শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪:২৮, আগস্ট ৮, ২০২১
নিজ পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামে দুই চাপাতিসহ সুজন দাশ (৪২) নামে এক যুবককে কৌশলে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মধ্য দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে নগরীর ডবলমুরিং থানা পুলিশ।
শনিবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে নগরীর গোসাইলডাঙ্গা প্রগতি শিপিং এলাকার পেছনে মিনু ম্যানশনে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার হওয়া সুজন দাশ চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার পূর্ব মেখল আলীপুর গ্রামের সাধন মেম্বারের বাড়ির মৃত সাধন দাশের ছেলে।
জানা যায়, ১৩ বছর আগে সুজনের বিয়ে হয় সুতৃষ্ণা দাশের সাথে। এই ঘরে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। তারা চট্টগ্রামের আসকার দীঘি এলাকায় থাকেন। সম্প্রতি সুজন আরেক মেয়ের সাথে পরকিয়া করতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে ধরা পড়ে যান। এটা নিয়ে দু'জনের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হয়। সর্বশেষ ৩দিন আগে এ বিষয়ে তুমুল ঝগড়া হলে সুতৃষ্ণা পূর্ব গোসাইলডাঙ্গা মিনু ম্যানশন বাবার বাড়ি চলে আসেন। বারবার তাকে বাড়ি ফিরে যেতে বললেও সুতৃষ্ণা বাবার বাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি হন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই সুতৃষ্ণা ও তার বাবা-মাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন সুজন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন দুইটি চাপাতি কেনেন। শনিবার রাতে যখন ওই দুই চাপাতি নিয়ে মিনু ম্যানশনের ৫ম তলায় উঠছিলেন তখন তাকে দেখে ফেলেন সুতৃষ্ণা। তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। সুজন প্রথমে দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা না খোলায় এলোপাতাড়ি দরজায় কোপাতে থাকেন। এতে দরজা কিছুটা নড়বড়ে হলে ভেতরে আলনা, টেবিল, সোফা দিয়ে দরজা আটকে রাখেন সুতৃষ্ণা ও তার পরিবার। এসময় সেখান থেকে থানায় ফোন দিলে রাত ১১ টা ১০ মিনিটে পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। কিন্তু পুলিশকে দেখে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সুজন। এসময় চাপাতি নিয়ে পুলিশের দিকেও তেড়ে আসেন কয়েকবার। এক পর্যায়ে নিজের গলায় চাপাতি ধরেন তিনি! পুলিশ চলে না গেলে নিজেকে 'শেষ ' করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সুজন নিজের গলায় চাপাতি ধরে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে কিছুটা পুলিশকে বিপাকে পড়তে হয়। পুলিশ হত্যার হাত থেকে অন্যদের রক্ষা এবং সুজনকে জীবিত উদ্ধারে কিছুটা কৌশলী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। পরে একঘন্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে পুলিশকে জিম্মি করে বাঁচতে চেয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টা, হত্যা প্রচেষ্টা ও হুমকি প্রদর্শনের অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited