শিরোনাম
ঢাকা ব্যুরো | ১৮:৫৮, জুলাই ৭, ২০১৯
রাজধানীর ওয়ারীতে নিষ্পাপ শিশু সাদিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছে একই ফ্লাটের ভাড়াটিয়া রং এর দোকান কর্মচারী হারুন অর রশিদ। সে ওই ফ্লাটের ৮ তলায় তার খালাতো ভাই পারভেজের সঙ্গে থাকতো। সায়মাকে খুনের পর থেকে সে পালাতক ছিলো।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন শিশু সায়মার খুনিকে আটকের বিবরণ দেন ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংএর মাধ্যমে।
রোববার দুপুরে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত কুরুচির পরিচায়ক; মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত ধর্ষণের পর এ অপরাধ থেকে নিজেকে বাঁচতে হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটিয়েছে ঘাতক হারুন।’
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামের স্কুলছাত্রী সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে ৮ তলার লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায় হারুন অর রশিদ। সেখানে ৯ তলার নির্মাণাধীন নির্জন ফ্ল্যাটে সায়মাকে ধর্ষণ করে। হারুনের পাশবিকতার শিকারে শিশু সায়মা দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। হারুণ তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে সায়মার গলায় রশি পেচিয়ে তাতে হত্যা করে লাশ টেনে রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায়।
আব্দুল বাতেন বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন মাকে বলে শিশু সায়মা ৮তলায় যায়। সেখানে ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি বাচ্চা আছে তার সঙ্গে খেলা করতে। সেখানে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায় তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে খেলতে যাবে না। এরপর সায়মা সেখান থেকে ঘরে ফেরার জন্য লিফটে ওঠে এসময় লিফটেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুণের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে সায়মাকে সে মুখ চেপে ধর্ষণ করে যাতে সায়মা চিৎকার করতে না পারে। পরে সায়মার নিস্তেজ দেহের গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করে টেনে নিয়ে যায় রান্না ঘরে। সেখানে সিঙ্কের নিচে রাখে। এরপর সেখান থেকে সোজা গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকায় পালিয়ে যায় হারুণ।’
আব্দুল বাতেন বলেন, ‘হারুণ পারভেজের খালাতো ভাই। পারভেজের বাসায় গত দুইমাস ধরে আছে।তার রঙয়ের দোকানে কাজ করতো এই ফ্লাটের ৮ম তলায় খালাতো ভাই এর সঙ্গে।
আব্দুল বাতেন আরো বলেন, ‘হারুণকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজই আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে।’
পাচ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নবনির্মিত ভবনটির ৯তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মার মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ভবনের ছয়তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সায়মা। বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলো সায়মা। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিলো।রোববার সকালে সায়মার সহপাঠী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সায়মার খুনি ফাঁসি দাবি করে মানববন্ধন করেছে।
ঢাকার ওয়ারীতে খুন হওয়া শিশু সায়মার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন : ধর্ষণের আলামত মিলেছে
রাজধানীর ওয়ারীতে শিশু সায়মা’র লাশ উদ্ধার
Developed By Muktodhara Technology Limited