শিরোনাম
উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | ১৭:১৩, মার্চ ২৩, ২০২১
উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শিশু সহ ১৬ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ী ঘর,দোকান ও শতাধিক স্থানীয় বসতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২ শত কোটি টাকার মত।প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ মহা সড়ক ও আশপাশের খোলা আকাশের নিচে রোহিঙ্গারা জড়ো হয়ে বিলাপ ধরে কাঁদছেন। ঘর নেই, বাড়ি নেই, নেই মাথা গুজার ঠাঁই তাদের। দুগ্ধপোষ্য শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা রয়েছেন সবচেয়ে দুরাবস্থায়।এই অবস্থায় বালুখালীর আগুনে পুড়া পরিবার গুলোতে দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব।
প্রকট আকার ধারন করেছে বিশুদ্ধ পানি সংকট। সব মিলিয়ে এক প্রকার মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পরিবারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কাজ করছেন ক্ষতিগ্রস্থদের। তবুও হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে ক্যাম্প এলাকায়।
রোহিঙ্গা নেতাদের দাবী শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শিশুসহ ৭জন নিহতের খবর পেয়েছি।তিনি জানান,রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা ঝুপড়ী ঘর,দোকানপাট ও স্কুল পুড়ে যায়।তবে রোহিঙ্গাদের দাবী অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শিশুসহ ১৬ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ৮,৯,১০,১১,১২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে গেছে ১০ হাজারেরও বেশী রোহিঙ্গাদের ঝুঁপড়ি ঘর, দোকান। এছাড়াও পুড়ে গেছে দেশী বিদেশী বিভিন্ন এনজিও অফিস ও পুলিশ ব্যারাক।
পালংখালীর ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন জানান, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের ঘটনায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু বালুখালী কাসেম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও আশে পাশের আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের অনেকের স্বজন নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় বাংলাদেশীদের অন্তত শতাধিক পরিবারের বসতি পুড়ে যায়।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো: এমদাদুল হক জানান, ‘দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সোমবার রাত ১০ টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলা যাচ্ছেনা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক। অন্তত দেড়/দুই কিলোমিটার এলাকা আগুনের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রফিকুল ইসলাম জানান,রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন সোমবার রাতে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী ও সেনাবাহিনী সহ ৭টি ইউনিট কাজ করেছে। তবে আগুনে কি পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্নয় করা কঠিন।
উখিয়ার বালুখালী ৮নং এপিবিএন’র অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো: শিহাব কায়ছার জানিয়েছেন, ‘আগুনে বালুখালীতে অবস্থানরত ৪নং এপিবিএনের ব্যারাক আংশিক পুড়ে গেছে। তবে অস্ত্র ও মুল্যবান আসবাবপত্র নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আগুনে রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘর ছাড়াও বেশকিছু এনজিও অফিস, স্কুল-মাদ্রাসা পুড়ে গেছে।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বালুখালী বাজারসংলগ্ন মার্কেট এলাকা। এখানে কয়েক শ দোকান পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের পরিচালিত দোকানগুলোর একেকটিতে কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্যসামগ্রী ছিল।
এই বাজারসংলগ্ন স্থানীয়দের দু-তিন শ বাড়িঘরও পুড়ে গেছে।
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি আব্দুল হামিদ জানান, আগুনে তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় ৫শতাধিক ঘরসহ অন্তত এক হাজারেও বেশী ঝুঁপড়ি ঘর পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সবচেয়ে মার্কেট বালুখালী বলিবাজার। এতে ১০০ কোটি টাকার মুল্যের মালামাল পুড়ে গেছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা জানান, উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আকস্মিক অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এখনো পর্যন্ত কি পরিমাণ রোহিঙ্গাদের বসতি ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি।
তিনি আরও জানান,ক্যাম্পে আগুন লাগার শুরু থেকে ফায়ার সার্ভিসের উখিয়া স্টেশনের দুইটি ইউনিটের পাশাপাশি টেকনাফের ২ টি, কক্সবাজারের ২ টি এবং রামুর ১ টি ইউনিট ১০ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুণের সূত্রপাতের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গরবার সকাল ১১ টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়েরর সচিব মোঃ মোহসীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
এছাড়াও চট্টগ্রাম রেন্জের পুলিশের ডিআইজি আনোয়ার হোসের,কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃমামুনুর রশীদ,কক্সবাজার পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান, এপিবিএন এর এসপি তরিকুল ইসলাম,উখিয়া নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ,উখিয়া থানার ওসি আহম্মদ সনজুর মোরশেদ প্রমুখ।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত ৭ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯ নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোঃ ছৈয়দ (৪৫) নুর মোহাম্মদ (৩৮) মৌলভী উসমান(৪২) মোঃ ইউনুছ(৪১) সিরাজুল হক(৪৫) জকরিয়া(৬৫) ও ৮ নং ক্যাম্পের আব্বাস উদ্দিন(৪০) মোঃ রফিক উদ্দিন(৩২) ও লায়লা বেগম(৪৫) জানান,আল্লাহ আমাদের উপর এত পরিক্ষায় কেন ফেলেছেন বুজতে উঠতে পারছিনা।মিয়ানমারের ক্ষত কাটিয়ে উঠার চেষ্টার মাঝে বাংলাদেশেও ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা চরম আতংকিত করেছে।আজ এখানেও আগুনে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি
উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডে আহত শতাধিক
Developed By Muktodhara Technology Limited