image

আজ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬ ইং

একাদশ সংসদ র্নিবাচন

ফটিকছড়িতে আওয়ামলীগে কোন্দল চরমে : ভরসা নবীনদের প্রতি

রাজীব রাহুল, বিশেষ প্রতিবেদক    |    ১৭:১৬, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

image

আওয়ামীলীগের সম্ভ্যাব্য প্রার্থীরা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উপজেলার দুই পৌরসভা ও ১৮ ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-২ আসন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এখান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি বিজয় অর্জন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের বিএনপিবিহীন নির্বাচনে তরিকত ফেডারেশন এ আসন থেকে আওয়ামী জোটের মনোনয়ন পায়। বর্তমানে এখানকার সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

১৯৯১ সালে ফটিকছড়ি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী জয়ী হন।১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের তৎকালীন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক রফিকুল আনোয়ারকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে রফিকুল আনোয়ার জয়ী হন এবং নজিবুল বশর দু’বারই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি থেকে নির্বাচন করেন এবং রফিকুল আনোয়ারের কাছে হেরে যান। ২০০১ পরবর্তী রাজনৈতিক পটভুমিতে নজিবুল বশর তরিকত ফেডারেশন গঠন করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধেন এবং মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন।

এ আসনে আওয়ামী লীগ একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। উত্তর জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম পেয়ারুল ইসলাম এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন এবং যুদ্ধাপরাধী দায়ে ফাঁসির দন্ডে দন্ডিত সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে ভালো ব্যবধানে হেরে যান। এবারও মনোনয়ন চাইবেন এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। বর্তমানে তার সঙ্গে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান প্রভাবশালী মন্ত্রীর সাথে দ্বন্ধ রয়েছে, যার কারণে তিনি ব্যর্থ হতে পারেন। এছাড়াও ২০০৮ এর নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে জয়ী হতে পারেননি, যেটা আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড খুব গভীর ভাবেই ভাবছেন, তদুপরি গত দশ বছরেও তিনি উপজেলা জুড়ে তার গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে পারেননি, বরং বিভিন্ন কারণে ক্ষেত্র বিশেষে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আফতাব উদ্দীন চৌধুরী মনোনয়ন চাইলেও বয়সের কারণে তিনি বঞ্চিত হতে পারেন। গত নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের কন্যা খাদিজাতুল আনোয়ার সনি দলের মনোনয়ন পেলেও এক সপ্তাহ পরে শরীক দল হিসেবে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন নিয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনির সাথে তার চাচা জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল আনোয়ারের চরম বিরোধ দেখা দেয়। আবারো পুনরায় মনোনয়ন চাইবেন চাচা-ভাতিজী দুজনেই। বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামীন আসন গুলোতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম এর মতো রক্ষণশীল এলাকায় সরাসরি নির্বাচনে একজন নারী খুব একটা মনোনয়ন পাননি এবং পেলেও নির্বাচিত হওয়ার উদাহরণ তেমন নেই। তাই সনির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টিও কিছুটা কঠিন হবে বলে দল সংশ্লিষ্টদের অভিমত। কারণ একই পরিবার থেকে তার চাচাও প্রার্থী। তাই পারিবারীক ও রাজনৈতিক কোন্দল এড়াতে হয়ত শেষ পর্যন্ত এ দুজনকেও মনোনয়ন বঞ্চিত থাকতে হতে পারে।

এখানে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ষাটের দশকের প্রবীন রাজনীতিক আলহাজ তৌহিদুল আলম চৌধুরীর দ্রৌহিত্র ও ৮০ দশকের উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ও পাইন্দং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল পাশা চৌধুরীর সন্তান তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ স্বচ্ছ রাজনীতিক ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদ মুহাম্মদ ফয়সাল কামাল চৌধুরীও মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন। ৯০ দশকের মাঝা মাঝি ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া এ নেতা পরবর্তীকালে উচ্চ শিক্ষা শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়ান খুব অল্প বয়সেই। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি চর্চার সাথে সাথে প্রায় এক যুগ ধরে ঢাকা কেদ্রীক গবেষণা সংগঠন বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রের কার্যনির্বাহী সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা ট্রাস্ট মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্য সচিব ও স্বাধীনতা পরবর্তী গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অত্যন্ত সুনামের সাথে পালন করছেন। একমাত্র তিনিই গ্রুপিং রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পেরেছেন এবং বিগত ১০-১২ বছর যাবত নানামুখি সামাজিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও গঠনমুলক আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে ফটিকছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও ফটিকছড়ির দুই অংশ উত্তর ও দক্ষিন ফটিকছড়ি বিবেচনায় নিয়ে উত্তর ফটিকছড়ি থেকে ড.ফয়সাল কামাল একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী। পরিসংখ্যানে ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনের মোট ভোটের মধ্যে প্রায় দুই তৃতীয়াংশ উত্তর ফটিকছড়ির।

১৯৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় বিদ্যালয়ের চেয়ে মাদ্রাসা বেশি। পাঁচটি কলেজ, দুটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ১৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নয়টি বালিকা বিদ্যালয় ও চারটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি রয়েছে ৪১টি কামিল, আলিম এবং দাখিল মাদ্রাসা, ৩০০টি ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসা। এমন রক্ষণশীল এলাকায় জাতীয় পর্যায়ের নেত্রী ছাড়া স্থানীয় নারী প্রার্থী জয়ী হতে অনেক বেগ পেতে হবে বলেও ধারণা স্থানীয় জনসাধারণের। সব শেষে নৌকা প্রতীকের ভাগ্য কার কপালে জোটে এটা জানতে আমাদের আরো কিছু দিন অপেক্ষা করা লাগবে।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

০১:১৭, মে ১৪, ২০২২

বাঁশখালী ইউপি নির্বাচনে নৌকায় শেষ হাসি যাঁদের


Los Angeles

০০:৩০, মে ১৪, ২০২২

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ঘেষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া


Los Angeles

১৬:২৬, অক্টোবর ১৬, ২০২১

বীর নিবাস পাচ্ছেন বাঁশখালীর ১০ মুক্তিযোদ্ধা


Los Angeles

২০:৩৩, অক্টোবর ১৩, ২০২১

তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বিপাকে বাঁশখালীর এক দরিদ্র পরিবার


Los Angeles

১১:২৪, অক্টোবর ১০, ২০২১

সীতাকুন্ড ইউপি নির্বাচন : নৌকা দাবি ৪৩জনের


Los Angeles

২০:১৯, অক্টোবর ৮, ২০২১

আবিষ্কারের বিস্ময় বালক বাঁশখালীর আশির, প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা


Los Angeles

২১:৩৮, অক্টোবর ৭, ২০২১

করোনাকালে বাল্যবিয়ে : পড়ালেখায় ইতি টেনে অনেক কিশোরী এখন পুরোদস্তুর সংসারী


image
image