শিরোনাম
মুহাম্মদ জুবাইর, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা | ২৩:৩২, মে ১৪, ২০১৯
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উখিয়া-টেকনাফে সীমান্তের চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কতিপয় ইয়াবা কারবারীর স্বেচ্চায় আত্বসমর্পন ও কথিত বন্দুক যুদ্ধে শতাধিক মাদককারাবরীসহ মানব পাচারকারী নিহত হবার পরও মিয়ানমার থেকে থেমে থেমে আসছে মরন নেশা ইয়াবা।
একাধিকসুত্র জানায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান করে। তারা মাদক, মানব পাচারও খুনখারাবি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ জগতে জড়িত হয়ে পড়ে। সরকার মাদক, মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের বিরোদ্ধে জিরোট্রলারেন্স ঘোষনা করলেও এখনো নিয়ন্ত্রণহীন। এর নেপত্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা নেটওয়ার্ক। বহির্বিশ্বে বসে রোহিঙ্গা নেতারা কলকাড়ি নাড়াচ্ছে। সে সাথে যোগদিয়েছে কতিপয় মানবতাবাদী এনজিও সংস্থা।
সুত্র আরো জানায় ঈদকে সামনে রেখে প্রশাসনের ব্যস্থতার ফাকে ইয়ারাবার বড় ধরনের চালান প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্চে। এছাড়া মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বিজিপি ও আশ্রিত রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট সমন্বয়ে একটি বিশালাকারের ইয়াবার চালান মওজুদ রাখছে বলে ও গুঞ্জন শুনা যায়। অতি সম্প্রতি আইনশৃংখা বাহিনীর পৃথক অভিযানে একাধিক রোহিঙ্গা মাদক ও মানবপাচারকারী আটক এবং বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এর পরও কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দেশীয় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের দাবী হচ্ছে এসব অপকর্মের সাথে জড়িত মৎসজীবি জেলেরা । এ অভিযোগে দীর্ঘ ২বছর নাফনদীতে মৎস আহরণ বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। এরপরও মিয়ানমার থেকে থেমে আসছে মাদক মরন নেশা ইয়াবা।
নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও উখিয়া কুতুপালং সীমান্ত এলাকার স্থল ও নৌপথ দিয়ে মিয়ানমার থেকে নব্য কৌশলে ইয়াবার চালান সরাসরি এনে আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যম্পে মওজুদ রাখছে। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাকি দিয়ে পর্যায়ক্রমে অভিনব কৌশলে বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অরদিকে আত্বসমর্পণ কারী ও বন্দুক যুদ্ধে নিহতদের কৌশলে পর্দারঅন্তরালে থাকা সাধু বেশে নাফনদীর আলোচিত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এসব চিহ্নিত চোরাই পয়েন্টগুলোতে প্রযুক্তিগত অধুনিকায়ন করে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানোর জন্য সচেতন মহল যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছেন। অন্যথায় সীমান্তে চোরাকারবারী ও মাদক, মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব হবেনা বলে ও মন্তব্য করেছেন তারা। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে ঈদ মৌসুমের প্রাক্কালে নাফনদীতে চোরাচালান বিরোধী জলযান তৎপরতা নিতান্ত প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন। তারা আরো মনে করেন যে সবধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে কাঁটা তারের ঘেরা ও চিহ্নিত পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা প্রয়োজন। এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং রুখতে হলে অবিলম্বে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরোদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে বলে সীমান্তের সূশীল সমাজের দাবী। কেননা, মাদকের বিপরীত টেকনাফ সীমান্ত থেকে প্রতি মাসে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এজন্য হুন্ডিই একমাত্র দায়ী ।
টেকনাফ ২বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেঃ ফায়সাল খান বলেন সীমান্তে চোরাচালানসহ যে কোন অপরাধ দমনে অতন্দ্রপ্রহরী বিজিবি জওয়ানরা সদা প্রস্তুত। যে কোন মুল্যে সরকারের জিরো ট্রলারেন্সনীতি বাস্তবায়ন করতে দেশ ও জাতির স্বার্থে নিরলস ভাবে কাজ করে যাবো।
Developed By Muktodhara Technology Limited