image

আজ, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১ ইং

জনগণের প্রত্যাশা, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই নির্বাচনে আছি : কাউন্সিলর আবদুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১৮:০৯, মার্চ ১৬, ২০২০

image

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদকে ঘিরে শিক্ষিত ও অগ্রসরমাণ ওয়ার্ড হিসেবে ২৮নং দক্ষিণ পাঠানটুলী ওয়ার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। ২লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধলক্ষের কাছাকাছি ভোটারের বসবাস গুরুত্বপূর্ণ এ ওয়ার্ডে। বর্তমান কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ¦ আবদুল কাদের। ২৯ মার্চ, ২০২০ইং অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনেও যিনি “ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট“ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

আসন্ন নির্বাচন, দায়িত্বপালনকালীন সময়ের সফলতা-ব্যর্থতা, আগামীর পরিকল্পনা এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সিটিজি সংবাদ.কম এর সাথে। পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো আলাপচারিতার চুম্বক অংশ :-

সিটিজি সংবাদ : আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন আপনি ? 
আবদুল কাদের : ওয়াআলাইকুমাসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভাল। সিটিজি সংবাদ.কম এর পাঠক তথা এলাকাবাসী ও নগরবাসীকে আমার সালাম/আদাব/নমষ্কার।

সিটিজি সংবাদ : আপনি বর্তমান কাউন্সিলর। দায়িত্বপালকালীন এ ৫ বছরে আপনার সফলতার কথা শুনতে চাই।
আবদুল কাদের : আমি দায়িত্বপালনকালীন সময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পন্ন করেছি। নতুন স্কুল ভবন ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ,  রাস্তাঘাট প্রশস্ত, কালভার্ট নির্মাণ, স্কুল কলেজ সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসণে পদক্ষেপ, বয়স্কভাতা, মাতৃদুগ্ধভাতা, প্রতিবন্ধীভাতাসহ নানা উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ পরিচালিত করেছি, সিটি কর্পোরেশন ও সরকারী নানা প্রকল্পের আওতায়। আমার এলাকা নিচু এবং বন্দরের পাশ্ববর্তী হওয়ায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতা ছিল প্রচুর। এখন ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতাও অনেকাংশে কমেছে। সামনের দিনে আমরা এটা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারব বলে বিশ্বাস করি ইনশাল্লাহ।

সিটিজি সংবাদ : এতো গেলো সরকারী উন্নয়ন কমযজ্ঞের কথা, সামাজিক দায়বদ্ধতায় আপনার উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের কথা বলুন।
আবদুল কাদের : সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করতে দলমত সকলকে নিয়ে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল কমিটি করে জোরদার কর্মকান্ড পরিচালনা করেছি। বাড়ী বাড়ী গিয়ে উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। স্কুলে ঝড়ে পড়া রোধে মা’দের নিয়ে মা সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা করেছি। ইভটিজিং রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এলাকার বখাটেদের শোধরাতে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গীবাদ, ইভটিজিং, শিক্ষা সচেতনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করেছি।

সিটিজি সংবাদ : কাউন্সিলর’তো ছিলেন। দলীয় সিন্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেন আবার নির্বাচন করছেন ?
আবদুল কাদের : কাউন্সিলর থাকাকালীন মানুষের মায়া, মমতা, স্নেহ, ভালবাসা আমাকে আবার নির্বাচন করতে প্রেরণা যুুগিয়েছে। বলতে পারেন, জনগণের চাহিদা বা ইচ্ছাতেই নির্বাচন করছি। রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্খাকে প্রাধান্য দিতে হয়। ৫ বছরে যে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আগামীতেও এভাবে এলাকার মানুষের সাথে থাকতে চাই। আর যেটা বললেন, দলীয় সিন্ধান্তের বাইরে আসলে সেরকম কিছু নয়। কারণ, কাউন্সিলর নির্বাচন দল সেভাবে প্রাধান্য পায়না। এখানে দলীয় প্রতীকও নেই, দলীয় প্রধানের ছবিও ব্যবহার করা যায়না কিংবা দল মনোনীতও লেখা যায়না। সুতরাং এটা এক ধরণের স্বতন্ত্র নির্বাচনই বলতে পারেন। যারা পোস্টারে “আওয়ামীলীগ মনোনীত“ লিখেছেন, তারা আচরণবিধি লঙ্গন করেছেন।

