শিরোনাম
বোয়ালখালী প্রতিনিধি | ১২:১৮, আগস্ট ২, ২০২১
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে নারীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালখালী থানা পুলিশ।
শনিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় বোয়ালখালী পৌরসভার মীরপাড়া নুরজাহান ম্যানশনের রোকেয়া বেগমের ভাড়া বাসায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রাতেই ধর্ষিতা প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,পূর্ব গোমদন্ডী মীর পাড়া গ্রামের মো. বদিউল আলমেল ছেলে মো. কামাল হোসেন প্রকাশ:- ধামা কামাল (৪২) , মীরপাড়া হামিদুল হক মুন্সির বাড়ীর নুরুল ইসলামের ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন (২৮) ও ৫নং সারোয়াতলী খিতাপচর, ০৫ নং ওয়ার্ডের জব্বর সওদাগরের বাড়ীর আবুল বশরের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার (৩০)।
খবর পেয়ে রবিবার (০১ আগষ্ট) সকালে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক (পিপিএম) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) মো. তারিক রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী অধিকারের এই প্রতিবেদকে বলেন, আমার ৭ মাসের কন্যা সন্তানটি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে (৩১ জুলাই) শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩ টায় বোয়ালখালী উপজেলা সদরের হাসপাতালের সামনে একটি ফার্মসি থেকে ঔষুধ কেনার জন্য যাই। ওই সময় আমি আমার পূর্বপরিচিত রোকেয়া বেগমের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ধার নেয়ার জন্য ফোন করি। রোকেয়া আমাকে তার বাসায় যেতে বলেন এবং রফিক নামের এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে তার বাসায় আমাকে নিয়ে যান। এ সময় কামাল ও গিয়াস রোকেয়ার বাসায় আসেন। তারা রোকেয়ার সহযোগিতায় আমাকে জোরপূর্বক নুর জাহান ম্যানসনের একটি খালি রুমের ভেতর নিয়ে যান। সেখানে আমার মুঠোফোনটি কেড়ে নিয়ে ফেলে কামাল। তাতে বাধা দিলে রোকেয়া আমাকে চড়থাপ্পড় মেরে রুম থেকে চলে যান এবং বাইরে থেকে দরজার সিটকিনি লাগিয়ে দেন। ওই সময় কামাল ও গিয়াস আমাকে রুমের ভেতর জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।
এসময় আমার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির জনৈক সাইফুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি এগিয়ে আসলে তার সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে আমাকে উদ্ধার করে। আমি দ্রুত বোয়ালখালী থানায় গিয়ে বিষয়টি আমি বোয়ালখালী থানার ওসি আব্দুল করিমকে খুলে বললে তিনি সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) মো. তারিক রহমান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি একজন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, নির্যাতিত মহিলার কথা শুনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করি।এবং অভিযুক্ত নারীসহ ধর্ষণকারী আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।
পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে, আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited