image

আজ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬ ইং

ত্রুটিযুক্ত স্লুইচ গেইট : বাঁশখালীর ৩ হাজার কৃষকের বোরো চাষ অনিশ্চিত

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী সংবাদদাতা    |    ০০:৩২, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

image

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন বিনোদন স্পট বাঁশখালী ইকোপার্ক। একই সঙ্গে পার্কটি উপজেলার কৃষি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাইলফলক হিসেবে শিলকুপ, চাম্বল, জলদীসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চাষাবাদে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। 

এ পার্কের বাম ও ডানের ছড়া লেকের পানি ব্যবহার করে হাজারো চাষি মৌসুমি ফলের চাষাবাদসহ বোরো ধান চাষ করত। ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে ৫০ একর জায়গা নিয়ে ডানের ছড়া এবং ২০০০-০১ অর্থ বছরে ১শ একর জায়গা নিয়ে বামের ছড়া সেচ প্রকল্প তৈরি হয়। সেচ প্রকল্প দিয়ে উপজেলার জলদী, শীলকুপ ও চাম্বল ইউনিয়নের সুবিধাভোগী ৩ হাজারের অধিক কৃষক ২ হাজার একর জমিতে বোরো ও রবি শস্যের চাষ করে সুবিধা ভোগ করে আসছিল। 

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে বাঁশখালী ইকোপার্ক নির্মাণের পর থেকে প্রতি বছর হাজারো পর্যটক এসে ভিড় জমাত। তবে, ২০০৮ সালে আগস্ট মাসে প্রলয়ঙ্করী এক বন্যায় বামের ছড়া লেকের বাঁধ ভেঙে বাঁশখালী ইকোপার্কের বেশ কিছু স্থাপনা বিলীন করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়ে উপজেলার উপকারভোগী কৃষকের চাষাবাদ। 

২০০৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় বামের ছড়া লেকের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উপজেলার ওই পার্কের আওতায় উপকারভোগী চাষিদের ২৮ ব্লকে বিভক্ত ৩ হাজার কানি জমির বোরো চাষসহ রবি-শস্যের মৌসুমি ফসলের চাষাবাদে নেমে আসে বিপর্যয়। দীর্ঘ এক যুগ ধরে বোরো চাষ থেকে বঞ্চিত উপকারভোগী চাষিরা। 

বাম ও ডানের ছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. সাহাদাত হোসেন আজগর জানান, বামের ছড়া ও ডানের ছড়া লেকের পানিতে এ অঞ্চলের চাষাবাদ নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত পানির অভাবে আমাদের সমিতির অন্তর্ভুক্ত উপকারভোগীর চাষিদের অনেক জমি অনাবাদী হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ ১২ বছর অতিক্রম হলেও লেকের পানি দিয়ে চাষাবাদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত সাধারণ চাষিরা। 

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইকোপার্কের বামের ছড়া লেকের সংস্কার কাজের সমাপ্ত করা হলেও নির্মিত স্লুইস গেইটের ত্রুটিজনিত কারণে চলতি মৌসুমেও পানি পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। 

সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. বদিউল আলম জানান, বামের ছড়া লেকের বাঁধ নির্মাণে প্রায়ই সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও আজ পর্যন্তও সুফল মেলেনি। 

তিনি অভিযোগ করে বলে, উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকিতে বাঁধ নির্মাণের কাজ করেন কন্ট্রাক্টর আবুল বশর। তিনি কাজের সমাপ্তির আগেই বিল তুলে নেন। এ দিকে স্লুইস গেইটে ব্যবহৃত লোহার নরম পাত ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণে গেইটের ওঠা-নামা করা যাচ্ছে না। এটি মেরামত করা না হলে চলতি বোরো মৌসুমেও হাজারো চাষিরা বঞ্চিত হবে বোরো চাষ থেকে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম ভূইঞা জানান, প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ডানের ছড়া লেকের ওপর বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে কাজটি সমাপ্ত হয়েছে। স্লুইস গেইটের নিচে মাটি জমে যাওয়ায় গেইটটি ওঠা-নামা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ব্যবহৃত পাতের সমস্যা ও সংযোগ লোহার চেইনের যে ত্রুটি হয়েছে তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই মেরামত করা হবে। 

তিনি আরও জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ওই লেকের আওতাভুক্ত উপকারভোগী চাষিরা পর্যাপ্ত পানি পাবে। 



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

০১:১৭, মে ১৪, ২০২২

বাঁশখালী ইউপি নির্বাচনে নৌকায় শেষ হাসি যাঁদের


Los Angeles

০০:৩০, মে ১৪, ২০২২

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ঘেষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া


Los Angeles

১৬:২৬, অক্টোবর ১৬, ২০২১

বীর নিবাস পাচ্ছেন বাঁশখালীর ১০ মুক্তিযোদ্ধা


Los Angeles

২০:৩৩, অক্টোবর ১৩, ২০২১

তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বিপাকে বাঁশখালীর এক দরিদ্র পরিবার


Los Angeles

১১:২৪, অক্টোবর ১০, ২০২১

সীতাকুন্ড ইউপি নির্বাচন : নৌকা দাবি ৪৩জনের


Los Angeles

২০:১৯, অক্টোবর ৮, ২০২১

আবিষ্কারের বিস্ময় বালক বাঁশখালীর আশির, প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা


Los Angeles

২১:৩৮, অক্টোবর ৭, ২০২১

করোনাকালে বাল্যবিয়ে : পড়ালেখায় ইতি টেনে অনেক কিশোরী এখন পুরোদস্তুর সংসারী


image
image