শিরোনাম
বোয়ালখালী সংবাদদাতা | ১৭:০৬, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
কিছুদিন আগে বন্যহাতির আক্রমনে বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল, সৈয়দনগর, শ্রীপুর এলাকার ৩ জনের প্রাণহানি হয়েছিল এবং নষ্ট করেছিল ফসল, গাছপালাসহ ঘরবাড়ি। আবারো বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর ও পূর্ব খরনদ্বীপ এলাকায় বন্যহাতি লোকালয়ে প্রতিরাতে আনাগোনা করছে, ফলে জনমনে তৈরী হয়েছে হাতী আতঙ্ক।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে পাহাড় থেকে ২টা বন্যহাতী এসেছে বলে জানান, শ্রীপুর ইউনিয়নের জৈষ্ঠ্যপুরা এলাকার চৌধুরী পাড়া ও সরকার পাড়ার লোকজন।
তারা জানান, আগে যখন এসেছিল তখন একসাথে ৯টি বন্যহাতী ছিল। এখন মামুরা (হাতীরা) প্রতিরাতে কখনো ৩টা কখনো, ৪টা এবং কখনো সকালে চলে আসে লোকালয়ে ।
প্রত্যক্ষদর্শী নিলু দে জানান, আজকে আনুমানিক দুপুর ২টার সময় আমাদের জমিনের ধান ক্ষেতে ২টা হাতি দেখতে পাই। তখন এলাকাবাসী সবই একত্রিত হয়ে ঢোল আর ঘন্টা বাজিয়ে সামনের দিকে গেলে হাতীগুলো দৌড়তে থাকে। কিন্তু পাহাড়ের নিচে সমতল জঙ্গলে ঢুকে পড়লে আমরা জমিনে এসে বসে থাকি। কিছুক্ষণ পর পর তাদের বিকট শব্দ শুনতে পাই। এই মামুগলো আমার ২ বিঘা জমির সব ধান খেয়ে ফেলেছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক উজ্জ্বল দে জানান, প্রতিদিন আমরা বন্যহাতী আতঙ্কে ভুগছি। আমি জমিতে চাষ করতে আসলে, আমার স্ত্রী আমার সাথে জমিনে বসে থাকে আর আমাকে পাহাড়া দেয়, যেন বন্যহাতী আসলে আমি সজাগ থাকি। আসলে আমরা অনেক কষ্টে আছি, মামুরা (হাতীরা) প্রতিদিন নামছে আর আমরা ঢোল,ঘন্টা বাঁজিয়ে তাদের আবার পাহাড়ে পাঠাই। আমরা গরীব মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের ফসলগুলো এমনিতে আগে নষ্ট করেছে বাকি যা আছে তা যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে কিভাবে পরিবার নিয়ে চলবো? তাছাড়া মামুদের (হাতীদের) বসবাসের স্থানে একশ্রেণীর লোকজন লেবুসহ বিভিন্ন চাষ করছে। ফলে মামুরা (হাতীরা) থাকতে পারছে না। কারণ তারা খাওয়ার সংকটে আছে। পাহাড়ের বন জঙ্গল কেটে ফেলেছে বিধায় মামুরা (হাতিরা) এখানে চলে এসেছে। আর পাহাড়ে আগুন দিয়ে পরিস্কার করায় মামুরা লোকালয়ে চলে আসে। বর্তমানে আমরা আতঙ্কের মধ্যে জীবন যাপন করছি।
প্রত্যক্ষদর্শী বিসু দে জানান, গত রাতে সরকার বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর করেছে মামু হাতীরা। আমরা ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব ভয়ে রাত যাপন করছি। এই পাড়ার নারী পুরুষ, শিশু বৃদ্ধরা ঘর ছেড়ে বাহিরে থাকতে হয়েছে।
স্থানীয় আরো কিছু লোকজনের সাথে কথা বললে তারা একইভাবে জানান, আমরা বন্যহাতীর আক্রমণেরর ভয়ে ভুগছি। প্রসাশনিক বা বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্তৃক কোন ভুমিকা দেখছি না। আমরা যদি সারা রাত জেগে হাতী পাহারা দিই তাহলে সকালে বা দিনে আমরা আমাদের কর্মগুলো কিভাবে করবো? তাছাড়া আমাদের ক্ষয়ক্ষতি হওয়া জিনিসগুলোর তো কোন ক্ষতিপূরণ করেনি সরকারীভাবে। তাই এলাকাবাসী এই হাতী আতঙ্ক থেকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,বনবিভাগসহ সকল সরকারী কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা যেন এই হাতীগুলোকে গহীন জঙ্গলে পূর্নবাসন করে দেন। তাহলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাবো।
Developed By Muktodhara Technology Limited