সিটিজি সংবাদ : দলের সমর্থনের বাইরে যারা নির্বাচন করছেন, তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেছেন দায়িত্বশীলরা, বিষয়টি নিয়ে বলুন।
আবদুল কাদের : আসলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেতৃবৃন্দ অনেক ধরণের কথা বলবেন এবং নির্দেশনাও দিবেন। রাজনীতিতে আসলে সেভাবে সবকিছু বাস্তবায়িত হয়না। বহিষ্কার হলে, হবো। দীর্ঘ ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিইনি। আদর্শ এবং নীতির ব্যাপারে আপোষহীণ থেকেছি। সুতরাং দল যেটা ভাল মনে করবে, সেটাই করবে।

সিটিজি সংবাদ : নির্বাচন না করতে কিংবা সরে দাঁড়ানোর কোন চাপ আছে কিনা ? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও কিছু বলুন।
আবদুল কাদের : এখন পর্যন্ত সে ধরণের কোন চাপ নেই। প্রশাসনের ভূমিকাও সন্তোষজনক। তবে আমার প্রতিদ্বন্ধী এক প্রার্থী নিজেকে সরকার সমর্থিত দাবী করে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। আমরাও তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। হাইব্রিড কিংবা উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। এ দলের জন্য অনেক ত্যাগ, শ্রম দিয়েছি। হামলা-মামলা কম সইতে হয়নি। দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার মানুষের ভালবাসার কাছে এগুলো কখনো পাত্তা পায়নি, সামনেও পাবেনা ইনশাল্লাহ।

সিটিজি সংবাদ : নির্বাচন নিয়ে কোন শঙ্কা আছে কি ? দল সমর্থিত প্রার্থী আলাদা কোন সুবিধা পাবেন কিনা ?
আবদুল কাদের : কোন শঙ্কা নেই। তাছাড়া বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। ঢাকা সিটির নির্বাচন যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রশাসন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাছাড়া দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সমর্থক সবাই আমাদের সাথে আছেন। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম বলেই আজকের মূল্যায়ন। তারা এমনিতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। কোথাও কোথাও পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে, মাইকিংয়ে বাধা দিছে কিন্তু আমরা গোলযোগ কিংবা পেশী শক্তিতে বিশ্বাসী নই। জনগণ চাইলে নির্বাচিত হব, নইলে না। জনরায়ের প্রতি আশি শতভাগ শ্রদ্ধাশীল।

সিটিজি সংবাদ : আগামীর পরিকল্পনা বলুন।
আবদুল কাদের : আমার এলাকার একটি স্কুল খুব জরাজীর্ণ ছিল। আমার প্রচেষ্টা এবং মেয়র মহোদয়ের আন্তরিকতায় সেটি ৫তলা ভবন হয়েছে। আমাকে যদি আল্লাহর রহমতে জনগণ আবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে আমার ওয়ার্ডে একটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং একটি মহিলা কলেজ ও মাদ্রাসা করার পরিকল্পনা আছে। একটি বাইপাস সড়ক করার পরিকল্পনা আছে। যাতে সময় ও অর্থ বাঁচিয়ে জনগণ আগ্রাবাদে যাতায়াত করতে পারে। এখন মূল সড়কে জ্যামে আটকা পড়ে মানুষকে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। ভিতর দিয়ে বাইপাস সড়ক করার জন্য নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করে এ বাইপাস করা হবে। তাতে মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আমার বিশ^াস। তাছাড়া শিশু,কিশোর, তরুণ এবং যুবকদের জন্য খেলার মাঠের সংকট কাটাতে মাঠ নিয়েও আমার ভাবনা আছে।

সিটিজি সংবাদ : নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী ?
আবদুল কাদের : ইনশাল্লাহ আমি আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে। আমি মানুষের যে ভালবাসা, সমর্থন, দোয়া পেয়েছি এবং যেখানেই যাচ্ছি যে সাড়া পাচ্ছি তাতে আমি সত্যিই আবেগ আপ্লুত। আমি জনগণের এ ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। জনগণ আমাকে নিরাশ করবেনা সে বিশ্বাস আমার আছে।

সিটিজি সংবাদ : জনগণ এবং ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার ম্যাসেজ কী ?
আবদুল কাদের : সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কেন্দ্রে আসুন, ভোট দিন। আমি আগামীতে আপনাদের সাথে থাকব ইনশাল্লাহ। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। আমি আপনাদের ছিলাম, আছি এবং থাকতে চাই।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১৬:০৬, অক্টোবর ২১, ২০২০

একজন শিক্ষক ও উদ্যোক্তা সালমার সফলতার গল্প


Los Angeles

০১:০২, অক্টোবর ১৭, ২০২০

বাঁশিতেই যার হাসি (ভিডিও)


image
image