image

আজ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

আশার আলো জাগিয়েছে ঢাকার চারপাশে নদী দখলমুক্ত করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ

ইকবাল কবির, ব্যুরো চীফ (ঢাকা)    |    ১৭:৪৫, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

image

ঢাকা শহরের চারিদিকের নদীসমূহ টেকসইভাবে দখল-দূষণমুক্ত করণের লক্ষ্যে ২৯ জানুয়ারী  থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে   বুড়িগঙ্গা নদীর কামরাঙ্গীরচর-খোলামোরা এলাকা হতে শুরু হয়ে তুরাগ নদের কামারপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত এলাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তত্বাবধায়নে বিআইডব্লিউটিএ’র নেতৃত্বে পানি উন্নয়ণ বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। 

এ সময়ের মধ্যে ১৫৯ টি বহুতল ভবনসহ ৪৩৪ টি পাকা, ৫২০টি আধাপাকা, ২০২টি পাকা বাউন্ডারী ওয়াল ও অন্যান্য স্থাপনা মিলে সর্বমোট ৩ হাজার ১ শত ৭৫ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৮১ একর জায়গা। তীরভূমিতে অবৈধভাবে রক্ষিত কয়লা, পাথর, ইট ও ভরাটকৃত বালি/ মাটি প্রকাশ্য নিলাম দেয়া হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য চার  কোটি পাচ  লক্ষ ৭৮ হাজার টাকায়। জরিমানা করা  হয়েছে ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। 

মঙ্গলবার  সকাল ন'টা থেকে তুরাগ নদের টঙ্গী ব্রীজের নিকটবর্তী স্থান থেকে তৃতীয় পর্বের ৩য় পর্যায়ের ১ম কার্যদিবস অর্থাৎ ৩১-তম কার্যদিবসের অভিযান শুরু হবে বলে বিআইডব্লুটিএর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন।গত একমাসের অভিযানের নানা দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের উচ্ছেদ অভিযান অতীতের অভিযানগুলো থেকে অনেকটাই ভিন্ন মাত্রায় পরিচালিত হচ্ছে।দখলে-দূষণে মৃতপ্রায় নদীগুলোকে বাঁচাতে পূন:জরিপকৃত মানচিত্র অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক নদীর ফোরশোরের ( তীরভূমির ) উপর অবস্থিত সকল প্রকার অবৈধ স্থাপনাদি দলমত নির্বিশেষে, প্রভাব প্রতিপত্তি হুমকি ধুমকি উপেক্ষা করে নিরবিচ্ছিন্নভবে একনাগারে আড়াই মাসেরও বেশী সময় ধরে চলছে এই উচ্ছেদ অভিযান। এই অভিযান টেকসই করণসহ নদীর পাড়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোপূর্বে বস্তবায়িত ১ম পর্যায়ের ২২.৫ কি:মি ওয়াকওয়ে নির্মাণের পর এবার ৫২ কি: মি: ওয়াকওয়ে প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। তিনি এই প্রকল্পের নানা দিক তুলে ধরে  জানান,এ প্রকল্পের আওতায় ব্যাংক প্রোটেকশনসহ ৫২ কি: মি: ওয়াকওয়ে সহ ১০,৫০০ টি স্থায়ী আরসিসি সীমানা পিলার, নদীর তীরভূমি ভরাট না করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নৌ-বানিজ্য কর্মকান্ড পরিচালনার লক্ষ্যে ১৯ টি আরসিসি জেটি, ৩টি ইকোপার্ক নির্মাণ/ স্থাপনসহ নদীর পাড়ে বিপুল সংখ্যক বৃক্ষ রোপন করে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা ও নদীর পাড়ে বসে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বসার বেন্চ নির্মান করা হবে। চলমান অভিযানকালীন নদী ও তীরভূমি দখল দূষণের ভয়াবহতা সরেজমিন পর্যবেক্ষণের পর ভরাট- দখল এক্সেভেসনের মাধ্যমে অপসারণ করে নদীর প্রশস্ততা বৃদ্ধিসহ ড্রেজিং-এর মাধ্যমে চ্যানেলের গভীরতা বৃদ্ধির জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এ জন্য গৃহীত প্রকল্পের  আওতাক্ষেত্র ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীনে রয়েছে বলে জানান।তিনি বলেন এ ছাড়া বৃত্তাকার নৌপথের অবশিষ্ট অংশে একই বৈশিষ্ট্যে একই অবয়ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে অতি জরুরী ভিত্তিতে ৩য় পর্যায়ের ওয়াকওয়ে প্রকল্প গ্রহনের জন্য স্টাডি চলছে।

