চাপাছড়ি এলাকায় আবুল বশরের পেঁপে ও আপেল কুল, আহমদ হোসেন ও জরিনা বেগমের লেবু ও সুপারি বাগান কেটে বনবিভাগ তাদের ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছে বলে তাদের দাবি।
জানা যায়, ওই এলাকার জলিল বকসু নামের এক ব্যক্তি বনবিভাগের যায়গায় বসবাস শুরু করে গত ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন ধরণের ফলফলাদির বাগান করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় তার পুত্র আবুল বশরও বাগান সৃজন করেন।
আবুল বশর জানান, তিনি সোনালি ব্যাংক দোহাজারী শাখা, গ্রামীণ ব্যাংক দোহাজারী শাখা, আইডিএফসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় পনের লাখ টাকা ব্যয়ে ফলদ বাগান গড়ে তোলেন। গত ১০ মাস আগে প্রায় ৬ হাজার পেঁপে গাছের চারা রোপণ করেন। একই বাগানে সম্প্রতি কাশ্মিরী আপেল কুলের ২ হাজার চারা রোপণ করেন। পেঁপে গাছে ফলন আসা শুরু করেছে। তিন দফায় প্রায় দেড় লাখার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন এই বাগান থেকে। এছাড়া পেঁপে বিক্রির জন্য চুক্তি করে এক পাইকার থেকে অগ্রীম দুই লাখ টাকা নিয়ে বাগান পরিচর্যা ও শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়েছেন। কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া বনবিভাগ তার বাগান কেটে দেয়ায় তিনি নিঃস্ব হয়ে এখন পুরো পরিবার নিয়ে পথে বসেছেন।তার স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, বাড়ি ভিটা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করা ছাড়া এখন আমাদের আর কোন উপায় নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল জব্বার বলেন, ''আবুল বশরের পিতা রেজিস্ট্রিকৃত ভিলেজার হিসেবে সরকারি কাজে সহযোগিতা করেছিলেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন ফলফলাদির বাগান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। পিতার ধারাবাহিকতায় আবুল বশরও ফলের বাগান সৃজন করেছিলেন। কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া কয়েক হাজার পেঁপে গাছ কেটে ফেলাটা অমানবিক কাজ হয়েছে। এই অমানবিক কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"
এব্যাপারে বনবিভাগ দোহাজারী রেঞ্জ কর্মকর্তা সিকদার আতিকুর রহমান বলেন, পশ্চিম ধোপাছড়ি মৌজায় বিএস দাগ নং ১৬৭৩ এবং ১২২৩ এ দুই একরের মত যায়গা দখলে ছিলো আবুল বশরের। পর্যায়ক্রমে সে বনবিভাগের প্রায় ১০ একরের মত যায়গা দখল করে অবৈধভাবে বাগান সৃজন করে।
বেদখল হয়ে যাওয়া বন বিভাগের আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ একর যায়গা উদ্ধার করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বার বার চেষ্টা করা সত্বেও কোনক্রমেই উদ্ধার করা যাচ্ছে না বিধায় এবিষয়ে গত বছর ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন আদালতে আবুল বশরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন আদালতে চলমান রয়েছে। প্রতি বছর বনায়নের উদ্দেশ্যে চারা রোপণের জন্য তাকে একাধিকবার যায়গা ছেড়ে দিতে বললেও সে যায়গা ছেড়ে দেয়নি। উপরন্তু বন মামলা চলমান থাকা সত্বেও সে উত্তরোত্তর জবর দখল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ফলজ চারা লাগিয়ে বন বিভাগের যায়গা দখল করতেছে। এবিষয়ে তাকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে, কোন ভাবেই সে থামছেনা। চলতি বছর বনায়ন করার জন্য সম্পূর্ণ আইনগতভাবে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১০ একরের মত সরকারি ভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। এখন সেখানে নতুন করে গাছের চারা রোপণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, " এখানে যারা ভিলেজার হিসেবে আছেন তারা বনবিভাগের যায়গায় সাময়িকভাবে ফসল চাষাবাদ করেন। বনবিভাগের যখন যায়গা প্রয়োজন হবে তখন তারা যায়গা ছেড়ে দেন। বর্তমানে আমাদের বনায়নের কাজ চলমান রয়েছে। বনায়নের জন্য যায়গা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
Developed By Muktodhara Technology Limited