শিরোনাম
জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ারা সংবাদদাতা | ১৩:০৯, মে ৯, ২০১৯
দুই যুগেও পূর্ণাঙ্গ রুপ পায়নি চট্টগ্রামের আনোয়ারা- বরকল ব্রীজ। এক বছরের জন্য নির্মিত অস্থায়ী বেইলি ব্রীজ চলছে ২৫ বছর। এতে করে চলাচলে যেমনি বাড়ছে ঝুঁকি, জনমনে তেমনি বাড়ছে ক্ষোভ।
সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার সাথে আনোয়ারা উপজেলার সংযোগ সেতু বরকল বেইলি ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছরেও বেইলি ব্রীজটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়নি সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল চন্দনাইশ উপজেলা ও আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সেতু নামে পরিচিত বরকল বেইলি ব্রীজটি। ৩৬৫ ফুট দীর্ঘ, ১২ ফুট প্রস্থ বেইলি ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল ৯৪ সালে। ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও ব্রিজটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।
চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক বাস-ট্রাক, শত শত সিএনজিচালিত ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার, মাইক্রো, নোহা, ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের সারভর্তি ট্রাক ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। বর্তমানে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে। তিনটি স্পেনের সংযোগস্থানে স্পেনগুলি সরে গিয়ে মাঝখানের লোহা ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে নির্মিত এ বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। বরকল বেইলী ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের বেইলী ব্রীজগুলি এক থেকে দেড় বছরের জন্য অস্থায়ীভবে নির্মাণ করা হয়, পূর্ণাঙ্গ ব্রীজ না হওয়া পর্যন্ত। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে এ ধরনের বেইলী ব্রীজগুলি করা হয় বলে তারা জানান। বর্তমানে বরকলের এ বেইলী ব্রীজটি সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণভাবে রয়েছে।
সংযোগ স্থানে স্প্যানগুলি সরে গিয়ে মধ্যখানের লোহার বারটি ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে গাড়ী চলাচলের সময় গাড়ীর টায়ার সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে বলে দাবী করেছেন গাড়ীর চালকেরা। এ ধরনের ব্রীজের উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ টন ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে ব্রীজটির উপর দিয়ে ঝুকিপূর্ণভাবে এর চেয়েও অধিক ওজনের মালামালবাহী ট্রাক চলাচল করছে অবাধে। তাই যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
এলাকাবাসীর দাবী চন্দনাইশ ও আনোয়ারা উপজেলার সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র এ বরকল ব্রীজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রীজে রূপ নিয়ে মহাজোট সরকারের প্রতিশ্রæতি জনবান্ধব সরকার হিসেবে ব্রীজটি নির্মাণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
বর্তমানে এ বেইলী ব্রীজটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ায়, মেরামত তথা পূর্ণাঙ্গ ব্রীজে রূপ দেয়া অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
২০১৬ সালের প্রথম দিকে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সরজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে ব্রীজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রীজে রূপ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও সে প্রতিশ্রæতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসী অনেকটা হতাশ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের চট্টগ্রামের (দক্ষিণ)উপসহকারী প্রকৌশলী তাহসিনা বিনতে ইসলাম বলেন,আনোয়ারা-বরকল বেইলী ব্রীজটি বর্তমানে ঝুকি পূর্ণ অবস্তায় অছে। এই ব্রীজের জন্য মন্ত্রনালয় থেকে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই নতুন ভাবে ব্রীজ নির্মানের কাজ শুরু হবে।
Developed By Muktodhara Technology Limited