শিরোনাম
জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ারা সংবাদদাতা | ১১:৪৪, নভেম্বর ২৪, ২০১৯
চট্টগ্রামের আনোয়ারার পরৈকোড়া জমিদার যোগেশ চন্দ্র রায় বাহাদুরের বাড়ির তখনকার সুরম্য দালানগুলো ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। রাতের আঁধারে চুরি ও নষ্ট হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান জিনিস-পত্র। বর্তমানে তাদের স্থাবর সম্পত্তিগুলো দখল করতে এক শ্রেনীর কিছু মানুষ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নে তৎকালে ছিল ৯ জন বড় বড় জমিদার। তাদের মধ্যে যোগেস চন্দ্র রায় বাহাদুর ও প্রসন্ন কুমার ছিলেন অন্যতম। পুরো চট্টগ্রামে ছিল তাদের জমিদারির বিস্তৃতি। একসময় যখন দেশের কোথাও বিদ্যুৎ ছিলনা তখন এই পরৈকোড়াতেই জমিদার প্রসন্ন কুমারের বাড়িতে জেনারেটরের সাহায্যে জলত বৈদ্যুতিক বাতি। প্রজাবৎসল হিসেবে এসব জমিদারের ছিল সুখ্যাতি। প্রজাদের সুবিধার্তে এ ইউনিয়নে খনন করেছিলেন তারা অসংখ্য দিঘী, নির্মাণ করেছিলেন হাট-বাজার, ব্রীজ- কালভার্ট ,রাস্তা-ঘাট, বিদ্যালয়সহ অনেক কিছু। আজ সেইসব স্থাপনা আর কীর্তি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে বসেছে।
জানা যায়, বৈদ্য বংশের প্রখ্যাত জমিদার যোগেশ চন্দ্র রায়ের পূর্ব পুরুষ ছিলেন দেওয়ান বৈদ্য নাথ। ১৬শ শতকে এদের জমিদারীর গোড়াপত্তন। তার দুইটি জমিদারি, বহু হাট-বাজার, দিঘী আজো কীর্তি হয়ে আছে। চট্টগ্রামের দেওয়ান বাজার , দেওয়ানজী পুকুর পাড়, দেওয়ান হাট আজো তার নামের সাক্ষী বহন করে। তার পুত্র জমিদার হরচন্দ্র রায়ের দত্তক পুত্র ছিলেন, গিরিশ চন্দ্র রায়। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি মারা গেলে তার স্ত্রী নয়নতারা রাউজান উপজেলার কৈলাশচন্দ্র চৌধুরীর ৮ বছরের পুত্র যোড়সাকে দত্তক নিয়ে তার নাম রাখেন যোগেষ চন্দ্র রায়। ১৮৯০ সালের ১৪ জুলাই নয়নতারা মৃত্যুবরণ করলে জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তিনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী, প্রজা বৎসল এক জমিদার। সাধারন মানুষের কথা বিবেচনা করে পরৈকোড়া ইউনিয়নে তিনি যাতায়াতের সুবিধার্তে মুরালি খালের উপর নির্মাণ করেন একটি প্রশস্থ ব্রীজ। প্রতিষ্ঠা করেন লালানগর বাজার। মানুষের চিঠিপত্র আদান প্রদানের জন্য নির্মাণ করেন পোষ্ট অফিসও। তাছাড়া এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বহু পাকা সড়ক ও নির্মাণ করেন একটি হাসপাতাল।
সরেজমিন দেখা যায়, জমিদার বাড়ির তখনকার সুরম্য দালানগুলো ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। চুরি ও নষ্ট হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান জিনিস-পত্র। বর্তমানে তাদের স্থাবর সম্পত্তিগুলো দখল করতে এক শ্রেনীর কিছু মানুষ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
যোগেশ চন্দ্র রায় বাহাদুরের মূল ভিটার ২২ একর জায়গা ও দুটি দীঘি তাদের সর্বশেষ বংশধর ড. গুরুপদ চক্রবর্তী একটি ট্রাস্টের নামে দান করে দেন। সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন এই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। বর্তমানে এই ট্রাস্টের মাধ্যমে সেখানে একটি কারিগরী কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল জমিদার বাড়ির এসব সম্পদ ও কীর্তি সংরক্ষণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
যোগেশ চন্দ্র কারিগরি কলেজের প্রিন্সিপাল সুধীর চক্রবর্তী বলেন, পুরো এলাকাটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা যায়; যদি সরকারী বেসরকারী সং¯িøষ্ট মহল উদ্যোগী হয়। যেমনটি রাউজান শ্রী কুন্ডেশ্বরীকে করা হয়েছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন আনোয়ারার এ জমিদার বাড়িটি সত্যি গৌরব বহন করে। উপজেলায় থাকা এরকম অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যেগ নেয়া হবে।
Developed By Muktodhara Technology Limited