ইতোমধ্যে উচ্ছেদকৃত এলাকাগুলোতে বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর বড়বাজার, জহুরাবাদ, পালপাড়া, দিয়াবাডী এলাকায় উচ্ছেদ-উচ্ছিষ্ট মালামাল ( গার্বেজ) এক্সেভেটর দ্ধারা সরানোসহ নদী প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। বসিলায় আমিন-মোমিন হাউজিং কর্তৃক তুরাগের ৩ হাজার ফুট দৈর্ঘ ও ২৫০-৪০০ ফুট প্রস্থ তুরাগ নদের ভরাটকৃত চ্যানেলটি পূনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র দু’টো ড্রেজারসহ ১২ টি বেসরকারী এক্সেভেটর নিয়োজিত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভরাট পূর্বক প্লট করে বিক্রিত ও স্থাপনা নির্মিত চ্যানেলটি আশা করা যায় মে মাসের মধ্যে নৌযান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে তিনি জানান,নদীর জায়গা ভরাটকারী বসিলা হাউজিং,   আকাশ নীলা, অনির্বাণ, সিল্কসিটি, চন্দ্রিমা, ঢাকা উদ্যান সহ নদীর অংশ দখলকারী অন্যান্য হাউজিং-য়ের ক্ষেত্রেও অনুরুপ গ্রহন করা হবে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি  জানিয়েছেন।নদীর তীরভূমিত্ অবৈধভাবে গড়ে উঠা ধর্মীয়, শিক্ষা ও হাসপাতাল—এ ধরণের প্রতিষ্ঠান আপাতত: উচ্ছেদ অভিযানের আওতার বাইরে থাকলেও এগুলে অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় মসজিদের খতীব , হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দেশের খ্যাতনামা সকল ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে  নিয়ে কার্যকরী সমাধানের জন্য কাজ করছে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ।

স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত, পরিবেশ, শিল্প, বানিজ্য, স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয়সমূহ ও উক্ত মন্ত্রণালয় সমূহের অধিনস্ত বিআইডব্লিউটিএ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, সিটিকর্পোরেশন, ওয়াসা, রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সাথে নিয়ে ড্রেনেজ বর্জ্য ও স্যূয়েরেজ বর্জ্য যাতে বিনা পরিশোধণে এবং ইমারত মেরামত বর্জ্য ( রাবিশ), গৃহস্থলি বর্জ্য , ব্যবসায়িক বর্জ্য, হাসপাতাল বর্জ্য, শিল্প বর্জ্যসহ কোন ধরণের বর্জ্য যাতে নদীগর্ভ বা নদীর তীরভূমিতে না ফেলা হয়, নদীকে যেন ময়লা ফেলার আঁধার হিসেবে ব্যবহার করা বা ভাবা না হয় সে বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রোগ্রাম ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনসহ আধুনিক বৈজ্ঞানিক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করার কথা তিনি জানান। ব্যবসায়িক বর্জ্য ফেলে বুড়িগঙ্গা নদী ভরাট ও দূষণকরণ রোধসহ লন্চযাত্রী ও খেয়াযাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং বাঁকল্যান্ড বাঁধ রাস্তাটি যানজট মুক্তকরণের লক্ষ্যে বাদামতলী ফলের আড়ৎ ও শ্যামবাজার সবজির বাজার অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। 

পুরো অভিযানটি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও নৌপরিবহন সচিব, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ, পরিচালক ( বন্দর)  সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন বলে তিনি জানান।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

০১:১৭, মে ১৪, ২০২২

বাঁশখালী ইউপি নির্বাচনে নৌকায় শেষ হাসি যাঁদের


Los Angeles

০০:৩০, মে ১৪, ২০২২

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ঘেষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া


Los Angeles

১৬:২৬, অক্টোবর ১৬, ২০২১

বীর নিবাস পাচ্ছেন বাঁশখালীর ১০ মুক্তিযোদ্ধা


Los Angeles

২০:৩৩, অক্টোবর ১৩, ২০২১

তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বিপাকে বাঁশখালীর এক দরিদ্র পরিবার


Los Angeles

১১:২৪, অক্টোবর ১০, ২০২১

সীতাকুন্ড ইউপি নির্বাচন : নৌকা দাবি ৪৩জনের


Los Angeles

২০:১৯, অক্টোবর ৮, ২০২১

আবিষ্কারের বিস্ময় বালক বাঁশখালীর আশির, প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা


Los Angeles

২১:৩৮, অক্টোবর ৭, ২০২১

করোনাকালে বাল্যবিয়ে : পড়ালেখায় ইতি টেনে অনেক কিশোরী এখন পুরোদস্তুর সংসারী


image
image