শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮:০৭, নভেম্বর ২০, ২০১৯
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে। এই বিদ্যালয়টি সরকারি হলেও এর ভিতরে প্রবেশ করলে চমকে যাবেন যে কেউ। পরীক্ষার হল পরিদর্শনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবনের ছাদ যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে। একটি ঝুঁকিপুর্ণ ভবনে নিয়মিত ক্লাশ চলে। চলতি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে উক্ত জরাজীর্ণ ভবনেই নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্ধশত বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে জরাজীর্ণ প্রায়। আমরা প্রতি বছর মেরামত করে কক্ষ গুলোকে উপযোগী করছি। পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ার কারণে ধাপে ধাপে ৮ টি রুমের মেরামত কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে ৫৫ লক্ষ টাকা কাজের মাধ্যমে একাডেমিক ভবন নতুন করে মেরামত করা হচ্ছে। বাকী কক্ষগুলো প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শেষ হলে মেরামত করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঝুঁকিপুর্ণ ভবন হিসেবে এটিকে চিহিৃত করেছেন।
একনেকে দশ তলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পুরাতন হোস্টেল ভবন ভেঙ্গে টেন্ডার আহ্বান এর মাধ্যমে করা হবে। টেন্ডার হলে ২/৩ বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা রাখি।
বিদ্যালয়ের ২২০০ ছাত্রদের ২ শিফটের মাধ্যমে এই ঝুঁকিপুর্ণ ভবনে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। তবে আমাদের সংস্কার কাজ ৩/৪ মাসের মধ্যে শেষ হলে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব বলে মনে করি।
বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেওয়াল বহুদিন যাবৎ ভেঙ্গে পড়ে আছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে বাজেটের জন্য আবেদন করা হয়েছে বাজেট আসলে পূনরায় নির্মাণ করা হবে।
এই জরাজীর্ণ ভবনের ঝুঁকিপুর্ণ কক্ষগুলোতেই নেওয়া হচ্ছে কোমল মতি শিশুদের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা। মোট ১১২৫ জন ছাত্র ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় দিন ৫০ জন ছাত্র ছাত্রী অনুপস্থিত ছিল তৎমধ্যে ৩৯ জন প্রাথমিক ও ১১ জন এবতেদায়ীর পরীক্ষার্থী বলে তিনি জানান।
এই বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপুর্ণ হিসেবে আপনি স্বীকার করেন কিনা প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা একবাক্যে স্বীকার করেন।
এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ যতদ্রুত সম্ভব শুরু করা যায় ততই শিক্ষক ও হাজার হাজার ছাত্র জন্য শুভ বলে মনে করেন। বাংলাদেশে দূর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেয়ার সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে আগেই তা থেকে পরিত্রাণের জন্য সংস্কার কাজ জরুরী বলে তাদের অভিমত।
Developed By Muktodhara Technology Limited