শিরোনাম
ঢাকা ব্যুরো | ০১:২৪, এপ্রিল ১১, ২০১৯
ঢাকার ডেমরার মাদ্রাসাছাত্র শিশু মনির হোসেনকে (৮) অপহরণের পর মসজিদের সিঁড়িতেই নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল হাদী। এমনই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।
আর এ খুনে সহায়তা করেন মো. আকরাম হোসেন ও আহাম্মদ সফি ওরফে তোহা নামে আরও দুজন।
মনিরকে হত্যার পর তার লাশ বস্তায় ভরে সিঁড়ির পাশে রেখে দেয়া হয়। মনিরকে হত্যার পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপন দাবি করেন খুনিরা।
ডিএমপি'র ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফরিদ উদ্দিন বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলেনে এ তথ্য সংবাদকর্মীদের অহিত করেন।
ডিসি ফরিদ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পাতলা তোয়ালে, দুটি সিমেন্টের বস্তা, দুটি কালো রংয়ের রশি, সিমকার্ডসহ একটি মোবাইল সেট,শিশু মনিরের পড়নে থাকা গ্যাবাডিংয়ের ফুল প্যান্ট ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়।যা এই হত্যা মামলার আলামত হিসেবে রাখা হবে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তার জানান।
মনিরের খুনিদের আটকের বর্ননা দিয়ে ফরিদ উদ্দীন বলেন, পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পরে প্রথমে আব্দুল জলিল হাদী ও আহাম্মদ সফি ওরফে তোহাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।পরে মঙ্গলবার তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এর পর তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বংশালের মালিটোলা থেকে অপর অভিযুক্ত মো. আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৭ এপ্রিল দুই বোনের সঙ্গে মাদ্রাসায় গেলে শিশু মনিরকে অপরহরন করা হয়।
সোমবার বিকালে ডেমরার বাঁশেরপুল ডগাইর এলাকার নূরে আয়েশা সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার নির্মাণাধীন মসজিদ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই মাদ্রাসার ছাত্র ও ডেমরার ডগাইর নতুনপাড়া এলাকার সামসু মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া মো. সাইদুল হকের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়িবি-বাড়িয়ার শরাইল থানার বিটগর গ্রামে।
মনিরের পিতা এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও ডেমরা থানা পুলিশ জানায়, রোববার সকাল ৭টায় মনিরুল যথারীতি মাদ্রাসায় যায়। তারপর থেকেই ছেলেটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় মৃতের পরিবার রোববার রাতে এলাকায় মাইকিং করেন। পরবর্তীতে ওই দিন রাত ৮টার দিকে মৃতের বাবার কাছে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে। এ সময় অপরহরণকারী মনিরুলের বাবার কাছে তার মুক্তিপণ হিসাবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা উক্ত মসজিদের খাটিয়ার নিচে রাখতে বলে অপহরণকারীরা।
এরপর রোববার রাত ২টার দিকে বাবা সাইদুল হক তার ভাইসহ নূরে আয়েশা সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার ইমামের কাছে ১ লাখ টাকা রেখে আসেন। এ সময় তারা ইমামের কাছে সব ঘটনা খুলে বলেন যাতে টাকা নেয়ার সময় ইমাম অপহরণকারীকে চিনতে পারেন। তখনও মনিরের পরিবার বুঝতে পারেনি তার ছেলের খুনির কাছেই টাকা দিয়ে যাচ্ছে।ওই রাতে আর অপহরণকারীরা টাকা নিতে আসেনি।
দু দিন গড়িয়ে যায় সোমবার বিকালে কালবৈশাখী ঝড়ের পর অপহরণকারীরা মনিরের বাবার মোবাইলে ফোন করে ছেলের লাশের খবর দেয়। থানা পুলিশ ওই মসজিদের দোতলার সিড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটির মুখ রক্তাক্ত ছিলো।
এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সোমবার সন্ধ্যার পরে এলাকার শত শত মানুষ শিশু মনিরুল ইসলাম হত্যায় খুনির ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের মর্গে মনিরের ময়নাতদন্ত করেন ডাঃনওশাদ মাহমুদ।তিনি বলেন,শিশুটির লাশে পচন ধরেছিলো।তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চয় হওয়া গেছে।তিনি শিশুটির হত্যাকান্ডকে মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেন।হত্যা ছাড়া তার উপর আরো কোন নির্যাতন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে কিছু পরীক্ষা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
Developed By Muktodhara Technology Limited