শিরোনাম
ইকবাল কবির, ব্যুরো চীফ (ঢাকা) | ০০:০৫, মার্চ ২৮, ২০১৯
নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষার অগ্রদূত ও মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছাই বাঁচতে পারে পুরান ঢাকার শত শত হতদরিদ্র বাবা- মা এর কন্যা সন্তানের লেখা-পড়ার স্বপ্ন। কথাগুলো অত্যন্ত আস্হা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলছিলেন মিটফোর্ডের নলগোলায় অবস্থিত প্রায় অর্ধশতাব্দীর পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহ আব্দুল হামিদ কালান্দার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত নলগোলায় মেয়েদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসহায় হতদরিদ্র বাবা-মায়ের মেয়েরাই মূলতঃ জ্ঞান অর্জন করতে আসেন।কিন্তু গত আট চল্লিশ বছরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভুমি নিজের নামে না হওয়ায় তিন/ চার শত বছরের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মেয়েরা পড়াশোনা করছেন।
পুরনো ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের পেছনে মিটফোর্ডের ৯ নাম্বার নলগোলায় প্রায় চল্লিশ শতাংশ জায়গা নিয়ে ১৯৭৩ সালে পরিত্যক্ত ভবনটি স্হানীয় চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দীন ওরফে বগু চেয়ারম্যান মুন্সিগঞ্জের কালান্দার গ্রামের ধর্মীয় গুরু শাহ আব্দুল হামিদ কালান্দার এর নামে এই এলাকার হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের পেশাজীবি ও শ্রমজীবীদের নারী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিনা বেতনে পড়া-লেখার ব্যবস্হা করতেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পাশেই ক্ষুদ্র-কুটির শিল্প (বিসিক)এর বিভিন্ন কারখানার শ্রমজীবী এবং নদীর ওপার কেরানীগঞ্জের গরীব ঘরের মেয়েদের মাঝে নারী শিক্ষায় জ্ঞান অর্জনে বেশ সারা জাগায় বিদ্যালয়টি।
স্বাধীনতার পর স্কুলটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ঢাকা জেলা প্রশাসনের তালিকাভুক্ত হয়। কয়েক শতাব্দীর জরাজীর্ণ এই পুরনো ভবনেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন শিক্ষকরা। ৯৬ সালে স্হানীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেন পাশা-পাশি সরকারের কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্হা করেন। সরকারের এমপিও ভুক্ত হওয়ার পরও ২০১০ সালের পর থেকে চার বার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ এবং বহুতলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিলেও জেলা প্রশাসন ভবনটির মালিকানা স্কুলটিকে না দেয়ায় চার বারই অর্থ ফেরত যায়।
২০১০ সালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবনটি তাদের নামে বরাদ্দ দেয়ার অথবা ভেঙ্গে ফেলার অনুমতির আবেদন করেও সাড়া পায়নি। জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, আইন অনুযায়ী অর্পিত সম্পত্তির ভবন ভাঙ্গা যাবে না। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় একাধিকবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার নোটিশ দিলেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আইনের দোহাই দিয়ে ভাঙ্গার অনুমতি বা ভবনটি স্কুলের নামে দেয়া হয়নি।
বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় সাড়ে তিনশত মেয়ে শিক্ষার্থী আছেন। মাত্র ষাট টাকা বেতনে (তবুও বাধ্যতামূলকনয়)শিক্ষার্থীরা অধ্যায়ন করেন। যাদের অধিকাংশই এই এলাকার বিভিন্ন দোকান,কারখানা এবং শ্রমজীবীদের মেয়ে।ষষ্ঠ শ্রেণী হতে দশম শ্রেনীতে মানবিক,বিজ্ঞান এবং ব্যবসাশিক্ষা তিনটি বিষয়ে পাঠদান করা হয়।নদীর ওপার কেরানীগঞ্জ থেকেও প্রতিদিন নদী পার হয়ে মেয়েরা স্কুলটিতে আসেন।১৪ জন শিক্ষিক রয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানে। অত্যন্ত স্বল্প বেতনে শিক্ষকরা গরীব ঘরের মেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলোয়ে আলোকিত করার কাজটি করে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে সরকারের এনটিআরসিএ কর্তৃক বাংলা,অংক,বিজ্ঞান,ইংরেজি এবং আইসিটি এই পাঁচটি বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।এমপিও ভুক্ত এই শিক্ষাপ্রতিষ্প্রতিষ্ঠানটির ভুমি মালিকানার জটিলতার কারনে কয়েক শতাব্দীর পুরনো জরাজীর্ণ দ্বিতল ভবনে প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়া-লেখা করছেন এই বিদ্যালয়ে।ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় এই এলাকার আর্থিক সচ্ছল কোন পরিবারের সন্তানরা ভর্তি হন না এই স্কুলে।সমাজের অবহেলিত গরীব ঘরের সন্তানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্ঞান অর্জন করছেন পাশা-পাশি শিক্ষকরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন।নলগোলার এই আব্দুল হামিদ কালান্দার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের দৃঢ় বিশ্বাস বিংশশতাব্দীর নারী শিক্ষা জাগরনের নেত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতাই ঘুরে দাঁড়াতে পারে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড নলগোলার শাহ আব্দুল হামিদ কালান্দার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
Developed By Muktodhara Technology Limited